This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : দীর্ঘদিন ধরে ডিএসপির জমি দখল করে নির্মিত বলে অভিযোগ থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয়ের বিরুদ্ধে অবশেষে বড় পদক্ষেপ নিল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে জেসিবি নিয়ে অভিযানে নেমে ইস্পাত নগরী দুর্গাপুরের মার্কনি এভিনিউ এলাকায় অবস্থিত ওই পার্টি অফিসটি সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বহু মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইস্পাত নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মার্কনি এভিনিউতে গড়ে ওঠা এই দলীয় কার্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। অভিযোগ, ডিএসপি বা দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের মালিকানাধীন জমির উপর অনুমতি ছাড়াই ওই কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে বিভিন্ন সময়ে নোটিশ জারি করে সংশ্লিষ্টদের কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখলদারি উচ্ছেদের জন্য জোরদার অভিযান শুরু হয়েছে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই মার্কনি এভিনিউ এলাকার এই দলীয় কার্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সোমবার সকালেই প্রশাসনিক কর্তারা, ডিএসপি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা এবং নিরাপত্তা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। আগে থেকেই মোতায়েন করা হয় পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী। যাতে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়। এরপর নির্দিষ্ট সময়ে জেসিবি মেশিন নিয়ে শুরু হয় ভাঙার কাজ। প্রথমে কার্যালয়ের বাইরের অংশে আঘাত হানা হয়। তারপর ধাপে ধাপে পুরো কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মাটিতে মিশে যায় বহুদিনের পুরনো সেই পার্টি অফিস। ভাঙার সময় আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখা হয় এবং গোটা প্রক্রিয়া নজরদারির আওতায় সম্পন্ন হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বহু বছর ধরেই ওই জায়গাটি নিয়ে বিতর্ক ছিল। ডিএসপির জমিতে স্থায়ী নির্মাণ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল একাধিকবার।
মার্কনি এভিনিউয়ে উচ্ছেদ অভিযান, চাঞ্চল্য শিল্পনগরী দুর্গাপুরে
তবে দীর্ঘদিন কোনও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। সোমবারের উচ্ছেদ অভিযানের পর অনেকেই মনে করছেন, অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে প্রশাসন এখন আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে আলোচনা। কারণ যে কার্যালয়টি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, সেটি একটি রাজনৈতিক দলের অফিস হিসেবে পরিচিত ছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি রাজনৈতিক গুরুত্বও পেয়েছে। যদিও প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, জমির মালিকানা এবং অবৈধ নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, জমির আইনি অবস্থানই ছিল মূল বিবেচ্য বিষয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জমি থেকে অবৈধ দখল সরানোর কাজ চলছে। রাস্তার ধারে, খোলা জমিতে কিংবা সংস্থার সম্পত্তির উপর গড়ে ওঠা একাধিক নির্মাণ চিহ্নিত করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই নোটিশ দেওয়ার পর স্বেচ্ছায় নির্মাণ সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দেশ না মানলে প্রশাসনিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সোমবারের এই ঘটনাও সেই বৃহত্তর অভিযানেরই একটি অংশ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জমি দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখন আরও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় বহু মানুষ ভিড় করেন। কেউ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন, আবার কেউ পুরো ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। সামাজিক মাধ্যমেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভাঙার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও। ফলে বিষয়টি নিয়ে শহরজুড়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের পর ভেঙে ফেলা কার্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজও শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জমিটি সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত করে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জমি রক্ষার ক্ষেত্রেও নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। সব মিলিয়ে, ডিএসপির জমিতে অবৈধ দখলের অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে সোমবারের এই উচ্ছেদ অভিযান দুর্গাপুরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, আগামী দিনে অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে এই অভিযান কতটা বিস্তৃত আকারে চালানো হয় এবং আরও কোন কোন নির্মাণ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।