শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগে জোর, উদ্যোগপতিদের সঙ্গে বৈঠকে দুই মন্ত্রী

শিল্পমন্ত্রী জানান, পশ্চিম বর্ধমান দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। একসময় ইস্পাত, কয়লা, বিদ্যুৎ এবং ভারী শিল্পের জন্য পরিচিত এই এলাকা আবারও শিল্পের মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ফিরে পাক, সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র নতুন বিনিয়োগ আনাই নয়, বহু বছর ধরে বন্ধ হয়ে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকেও পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান। সরকারের আশা, বন্ধ কারখানাগুলি পুনরায় চালু হলে বহু দক্ষ ও অভিজ্ঞ শ্রমিক আবারও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে নতুন শিল্প স্থাপনের ফলে জেলার যুবক-যুবতীদের জন্যও নতুন চাকরির দরজা খুলবে। বৈঠকে উপস্থিত শিল্পপতিরাও সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁদের বক্তব্য, শিল্পের জন্য প্রয়োজন উন্নত পরিকাঠামো, দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়গুলিতে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নবীন উদ্যোক্তাদেরও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, ঋণ সুবিধা এবং শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়। সরকারের লক্ষ্য, শুধু বড় শিল্প নয়, ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং স্টার্ট-আপ শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা। বৈঠকে শিল্প সম্প্রসারণের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরি হলে শিল্প সংস্থাগুলিও উপকৃত হবে এবং স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে বলে মত প্রকাশ করা হয়। সরকারের বক্তব্য, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান একে অপরের পরিপূরক। তাই শিল্পের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান জেলার মতো শিল্পসমৃদ্ধ এলাকায় নতুন বিনিয়োগ এলে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বৃদ্ধি পাবে। পরিবহণ, নির্মাণ, পরিষেবা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন শিল্প মহলের একাংশ। সরকারি সূত্রের দাবি, আগামী দিনে আরও একাধিক বড় শিল্প প্রকল্পের ঘোষণা হতে পারে। বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। সেই সঙ্গে শিল্প স্থাপনের জন্য জমি, পরিকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করার কাজও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে দুর্গাপুরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে শিল্পায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে রাজ্য সরকার। শিল্পপতি এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে পশ্চিম বর্ধমানকে আবারও রাজ্যের অন্যতম প্রধান শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চাইছে প্রশাসন।
