দুর্গাপুরে কুয়োতে রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগ

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : কুয়োর জল দূষণকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরের মিলন পল্লীতে শনিবার সকাল থেকে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল এলাকায়। নিজের কুয়োতে রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগ উঠেছে এক স্থানীয় বাসিন্দার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগকে ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার একাংশের মানুষ। ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয় পুলিশকে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুর্গাপুরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মিলন পল্লীর জে ব্লক এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দা কাঞ্চন মুখার্জি তাঁর নিজস্ব কুয়োতে কোনও ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়েছেন। অভিযোগ, এর ফলে শুধু তাঁর কুয়ো নয়, আশেপাশের একাধিক কুয়োর জলও দূষিত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে বেশ কয়েকটি কুয়োর জল থেকে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। এমনকি সেই জল ব্যবহার করতেও সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ওই কুয়োগুলির জল ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি জলের গন্ধ ও রঙের পরিবর্তন লক্ষ্য করার পর তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করতে গিয়ে স্থানীয়দের একাংশের সন্দেহ হয় যে পাশের একটি কুয়োতে রাসায়নিক মেশানোর কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকালে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, রাসায়নিক মেশানোর পর অভিযুক্ত ব্যক্তি সেই কুয়োটি বন্ধ করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, পুরনো কুয়ো বন্ধ করার পর নতুন করে আরেকটি কুয়ো খননের কাজও শুরু করেছেন তিনি। এই ঘটনাই এলাকাবাসীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, যদি কোনও অনিয়ম না হয়ে থাকে, তাহলে হঠাৎ করে পুরনো কুয়ো বন্ধ করে নতুন কুয়ো খননের প্রয়োজন কেন পড়ল? এই প্রশ্ন তুলেই তাঁরা অভিযুক্ত ব্যক্তির নতুন কুয়ো খননের কাজ বন্ধ করে দেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে। সকাল থেকেই বহু মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তোলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কুয়োর জল দূষিত হয়ে গেলে তা শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়, বরং গোটা এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা এখনও কুয়োর জলের উপর নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান তাঁরা।
দুর্গাপুরে কুয়োতে রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগ
নতুন কুয়ো খনন ঘিরে বাড়ল সন্দেহ, চাঞ্চল্য মিলন পল্লীতে

ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিয়েছেন এলাকাবাসীরা। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, কুয়োর জল এবং আশপাশের মাটি পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। তাঁদের অভিযোগ, যদি সত্যিই কোনও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। তাই দ্রুত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক তদন্তের দাবি তুলেছেন তাঁরা। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কাঞ্চন মুখার্জি। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তার কোনও ভিত্তি নেই। তিনি কাউকে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কোনও রাসায়নিক ব্যবহার করেননি বলেই জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। কাঞ্চন মুখার্জি আরও বলেন, প্রয়োজনে তাঁর জমির মাটি, কুয়োর জল এবং আশপাশের এলাকা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হোক। তদন্তে তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য প্রকাশ পেলে সব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবে। এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ এবং পাল্টা দাবির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের অভিযোগও নথিভুক্ত করা হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। বর্তমানে গোটা ঘটনাকে ঘিরে মিলন পল্লী এলাকায় উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এলাকার বহু মানুষ এখন প্রশাসনের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। সত্যিই কোনও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, কিংবা কুয়োর জল দূষণের পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। তবে এই ঘটনার পর পরিবেশ দূষণ এবং পানীয় জলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযোগের তদন্ত নয়, এলাকার সমস্ত কুয়োর জলের নমুনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট প্রকাশ করা হোক। যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক দূর হয় এবং প্রকৃত পরিস্থিতি সামনে আসে। এখন সকলের নজর পুলিশি তদন্ত এবং সম্ভাব্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফলের দিকে। সেই রিপোর্টই নির্ধারণ করবে অভিযোগের সত্যতা এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ। আপাতত কুয়োর জল দূষণের অভিযোগ ঘিরে উত্তাল দুর্গাপুরের মিলন পল্লী।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram