This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগের সূচনা হল পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা ব্লকের বিদবিহার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে দেশজুড়ে ১০০ দিনের কাজের পরিবর্তে চালু হয়েছে ‘ভিবি-জি রামজি’ প্রকল্প। সরকারের দাবি, এই প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। বুধবার কাঁকসার ফুলঝোড় এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। তাঁর ভার্চুয়াল উদ্বোধনের পর দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান জেলাতেও প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল গ্রামীণ পরিবারের জন্য বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য আগের তুলনায় বর্ধিত মজুরি, দ্রুত অর্থপ্রদান এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, শুধু কর্মসংস্থান নয়, গ্রামের রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা, জল সংরক্ষণ, সেচ, বৃক্ষরোপণ এবং অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, প্রকল্পের জেলা আধিকারিক অতনু মণ্ডল, কাঁকসার বিডিও সৌরভ গুপ্ত-সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক। উপস্থিত আধিকারিকরা প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করেন এবং কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন। মহকুমা শাসক কৌশিক চট্টোপাধ্যায় জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক ও টেকসই করে তোলাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে জেলার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে এই প্রকল্পের কাজ সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, শুধু অস্থায়ী কর্মসংস্থান নয়, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
১০০ দিনের কাজের বদলে ‘ভিবি-জি রামজি’, বিদবিহারে আনুষ্ঠানিক সূচনা
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, কর্মীদের কাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ডিজিটাল মনিটরিং, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা থাকবে। ফলে কাজের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির মানও আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বছরে কর্মদিবস বৃদ্ধি এবং উন্নত মজুরির সুযোগ গ্রামীণ পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াবে। একই সঙ্গে এলাকার রাস্তা, জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য জনপরিষেবা উন্নত হলে সামগ্রিকভাবে গ্রামের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। তবে অনেকেই মনে করছেন, প্রকল্পের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে তার সঠিক ও স্বচ্ছ বাস্তবায়নের উপর। সময়মতো কাজের বরাদ্দ, শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি প্রদান এবং উন্নয়নমূলক কাজের গুণগত মান বজায় রাখা গেলে এই প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। প্রশাসনের দাবি, ‘ভিবি-জি রামজি’ প্রকল্প শুধুমাত্র একটি কর্মসংস্থান কর্মসূচি নয়; এটি গ্রামীণ উন্নয়নের একটি সমন্বিত পরিকল্পনা। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, জল সংরক্ষণ এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান উন্নত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। আগামী দিনে জেলার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে এই প্রকল্পের কার্যক্রম ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এর ফলে আরও বেশি সংখ্যক গ্রামীণ পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে এবং স্থানীয় উন্নয়নের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উন্নত পরিকাঠামো নির্মাণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন দিশা দেখাতে পারে ‘ভিবি-জি রামজি’ প্রকল্প—এমনটাই আশা প্রশাসনের। এখন দেখার, বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই প্রকল্প কতটা সফলভাবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে। আপাতত বিদবিহার থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আগামী দিনে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও কীভাবে বিস্তার লাভ করে, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।