জঙ্গি আশ্রয় ঠেকাতে বহুতল আবাসিকদের সতর্ক করলেন বিধায়ক চন্দ্রশেখর

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের আবহে দুর্গাপুর ও তার আশপাশের এলাকায় বহুতল আবাসনে ভাড়াটে রাখার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিলেন দুর্গাপুরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্গাপুরের কাঁকসা এলাকার তপবন সিটিতে একটি আবাসিক সভায় যোগ দিয়ে তিনি বাসিন্দাদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেন— শুধুমাত্র পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, ভাড়াটিয়ার সমস্ত নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করে তবেই ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া উচিত। একইসঙ্গে কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ নজরে এলে তা অবিলম্বে পুলিশ প্রশাসনকে জানাতেও আবেদন করেন তিনি। রবিবার তপবন সিটির আবাসিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। সভায় উপস্থিত ছিলেন আবাসনের বাসিন্দা, কমিটির সদস্য এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। মূলত আবাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কীভাবে জোরদার করা যায় এবং বহিরাগতদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে কী ধরনের সতর্কতা নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে প্রত্যেক নাগরিকের সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুধু প্রশাসনের উপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না, সাধারণ মানুষকেও নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিশেষ করে বড় বড় আবাসনগুলিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে বসবাস করেন। অনেকেই চাকরি, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভাড়া থাকেন। ফলে কারা আবাসনে প্রবেশ করছেন এবং কারা সেখানে বসবাস করছেন, সেই বিষয়টি সঠিকভাবে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি বর্ধমানের একটি আবাসন এবং দুর্গাপুরের মেন গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে ভাড়াবাড়িতে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে উঠে এসেছে যে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করেছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলেই মন্তব্য করেন তিনি। বিধায়ক বলেন, এই ধরনের অভিযোগের তদন্ত ও সত্যতা যাচাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজ। তবে এমন ঘটনা সামনে আসার পর নাগরিকদের আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কারণ অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে সমাজবিরোধী বা নাশকতামূলক কাজে জড়িত ব্যক্তিরা সাধারণ মানুষের মাঝেই লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই প্রত্যেক আবাসিক কমিটি এবং ফ্ল্যাট মালিকের উচিত ভাড়াটিয়ার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। তিনি বিশেষভাবে পরামর্শ দেন, কোনও ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার আগে ভাড়াটিয়ার আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ, মোবাইল নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। শুধুমাত্র নথি দেখলেই হবে না, সেই নথির একটি কপি সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিয়ে পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করাও অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জঙ্গি আশ্রয় ঠেকাতে বহুতল আবাসিকদের সতর্ক করলেন বিধায়ক চন্দ্রশেখর
তপবন সিটিতে নিরাপত্তা বৈঠক, ভাড়াটিয়া যাচাইয়ে কড়া বার্তা বিধায়কের

চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ থানাতেই ভাড়াটিয়া যাচাইয়ের একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে ভবিষ্যতে কোনও সমস্যা দেখা দিলে পুলিশ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। এতে যেমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সহজ হয়, তেমনি আবাসনের অন্যান্য বাসিন্দারাও নিরাপদ বোধ করেন। তিনি আরও বলেন, শুধু ভাড়াটিয়া নয়, আবাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও সময়ের সঙ্গে আরও আধুনিক করতে হবে। সিসিটিভি ক্যামেরা, ভিজিটর রেজিস্টার, নিরাপত্তারক্ষীদের পরিচয় যাচাই এবং আগন্তুকদের প্রবেশের সঠিক নথিভুক্তিকরণ— এই বিষয়গুলির উপরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সভায় উপস্থিত আবাসিকদের উদ্দেশে বিধায়ক বলেন, কোনও অচেনা ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করলে, কেউ যদি নিজের পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেন, অথবা আবাসনে কোনও অস্বাভাবিক কার্যকলাপ চোখে পড়ে, তাহলে তা কখনও উপেক্ষা করা উচিত নয়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানা অথবা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজনে আবাসনের কমিটিকেও বিষয়টি জানাতে হবে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, আবাসিকদের পক্ষ থেকে যদি কোনও লিখিত অভিযোগ বা নির্দিষ্ট তথ্য প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়, তাহলে তিনি নিজেও বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আনবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্যোগ নেবেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনওরকম আপস করা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বিধায়ক আরও বলেন, একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সব জায়গায় একসঙ্গে উপস্থিত থাকতে পারে না। তাই নাগরিকদের সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণই বহু ক্ষেত্রে বড় ধরনের অপরাধ বা নাশকতার ঘটনা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তপবন সিটির আবাসিকদের একাংশও এদিন নিরাপত্তা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। অনেকেই বলেন, বড় আবাসনে প্রতিনিয়ত নতুন মানুষের যাতায়াত হয়। ফলে প্রত্যেকের পরিচয় সম্পর্কে জানা সবসময় সম্ভব হয় না। তাই পুলিশের ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক হলে নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে তাঁদের মত। আবাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে আবাসিক কমিটির পক্ষ থেকেও বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানা যায়। নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা, দর্শনার্থীদের তথ্য সংরক্ষণ এবং সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। সব মিলিয়ে, কাঁকসার তপবন সিটিতে অনুষ্ঠিত এই সভা থেকে বহুতল আবাসনের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতার বার্তা তুলে ধরলেন দুর্গাপুরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, নিরাপত্তা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, প্রতিটি নাগরিকেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে। তাই ভাড়াটে নেওয়ার আগে পরিচয় যাচাই, প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ, পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা এবং কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানো— এই কয়েকটি বিষয় মেনে চললেই বহু সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। এর মাধ্যমে নিরাপদ, সচেতন এবং দায়িত্বশীল আবাসিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram