This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : অবৈধ মদের কারবারের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল দুর্গাপুর কোক ওভেন থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি মদ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বৈধ লাইসেন্স এবং আবগারি দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে মদ বিক্রি করে আসছিলেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম কমলেশ হাজরা। তিনি কোক ওভেন থানার করঙ্গপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ, লেনিন সরণি সংলগ্ন একটি দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দেশি ও বিদেশি মদের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, দিনের তুলনায় রাতের সময়ই ওই দোকানে অবৈধ মদ বিক্রির রমরমা ব্যবসা চলত এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা সেখানে ভিড় জমাতেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। এরপর গোপন সূত্রে নির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে অভিযানে নামে দুর্গাপুর কোক ওভেন থানার পুলিশ। পরিকল্পনা অনুযায়ী পুলিশ ওই এলাকায় পৌঁছে নজরদারি চালায় এবং উপযুক্ত সময়ে দোকানে হানা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এরপর দোকান ও আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি মদ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া মদের একটি বড় অংশ কোনও বৈধ নথি ছাড়াই মজুত করা হয়েছিল এবং সেগুলি অবৈধভাবে বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। পুলিশ সমস্ত মদের বোতল বাজেয়াপ্ত করে এবং সেগুলির উৎস, কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এটি শুধুমাত্র একজনের ব্যবসা নয়, এর পিছনে আরও বড় একটি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। ইতিমধ্যেই আবগারি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শুধুমাত্র দোকান মালিক বা অভিযুক্ত ব্যক্তির ভূমিকাই নয়, এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সরবরাহকারী, পরিবহণকারী এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়েও তদন্ত করা হবে। উদ্ধার হওয়া মদের বোতলগুলির বৈধতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সেগুলি কোথা থেকে এসেছে এবং কোনও লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান বা গুদাম থেকে বেআইনিভাবে বের করা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্গাপুরে অবৈধ মদের কারবারে পুলিশের বড়সড় অভিযান, বিপুল দেশি-বিদেশি মদ উদ্ধার, গ্রেফতার ১
পুলিশের দাবি, সম্প্রতি অবৈধ মদ বিক্রির বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন থানাকে এ বিষয়ে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই কোক ওভেন থানার এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ মদের ব্যবসার কারণে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। বিশেষ করে রাতের বেলায় দোকান ঘিরে ভিড়, অশান্তি এবং অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগও ছিল। ফলে পুলিশের এই অভিযানের পর এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের বক্তব্য। যদিও এই ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত অন্য কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেনি, তবে তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের মোবাইল ফোন, যোগাযোগের সূত্র এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখছেন। প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের লক্ষ্য, শুধুমাত্র একজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেই তদন্ত শেষ না করে অবৈধ মদের গোটা নেটওয়ার্কের সন্ধান করা। কারণ এই ধরনের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে প্রায়শই একাধিক ব্যক্তি ও সরবরাহ চক্র জড়িত থাকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অবৈধ মদের কারবার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতেই এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃত কমলেশ হাজরাকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ প্রয়োজনে হেফাজতের আবেদন করতে পারে বলেও জানা গিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলবে। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, অবৈধ মদের ব্যবসার বিরুদ্ধে পুলিশ যেন ভবিষ্যতেও একইভাবে কঠোর অবস্থান বজায় রাখে এবং কোনওভাবেই যাতে এই ধরনের বেআইনি কারবার আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেদিকেও প্রশাসনকে কড়া নজর রাখতে হবে। পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, অবৈধ মদ বিক্রি বা মজুত সংক্রান্ত কোনও তথ্য থাকলে সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জনসাধারণের সহযোগিতায় এই ধরনের বেআইনি ব্যবসার বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলেও মনে করছে পুলিশ। সব মিলিয়ে, কোক ওভেন থানার এই অভিযানে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি মদ উদ্ধার হয়েছে, তেমনই অবৈধ মদের কারবারের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থানেরও স্পষ্ট বার্তা মিলেছে। এখন তদন্তে নতুন কী তথ্য সামনে আসে এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, সেদিকেই নজর রয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের।