This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে দুর্গাপুরে আয়োজিত হল বৃহৎ “রোজগার মেলা”। পশ্চিম বর্ধমান জেলার দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবক-যুবতীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে তাঁদের কর্মজীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল জেলা প্রশাসন। রাজ্য সরকারের কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত এই রোজগার মেলায় জেলার ৯টি আইটিআই এবং পলিটেকনিক কলেজের মোট ৩০৯ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পোন্নামবলাম এস, দুর্গাপুর নগর নিগমের কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম, দুর্গাপুর মহকুমার মহকুমা শাসক অঙ্কিতা আগারওয়াল, ডিসিপি (ইস্ট) রাসপ্রিত সিং-সহ প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। তাঁদের উপস্থিতিতে নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসেন নবনিযুক্ত যুবক-যুবতীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিম বর্ধমান শিল্পাঞ্চলে শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের দ্রুত কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বর্তমান সময়ে শুধুমাত্র শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। সেই চাহিদা পূরণ করতেই রাজ্য সরকারের কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তর নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। সেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতেই এই রোজগার মেলার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে জেলাশাসক পোন্নামবলাম এস বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়বে, অন্যদিকে জেলার যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে। তিনি জানান, শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয় আরও বাড়িয়ে আগামী দিনেও এই ধরনের রোজগার মেলার আয়োজন করা হবে, যাতে আরও বেশি সংখ্যক যুবক-যুবতী চাকরির সুযোগ পান। অনুষ্ঠানে শুধু নিয়োগপত্র প্রদানই নয়, বিভিন্ন শিল্প ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সরাসরি চাকরিপ্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেন। ফলে অনেক চাকরিপ্রার্থীর জন্য এটি শুধুমাত্র নিয়োগপত্র পাওয়ার অনুষ্ঠান নয়, বরং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে ওঠে।
দক্ষতার স্বীকৃতি, রোজগার মেলায় ৩০৯ যুবক-যুবতীর চাকরি
বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে শিল্পক্ষেত্রে দক্ষ টেকনিশিয়ান, মেশিন অপারেটর, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। সেই চাহিদা পূরণে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আইটিআই ও পলিটেকনিক কলেজগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীরা নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী বলে জানান। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ ও পরিশ্রমের পর এই নিয়োগপত্র তাঁদের কাছে নতুন জীবনের সূচনা। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পক্ষেত্রে অবদান রাখার সুযোগ পাওয়ায় তাঁরা আনন্দিত। অভিভাবকরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রশিক্ষণের সঙ্গে যদি সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ যুক্ত হয়, তাহলে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে। পশ্চিম বর্ধমান দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের অন্যতম শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ইস্পাত, বিদ্যুৎ, প্রকৌশল এবং উৎপাদন শিল্পের পাশাপাশি বর্তমানে বিভিন্ন নতুন শিল্পও এই জেলায় গড়ে উঠছে। ফলে দক্ষ কর্মীর চাহিদাও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সেই চাহিদা পূরণে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনের দাবি, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীকে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের রোজগার মেলা নিয়মিত আয়োজন করা হবে, যাতে জেলার আরও বেশি সংখ্যক যুবক-যুবতী কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। পাশাপাশি শিল্প সংস্থাগুলির প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হবে। এতে যেমন শিল্প সংস্থাগুলি দক্ষ কর্মী পাবে, তেমনই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের কর্মজীবনে প্রবেশের পথও আরও সহজ হবে। প্রশাসনের মতে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার যোগসূত্র আরও মজবুত করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। দুর্গাপুরের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত এই রোজগার মেলা সেই লক্ষ্যপূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে জেলা প্রশাসন। ৩০৯ জন যুবক-যুবতীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুধু তাঁদের কর্মজীবনের সূচনা নয়, পশ্চিম বর্ধমানের শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। আগামী দিনে এই উদ্যোগ আরও বৃহত্তর পরিসরে বিস্তৃত হবে বলেই আশাবাদী প্রশাসন, শিল্পমহল এবং চাকরিপ্রার্থীরা।