জঙ্গি আশ্রয় ঠেকাতে বহুতল আবাসিকদের সতর্ক করলেন বিধায়ক চন্দ্রশেখর

চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ থানাতেই ভাড়াটিয়া যাচাইয়ের একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে ভবিষ্যতে কোনও সমস্যা দেখা দিলে পুলিশ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। এতে যেমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সহজ হয়, তেমনি আবাসনের অন্যান্য বাসিন্দারাও নিরাপদ বোধ করেন। তিনি আরও বলেন, শুধু ভাড়াটিয়া নয়, আবাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও সময়ের সঙ্গে আরও আধুনিক করতে হবে। সিসিটিভি ক্যামেরা, ভিজিটর রেজিস্টার, নিরাপত্তারক্ষীদের পরিচয় যাচাই এবং আগন্তুকদের প্রবেশের সঠিক নথিভুক্তিকরণ— এই বিষয়গুলির উপরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সভায় উপস্থিত আবাসিকদের উদ্দেশে বিধায়ক বলেন, কোনও অচেনা ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করলে, কেউ যদি নিজের পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেন, অথবা আবাসনে কোনও অস্বাভাবিক কার্যকলাপ চোখে পড়ে, তাহলে তা কখনও উপেক্ষা করা উচিত নয়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানা অথবা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজনে আবাসনের কমিটিকেও বিষয়টি জানাতে হবে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, আবাসিকদের পক্ষ থেকে যদি কোনও লিখিত অভিযোগ বা নির্দিষ্ট তথ্য প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়, তাহলে তিনি নিজেও বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আনবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্যোগ নেবেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনওরকম আপস করা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বিধায়ক আরও বলেন, একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সব জায়গায় একসঙ্গে উপস্থিত থাকতে পারে না। তাই নাগরিকদের সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণই বহু ক্ষেত্রে বড় ধরনের অপরাধ বা নাশকতার ঘটনা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তপবন সিটির আবাসিকদের একাংশও এদিন নিরাপত্তা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। অনেকেই বলেন, বড় আবাসনে প্রতিনিয়ত নতুন মানুষের যাতায়াত হয়। ফলে প্রত্যেকের পরিচয় সম্পর্কে জানা সবসময় সম্ভব হয় না। তাই পুলিশের ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক হলে নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে তাঁদের মত। আবাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে আবাসিক কমিটির পক্ষ থেকেও বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানা যায়। নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা, দর্শনার্থীদের তথ্য সংরক্ষণ এবং সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। সব মিলিয়ে, কাঁকসার তপবন সিটিতে অনুষ্ঠিত এই সভা থেকে বহুতল আবাসনের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতার বার্তা তুলে ধরলেন দুর্গাপুরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, নিরাপত্তা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, প্রতিটি নাগরিকেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে। তাই ভাড়াটে নেওয়ার আগে পরিচয় যাচাই, প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ, পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা এবং কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানো— এই কয়েকটি বিষয় মেনে চললেই বহু সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। এর মাধ্যমে নিরাপদ, সচেতন এবং দায়িত্বশীল আবাসিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন।
