দুর্গাপুরের ‘রক্তচোষা’ ! গ্রেফতার ৩

তদন্ত যত এগোতে থাকে, ততই পুলিশের সন্দেহের তালিকায় উঠে আসে অমিত প্রসাদ যাদবের নাম। পুলিশের অভিযোগ, গোটা কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে ছিলেন তিনিই। তাঁর প্ররোচনা এবং পরিকল্পনার ভিত্তিতেই নাবালকদের এই কাজে যুক্ত করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে দুর্গাপুর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাদের থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, কতজন নাবালককে এইভাবে রক্তদান করানো হয়েছে, তাদের কীভাবে যোগাযোগ করা হয়েছিল, কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং এর পিছনে আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত চিত্র কী। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনের নির্দেশে এই কাজ করা হয়েছিল কি না, রক্ত সংগ্রহের পর তা কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে এবং নাবালকদের রক্তদানের বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানত কি না—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তরও খুঁজছেন তদন্তকারীরা। নাবালকদের রক্তদান করানোর অভিযোগ সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নাবালকদের ক্ষেত্রে রক্তদানের নিয়ম এবং সম্মতির বিষয়টি কীভাবে মানা হয়েছিল। পরিবারের অনুমতি ছাড়া তাদের কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কি না, অথবা পুরো বিষয়টি তাদের কাছে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল—সেই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ঘটনায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক সদস্যের নাম জড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা। যদিও রাজনৈতিক পরিচয় কোনও অপরাধ প্রমাণ করে না এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেকেই আইনত নির্দোষ—তবে পুলিশের তদন্তে তাঁর নাম উঠে আসায় বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এদিকে, নাবালকদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে রক্তদান করানোর মতো অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য এখন এই ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র সামনে আনা। এই ঘটনায় কতজন পড়ুয়া জড়িত, তাদের বয়স কত, কারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবং রক্তদানের পর সেই রক্তের কী হয়েছিল—একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। শুক্রবার ধৃত তিনজনকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে পুলিশের তরফে তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে, শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে নাবালক স্কুল পড়ুয়াদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে রক্তদান করানোর অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। অভিযোগের সত্যতা কতটা, এই কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে আসলে কারা রয়েছে এবং এর পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। তবে তিনজনের গ্রেফতারের পর তদন্ত কোন দিকে এগোয়, আর এই ঘটনায় আরও কারও নাম সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের। নাবালকদের ব্যবহার করে এমন কোনও কর্মকাণ্ড হয়ে থাকলে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। আর পুলিশও জানিয়েছে, তদন্তে যে তথ্য উঠে আসছে, তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ করা হবে। দুর্গাপুরে নাবালকদের রক্তদান করানোর অভিযোগে তিন গ্রেফতার—এই ঘটনায় তদন্ত যত এগোবে, ততই সামনে আসতে পারে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
