বেনাচিতি সবজি বাজারে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের হানা !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : রবিবার সকাল। সপ্তাহান্তের ছুটির দিন হওয়ায় অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেকটাই বেশি ভিড় দুর্গাপুরের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি ও খুচরো বাজার বেনাচিতিতে। সকাল থেকেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, শাকসবজি, মাছ, মাংস এবং ফল কিনতে ভিড় জমিয়েছেন অসংখ্য ক্রেতা। ঠিক সেই সময়ই বাজারে হঠাৎ পৌঁছে যায় এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের একটি বিশেষ দল। প্রশাসনের এই আকস্মিক অভিযান ঘিরে মুহূর্তের মধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাজার চত্বরে। সম্প্রতি বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও সবজির দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের একাংশের অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের তুলনায় বেশি দামে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই রবিবার সকালে বেনাচিতি বাজারে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। এদিন সকালেই প্রশাসনের আধিকারিকরা বাজারে পৌঁছে একের পর এক দোকান পরিদর্শন শুরু করেন। সবজি, মাছ, মুদি সামগ্রী এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানে গিয়ে খতিয়ে দেখা হয় মূল্যতালিকা। কোথাও সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী মূল্যতালিকা টাঙানো রয়েছে কি না, পণ্যের প্রকৃত বিক্রয়মূল্য তালিকার সঙ্গে মিলছে কি না এবং নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে কি না, সেই বিষয়গুলি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। প্রশাসনের আধিকারিকরা শুধু মূল্যতালিকাই দেখেননি, প্রতিটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখেন। ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, নথিপত্র এবং অন্যান্য অনুমোদনের বিষয়েও প্রাথমিকভাবে নজর দেওয়া হয়। কোনও অনিয়ম চোখে পড়লে তা নথিভুক্ত করা হয় এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়। অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ওজন মাপার যন্ত্র পরীক্ষা। অনেক সময় কম ওজন দিয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই কারণেই বাজারের বিভিন্ন দোকানে ব্যবহৃত ডিজিটাল এবং ম্যানুয়াল ওজন মাপার যন্ত্র পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা। যন্ত্রগুলির বৈধতা, সরকারি সিল রয়েছে কি না এবং সঠিকভাবে ওজন দেখাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। কোথাও কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়লে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। অভিযান চলাকালীন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা। বাজারে পণ্যের বর্তমান পাইকারি মূল্য, পরিবহণ খরচ, সরবরাহের অবস্থা এবং খুচরো বাজারে দাম নির্ধারণের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, কোনওভাবেই অযৌক্তিকভাবে মূল্যবৃদ্ধি করা যাবে না এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বেনাচিতি সবজি বাজারে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের হানা !
অতিরিক্ত দাম ও কম ওজনের অভিযোগে বেনাচিতি বাজারে তল্লাশি

শুধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গেই নয়, বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন আধিকারিকরা। তাঁরা জানতে চান, বাজারে কোনও দোকানে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কি না, ক্রেতারা কোনও ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কি না এবং বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা কী। অনেক ক্রেতাই প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং নিয়মিত এই ধরনের অভিযান চালানোর দাবি জানান। এদিনের অভিযানে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ আধিকারিকরাও। বাজারে যাতে অভিযান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, সেদিকে নজর রাখেন তাঁরা। পুলিশের উপস্থিতিতে বাজারে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি এবং পুরো অভিযান শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। কেউ যদি কৃত্রিমভাবে পণ্যের দাম বাড়িয়ে মুনাফা করার চেষ্টা করেন বা সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা ব্যবসায়ীদের আরও জানিয়ে দেন, প্রত্যেক দোকানে স্পষ্টভাবে মূল্যতালিকা প্রদর্শন করতে হবে। কোনও ক্রেতা চাইলে সেই মূল্যতালিকা দেখে পণ্য কিনতে পারবেন। একইসঙ্গে ওজন মাপার যন্ত্র নিয়মিত পরীক্ষিত এবং বৈধ হতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশ জানান, তাঁরা সরকারি নির্দেশিকা মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করেন। বাজারে পণ্যের পাইকারি দামের ওপর নির্ভর করেই খুচরো মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তবে প্রশাসনের এই নজরদারি থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা কোনওভাবেই সুযোগ নিতে পারবেন না বলেও তাঁদের মত। অন্যদিকে ক্রেতাদের একাংশের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ওঠানামা করছে। তাই প্রশাসনের এই ধরনের আকস্মিক অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়াবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, শুধু বেনাচিতি বাজার নয়, আগামী দিনেও দুর্গাপুর এবং শিল্পাঞ্চলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও একই ধরনের অভিযান চালানো হবে। বাজারে যাতে কোনওভাবেই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, মজুতদারি, কম ওজন দেওয়া বা ভোক্তাদের প্রতারণার ঘটনা না ঘটে, তার জন্য নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে। সব মিলিয়ে, রবিবারের ব্যস্ত বাজারে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের এই আকস্মিক অভিযান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সাধারণ মানুষের স্বার্থে বাজারের উপর প্রশাসনের নজরদারি আরও কড়া হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং সরকারি নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনের আশা, এই ধরনের ধারাবাহিক অভিযান বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram