This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে একাধিক প্লট। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় সেই জমিগুলিতে গজিয়ে উঠেছে বড় বড় আগাছা, ঝোপঝাড় এবং জঙ্গল। বর্ষার সময় সেই সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি বড় সমস্যা—জল জমে থাকা। দুর্গাপুরের অন্যতম পরিকল্পিত আবাসন এলাকা বেঙ্গল-অম্বুজা। অথচ সেই এলাকারই বেশ কিছু ফাঁকা জমির বর্তমান চিত্র রীতিমতো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাঁকা জমিগুলিতে দিনের পর দিন জল জমে থাকছে। সেই জমা জল হয়ে উঠছে মশার প্রজননক্ষেত্র। সন্ধ্যা নামলেই বেড়ে যাচ্ছে মশার উপদ্রব। পাশাপাশি আগাছা ও ঝোপঝাড়ের মধ্যে তৈরি হয়েছে পোকামাকড়ের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। আর শুধু মশা-মাছি বা পোকামাকড়েই সমস্যা সীমাবদ্ধ নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঝোপঝাড়ে ঢাকা পড়ে থাকা ফাঁকা জমিগুলিতে সাপ, বিচ্ছু এবং ইঁদুরের আনাগোনাও বেড়েছে। ফলে ওই জমিগুলির আশপাশে বসবাসকারী পরিবারগুলির মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের নিয়ে উদ্বেগ আরও বেশি। বাড়ির আশপাশে কিংবা রাস্তার ধারে এমন জঙ্গল তৈরি হওয়ায় যে কোনও সময় বিষাক্ত প্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সমস্যাটি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ফাঁকা জমিগুলি পরিষ্কার করার দাবি জানানো হচ্ছে। পুরসভাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। কিন্তু অভিযোগ, মাঝে মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ হলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়। কিছুদিন পর ফের আগাছায় ঢেকে যাচ্ছে জমি। জমে থাকছে জল। আর সেই কারণেই মশা ও পোকামাকড়ের উপদ্রবও থেকে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা চন্দনা পাঁন্ডে জানান, বৃহস্পতিবার পুরসভায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। তাঁর দাবি, দ্রুত ফাঁকা জমিগুলির আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। একইসঙ্গে জমে থাকা জল সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। শুধু একবার পরিষ্কার করলেই হবে না, নিয়মিত নজরদারি এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও করা দরকার বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়দের অভিযোগের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তৎপরতা।
বেঙ্গল-অম্বুজায় ফাঁকা প্লটের ‘জঙ্গলরাজ’ ! বাড়ছে মশা, সাপের উপদ্রব
দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘরুই জানিয়েছেন, ফাঁকা জমিগুলির বিষয়টি নগর নিগমকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, জমিগুলি যদি ব্যক্তিগত মালিকানাধীনও হয়, তাহলেও দীর্ঘদিন ধরে কেন সেগুলি অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে, সেই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার। প্রয়োজনে জমির মালিকদের চিহ্নিত করে তাঁদের দায়িত্বের বিষয়টিও স্পষ্ট করা উচিত বলে দাবি উঠছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা জমিগুলি কেন এমন অবস্থায় পড়ে থাকবে? শহরের বিভিন্ন এলাকায় মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পুরসভার পক্ষ থেকে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়। নিয়মিত মশার ওষুধ স্প্রে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা এবং জমা জল চিহ্নিত করে তা পরিষ্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়। কিন্তু কোনও এলাকার ফাঁকা জমিতে যদি দিনের পর দিন জল জমে থাকে এবং সেই জমি আগাছায় ঢেকে যায়, তাহলে শুধুমাত্র বাড়ি বা রাস্তার আশপাশে ওষুধ স্প্রে করে কতটা মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব—সেই প্রশ্নও তুলছেন স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, মশার উৎসস্থল যদি চিহ্নিত করে পরিষ্কার না করা হয়, তাহলে সমস্যা বারবার ফিরে আসবে। এখন বর্ষার সময়। ফলে আগামী দিনগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জমে থাকা জলে মশার প্রজনন বাড়তে পারে। একইসঙ্গে ঘন ঝোপঝাড় সাপ, বিচ্ছু, ইঁদুর-সহ বিভিন্ন প্রাণীর আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে পারে। ফলে দ্রুত ফাঁকা জমিগুলির তালিকা তৈরি করে মালিকানা যাচাই, আগাছা পরিষ্কার, জমা জল অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় কীটনাশক প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি হলে সংশ্লিষ্ট মালিকদেরও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়ার দাবি উঠেছে। একদিকে পরিকল্পিত টাউনশিপ, অন্যদিকে তারই মধ্যে বছরের পর বছর ধরে অব্যবহৃত জমিতে তৈরি হচ্ছে জঙ্গল—এই বৈপরীত্যই এখন বেঙ্গল-অম্বুজার বাসিন্দাদের উদ্বেগের কারণ। স্থানীয়দের প্রশ্ন, সমস্যা যখন দীর্ঘদিনের, তখন স্থায়ী সমাধান কবে? আগাছায় ঢাকা জমি পরিষ্কার হবে কবে? জমে থাকা জল সরবে কবে? মশা, পোকামাকড়ের পাশাপাশি সাপ-বিচ্ছুর আতঙ্ক থেকে কবে মুক্তি পাবেন বাসিন্দারা? এখন নজর থাকবে নগর নিগমের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বেঙ্গল-অম্বুজার ফাঁকা প্লটগুলিতে দ্রুত পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়, নাকি অভিযোগের পরও সমস্যাটি একইভাবে থেকে যায়—সেদিকেই তাকিয়ে এলাকার মানুষ।