পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ায় ক্ষোভ, সাইকেলেই মনোনয়ন জমা কংগ্রেস প্রার্থীদের

রানীগঞ্জ কেন্দ্রের প্রার্থী ফাইয়াজ আহমেদ বলেন, “আমাদের এই সাইকেল যাত্রার উদ্দেশ্য মানুষকে সচেতন করা। আমরা চাই, মানুষ বুঝুক কীভাবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তাদের জীবনে প্রভাব ফেলছে। এই প্রতিবাদের মাধ্যমে আমরা সেই বার্তাই পৌঁছে দিতে চাই।” সাইকেল যাত্রাটি সিটি সেন্টার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন রাস্তা অতিক্রম করে দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে পৌঁছায়। পথে বহু সাধারণ মানুষ এই অভিনব উদ্যোগ প্রত্যক্ষ করেন। অনেকেই মোবাইলে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের প্রতিবাদ মানুষের বাস্তব সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এভাবে সাইকেলে করে মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়া সত্যিই অভিনব। এতে অন্তত মানুষ বুঝতে পারছে যে জ্বালানির দাম নিয়ে সমস্যা রয়েছে।” যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েনি। বিরোধীদের দাবি, এটি শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রচারের অংশ এবং মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা। তবে কংগ্রেস নেতৃত্ব এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, তারা সবসময়ই সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে পৌঁছে তিন প্রার্থী নিয়ম মেনেই তাঁদের মনোনয়ন পত্র জমা দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিনব প্রচার ভোটের সময় প্রায়ই দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে যখন কোনও ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রচার চালানো হয়, তখন তা আরও বেশি প্রভাব ফেলে। বর্তমানে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই নিয়ে প্রতিবাদ হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে দুর্গাপুরে কংগ্রেস প্রার্থীদের এই সাইকেল যাত্রা নতুন করে সেই ইস্যুকেই সামনে নিয়ে এল। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুরে কংগ্রেস প্রার্থীদের এই অভিনব উদ্যোগ নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার, এই ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের কর্মসূচি যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যাকে সামনে রেখে যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আগামী দিনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও কি এই ধরনের ব্যতিক্রমী পথে হাঁটবে, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। শেষ পর্যন্ত, ভোটের লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকবে, তা নির্ধারণ করবে জনগণই। তবে এই ধরনের অভিনব প্রচার যে ভোটের রাজনীতিতে নতুন ভাবনার দিক নির্দেশ করে, তা বলতেই হয়।
