This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : দুর্গাপুর শহরে রবিবাসরীয় প্রচার ঘিরে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হল, যা মুহূর্তের মধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনার রূপ নেয়। দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিশানহাট এলাকায় বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘরুইয়ের প্রচার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় স্লোগান যুদ্ধ—একদিকে “জয় শ্রীরাম”, অন্যদিকে “জয় বাংলা”। এই পাল্টাপাল্টি স্লোগানেই কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রবিবার সকালে এলাকায় প্রচারে আসেন বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘোড়ুই। সঙ্গে ছিলেন দলীয় কর্মী-সমর্থকদের একটি বড় অংশ। শুরু থেকেই প্রচারে ছিল জোরালো উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক আবহ। এলাকার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে জনসংযোগ শুরু করেন তিনি। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং বিশেষ করে পানীয় জলের সমস্যাকে সামনে এনে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। প্রচারের মাঝেই ঘটে একটি মানবিক মুহূর্ত, যা প্রথমে উপস্থিত সকলের নজর কেড়ে নেয়। এক বৃদ্ধা মহিলা পানীয় জল ভর্তি একটি ভারী বালতি নিয়ে নিজের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় প্রার্থী নিজে এগিয়ে এসে তাঁর হাত থেকে বালতিটি নিয়ে নেন এবং বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। এই দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই এই ঘটনাকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিতে চেয়েছিলেন প্রার্থী—এমনটাই মনে করছেন অনেকেই। তবে এই মানবিক মুহূর্তের পরেই পরিস্থিতি ঘুরে যায় সম্পূর্ণ অন্যদিকে। অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থীকে এলাকায় দেখতে পেয়ে তৃণমূল কর্মীদের একাংশ “জয় বাংলা” স্লোগান দিতে শুরু করেন। এরই পাল্টা হিসেবে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও উচ্চস্বরে “জয় শ্রীরাম” স্লোগান তুলতে থাকেন। মুহূর্তের মধ্যেই এই স্লোগান যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে এবং গোটা এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা। দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে এই স্লোগান-পাল্টা স্লোগান যেন একপ্রকার শক্তি প্রদর্শনের রূপ নেয়। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষজনও এই পরিস্থিতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ দূর থেকে পুরো ঘটনাটি লক্ষ্য করেন, আবার কেউ নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। রাজনৈতিক প্রচার যে কখন উত্তেজনায় রূপ নেয়, তার এক বাস্তব চিত্র যেন ফুটে ওঠে এই ঘটনায়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর যায় পুলিশের কাছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দুর্গাপুর থানার পুলিশ। পুলিশ এসে দুই পক্ষকেই শান্ত করার চেষ্টা করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও, এই ঘটনার জেরে এলাকায় তৈরি হয় তীব্র চাপা উত্তেজনা।
“জয় শ্রীরাম” vs “জয় বাংলা”, কি ঘটল দেখুন !
অন্যদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপি প্রার্থীকে গত পাঁচ বছর এলাকায় দেখা যায়নি। ভোটের আগে হঠাৎ করে এলাকায় এসে তিনি শুধুমাত্র নাটক করছেন এবং মানুষের সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, এলাকার প্রকৃত সমস্যা সমাধানে কোনো ভূমিকা নেই তাঁর। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের প্রার্থী সবসময়ই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন এবং এদিনের ঘটনাও তারই প্রমাণ। তারা অভিযোগ করেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে স্লোগান তুলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছে বিরোধী পক্ষ। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, দুর্গাপুর পশ্চিমে নির্বাচনী লড়াই কতটা তীব্র হয়ে উঠেছে। “জয় শ্রীরাম” ও “জয় বাংলা”—এই দুই স্লোগান যেন এখন শুধুমাত্র শব্দ নয়, বরং রাজনৈতিক অবস্থান এবং শক্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই কারণেই এই স্লোগানকে কেন্দ্র করেই মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হচ্ছে উত্তেজনা, বাড়ছে সংঘাতের সম্ভাবনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা নির্বাচনের আবহে অস্বাভাবিক নয়, তবে তা যেন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও, সাধারণ মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তাই সবার আগে। এই ঘটনার পর গোটা দুর্গাপুর শহরজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ—সবার মুখে এখন একটাই আলোচনা, নিশানহাটের এই স্লোগান যুদ্ধ। নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা যে আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকেই। সবশেষে বলা যায়, রবিবারের এই ঘটনায় দুর্গাপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। প্রার্থীর মানবিক উদ্যোগ, তার পরেই স্লোগান যুদ্ধ, এবং শেষমেশ পুলিশের হস্তক্ষেপ—সব কিছু মিলিয়ে এই ঘটনা এখন শহরের অন্যতম আলোচিত বিষয়। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই যে উত্তেজনা বাড়বে, তার ইঙ্গিত যেন স্পষ্ট এই ঘটনাতেই।