This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : রবিবার গভীর রাতে দুর্গাপুরের মুচিপাড়া এলাকায় ঘটে নাটকীয় ঘটনা। পুলিশ পৌঁছে যায় তৃণমূল নেতা খোকন রুইদাসের বাড়িতে। কিছুক্ষণ পর তাঁকে আটক করে থানার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পুলিশের গাড়িতে করে খোকন রুইদাসকে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ রাস্তায় নেমে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এলাকাজুড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই খোকন রুইদাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় তোলাবাজি, সরকারি জমি দখল, সেই জমিতে অবৈধভাবে লোক বসানো এবং পরবর্তীতে সেই জমি বিক্রির মতো একাধিক বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই সমস্ত বিষয় নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও এতদিন কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমতে থাকে। রবিবার রাতে পুলিশি পদক্ষেপের পর সেই ক্ষোভই স্লোগানের মাধ্যমে প্রকাশ পায় বলে দাবি এলাকাবাসীর একাংশের। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি, ঠিক কোন মামলায় বা কী অভিযোগের ভিত্তিতে খোকন রুইদাসকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। বিজেপির ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কো-কনভেনার বিশ্বজিৎ দাস পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সরকারি জমি দখল এবং সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মুচিপাড়ায় গভীর রাতে তৃণমূল নেতা আটক, ‘চোর চোর’ স্লোগানে উত্তেজনা
অবশেষে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন। বিজেপির এসসি মোর্চার নেতা বাপ্পা রুইদাসও একই সুরে বলেন, সরকারি জমি দখল করে সেখানে লোক বসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ বহুদিনের। সাধারণ মানুষ বহুবার এই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশের এই পদক্ষেপে মানুষ আশাবাদী যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। বিজেপি নেতাদের দাবি, প্রশাসন যদি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালায়, তাহলে আরও অনেক তথ্য সামনে আসতে পারে। তাঁরা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের দাবি, দুর্নীতি বা জমি সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন। তবে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী বলা যায় না—এই বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এখনও পর্যন্ত খোকন রুইদাসের পরিবার, তাঁর আইনজীবী কিংবা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁকে কেন আটক করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও সূত্রের দাবি। এদিকে, রবিবার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেও এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলে। স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, আইন যদি নিরপেক্ষভাবে নিজের পথে চলে, তাহলে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অভিযোগেরও সুরাহা হতে পারে। আবার অন্যদিকে, অনেকেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য না করার পক্ষেও মত প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনার পর মুচিপাড়া এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি যাতে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকে এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখছে প্রশাসন।