দুর্গাপুরে 'অন্নপূর্ণা'র টাকা না পেয়ে ক্ষোভ !
দুর্গাপুর : অন্নপূর্ণা যোজনার প্রতিশ্রুত অর্থ এখনও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি। এই অভিযোগকে সামনে রেখে মঙ্গলবার দুর্গাপুর মহকুমা শাসক বা SDO দপ্তরে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বহু উপভোক্তা। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক মহিলা এসডিও অফিসে পৌঁছান। তাঁদের অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে টাকা পাওয়ার কথা জানানো হলেও বাস্তবে এখনও পর্যন্ত সেই অর্থ তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি। বারবার ব্যাংকে গিয়ে খোঁজ নেওয়া, প্রশাসনিক দপ্তরে যোগাযোগ করা এবং অপেক্ষা করেও কোনও সুরাহা না মেলায় শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভের পথ বেছে নেন তাঁরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই দুর্গাপুর এসডিও অফিস চত্বরে উপভোক্তাদের ভিড় বাড়তে থাকে। অধিকাংশই ছিলেন মহিলা। তাঁদের হাতে বিভিন্ন নথিপত্র, আবেদনপত্র এবং ব্যাংকের পাসবই। প্রত্যেকেরই একটাই প্রশ্ন—অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা কবে মিলবে? কেন এখনও সেই টাকা তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি ? বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁরা সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন। আধার, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল নম্বরসহ সমস্ত তথ্য আপডেট করা হয়েছে। তারপরও দীর্ঘদিন কেটে গেলেও টাকা না আসায় তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই এই অর্থের উপর নির্ভর করে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, ওষুধ কেনা কিংবা অন্যান্য জরুরি প্রয়োজন মেটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু টাকা না পাওয়ায় তাঁদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে। ক্ষুব্ধ উপভোক্তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে টাকা খুব শীঘ্রই অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে। কিন্তু বাস্তবে প্রতিবারই তাঁদের খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। কেউ ব্যাংকে গিয়েছেন, কেউ পঞ্চায়েত বা ব্লক অফিসে যোগাযোগ করেছেন, আবার কেউ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু কোথাও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা এসডিও দপ্তরের ভেতরেই বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, অবিলম্বে সমস্যার সমাধান করতে হবে। যাঁদের টাকা বকেয়া রয়েছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টে দ্রুত সেই অর্থ জমা দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করেও কোনও ফল না পাওয়ায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসনিক আধিকারিকরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শোনেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা জমা পড়েনি, তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পাশাপাশি সমস্যার কারণ খুঁজে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়। যদিও আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন অনেক উপভোক্তা। তাঁদের বক্তব্য, বহুবার একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনও বাস্তবে কোনও পরিবর্তন হয়নি।

শুধু দুর্গাপুরেই নয়, একই ছবি ধরা পড়েছে কাঁকসা বিডিও কার্যালয়েও। সেখানেও বহু মহিলা উপভোক্তা ব্লক অফিসে এসে তাঁদের ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগও একই—অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা এখনও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি। ফলে এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ঘুরেও কোনও সমাধান মিলছে না। কাঁকসা বিডিও অফিসে উপস্থিত মহিলাদের অনেকেই জানান, প্রতিদিনের সংসার চালাতে তাঁরা এই অর্থের উপর নির্ভর করেছিলেন। বাজারের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে এই আর্থিক সহায়তা তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু টাকা না পাওয়ায় তাঁদের নিত্যদিনের খরচ চালানোই কঠিন হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ ধার করে সংসার চালাচ্ছেন, আবার কেউ প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাও বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। উপভোক্তাদের আরও অভিযোগ, তাঁরা যখনই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করছেন, তখনই একেক রকম উত্তর দেওয়া হচ্ছে। কোথাও বলা হচ্ছে প্রযুক্তিগত সমস্যা, কোথাও আবার বলা হচ্ছে তালিকা আপডেট হয়নি। কিন্তু প্রকৃত সমস্যার কারণ কেউ স্পষ্টভাবে জানাচ্ছেন না। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে হাজার হাজার উপভোক্তার। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মহিলারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসেননি। তাঁরা শুধুমাত্র নিজেদের প্রাপ্য টাকা চাইছেন। সরকারের ঘোষিত প্রকল্পের সুবিধা যদি প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সময়মতো না পৌঁছায়, তাহলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন বলে দাবি তাঁদের। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের উচিত দ্রুত প্রকৃত সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে সমাধান করা। যদি ব্যাংক সংক্রান্ত কোনও জটিলতা থাকে, তবে তা দ্রুত মেটাতে হবে। আবার তথ্য যাচাই বা প্রযুক্তিগত কোনও সমস্যা থাকলেও তা দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে টাকা আটকে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়বে। বর্তমানে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে দুর্গাপুর এবং কাঁকসা—দুই জায়গাতেই ক্ষোভের পারদ চড়ছে। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস মিললেও উপভোক্তারা এখন আর শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা দেখতে চান। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কবে সমস্যার সমাধান হবে, কবে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া অর্থ জমা পড়বে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। যদি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিক্ষোভকারীরা। সাধারণ মানুষের দাবি একটাই—যে অর্থ তাঁদের প্রাপ্য, তা যেন আর বিলম্ব না করে দ্রুত তাঁদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
