ট্রাঙ্ক রোডে চুরির চেষ্টা, বাড়ছে আতঙ্ক !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : শহরে ক্রমবর্ধমান চুরির ঘটনা এখন বাসিন্দাদের মনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একের পর এক চুরি, আবার কোথাও চুরির চেষ্টা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশই অশান্ত হয়ে উঠছে। সম্প্রতি টেগর প্লেস এলাকায় দিনের বেলায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি, তার মধ্যেই ফের ট্রাঙ্ক রোড এলাকায় নতুন করে চুরির চেষ্টার ঘটনা সামনে আসতেই আতঙ্ক আরও বেড়েছে। শনিবার গভীর রাতে এই ঘটনাটি ঘটে ট্রাঙ্ক রোড এলাকার একটি টায়ারের দোকানে। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতীরা দোকানটিকে নিশানা করে। তারা প্রথমে দোকানের সংলগ্ন একটি ট্রান্সফরমারের গেট খুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর দোকানের উপরে রাখা লোহার সামগ্রী চুরি করারও চেষ্টা চালায়। পুরো ঘটনাটি এতটাই পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছিল যে, বোঝাই যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা আগে থেকেই এলাকাটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বড়সড় চুরি সংঘটিত হয়নি বলেই জানা যাচ্ছে। স্থানীয়দের তৎপরতা কিংবা অন্য কোনো কারণে দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। যদিও বড় ক্ষতি এড়ানো গেছে, তবুও এই ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যে এক গভীর আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, যদি এইভাবে বারবার চুরির চেষ্টা চলতে থাকে, তাহলে আগামী দিনে বড়সড় দুর্ঘটনা বা ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক মাস ধরে এই এলাকায় ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনা ঘটছে। কখনো বাড়ি, কখনো দোকান—কোথাওই নিরাপত্তা নেই বলে মনে করছেন অনেকেই। রাত নামলেই এক ধরনের অজানা ভয় কাজ করছে মানুষের মনে। অনেকেই নিজের বাড়ি বা দোকান রেখে বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “প্রায়ই রাতে অচেনা লোকজনকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। আমরা বারবার পুলিশকে জানিয়েছি, কিন্তু তেমন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।” অন্য একজন বলেন, “এখন আর নিশ্চিন্তে ঘুমানো যায় না। একটু শব্দ হলেই মনে হয়, কেউ হয়তো চুরি করতে এসেছে।” সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। এলাকাবাসীদের দাবি, বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পুলিশের পক্ষ থেকে তেমন কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করতেও অনীহা দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে অসহায়ত্বের অনুভূতিও।
দুর্গাপুর ট্রাঙ্ক রোডে চুরির চেষ্টা, বাড়ছে আতঙ্ক !
নিরাপত্তা কোথায় ? প্রশ্নে শহরবাসী
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, ঘটনাস্থল থেকে খুব অল্প দূরত্বেই রয়েছে একটি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি। তবুও খবর দেওয়া সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—যদি পুলিশের উপস্থিতি এত কাছেই থাকে, তাহলে জরুরি সময়ে কেন তারা পৌঁছাতে পারছে না ? এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন, দুষ্কৃতীরা যেন ক্রমশই আরও সাহসী হয়ে উঠছে। পুলিশের সক্রিয়তা না থাকায় তারা সহজেই এই ধরনের কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ধরনের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাঙ্ক রোডের মতো ব্যস্ত এলাকায় যদি দোকান নিরাপদ না থাকে, তাহলে ব্যবসা চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। রাতে দোকান বন্ধ করার পর তারা আর নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন না। এলাকাবাসীরা এখন একটাই দাবি তুলছেন—দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। নিয়মিত পুলিশ টহল বাড়ানো, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি—এই সব বিষয়গুলির উপর জোর দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। অনেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কথাও বলছেন, যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোখা যায়। এই ঘটনাগুলির জেরে দুর্গাপুর শহরে এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী—সবাই এখন নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। রাত হলেই যেন শহরের একাংশে নেমে আসে ভয়ের ছায়া। সব মিলিয়ে বলা যায়, ক্রমবর্ধমান চুরি এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট উদ্বেগজনক। যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে এই সমস্যা আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্গাপুরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরীতে এই ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নই নয়, বরং মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তাই এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারে এবং শহরবাসীকে কতটা নিরাপত্তা ফিরিয়ে দিতে পারে।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram