This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : ফের দুর্নীতির অভিযোগ দুর্গাপুর নগর নিগমে। সরকারি গাড়ির জ্বালানি সরবরাহকে কেন্দ্র করে কাটমানি চাওয়ার অভিযোগে আপাতত কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হল নগর নিগমের এক গাড়িচালককে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগর নিগমের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, নগর নিগমের বর্জ্যবাহী গাড়ির চালক ভৈরব প্রামাণিক একটি জ্বালানি সরবরাহকারী পেট্রল পাম্পে গিয়ে নগর নিগমের সহকারী কেয়ারটেকার রবিন সামন্তের নাম ব্যবহার করেন। এরপর তিনি জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত বিষয়ে কাটমানি দাবি করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও অভিযোগের পরিমাণ বা আর্থিক অঙ্ক সম্পর্কে এখনও কোনও সরকারি তথ্য সামনে আসেনি। সূত্রের দাবি, কয়েকদিন আগেই এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি প্রথমে সীমিত পরিসরে থাকলেও পরে অভিযোগটি নগর নিগমের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নজরে আসে। এরপরই প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং ঘটনার তদন্তের দাবি ওঠে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয় তৎপরতা। দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি জানতে পেরে নগর নিগমের কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান তিনি। বিধায়কের দাবি, অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়ার পর আপাতত ভৈরব প্রামাণিককে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন না বলেই প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পরেই সামনে আসে আরও একাধিক অভিযোগ। নগর নিগমের কয়েকজন কর্মীর দাবি, ভৈরব প্রামাণিক দীর্ঘদিন ধরেই নিজের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনিক নিয়মের বাইরে গিয়ে তিনি নানা বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করতেন। কয়েকজন কর্মীর আরও দাবি, প্রাক্তন মেয়রপারিষদ লাভলি রায়ের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়েই তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের প্রভাব বজায় রেখেছিলেন। সেই প্রভাবের জোরে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। যদিও এই অভিযোগগুলির কোনও সরকারি প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। শুধু তাই নয়, এক গাড়িচালকের অভিযোগ, ভৈরব প্রামাণিকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে বা তাঁর নির্দেশ না মানলে কাজ হারানোর হুমকি দেওয়া হত। এই অভিযোগও প্রশাসনের নজরে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগকারী কর্মীরা চান, পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং সত্য সামনে আসুক।
পেট্রল পাম্পে কাটমানি দাবি ! অভিযোগে কাজ হারালেন নিগমের গাড়িচালক
তবে সমস্ত অভিযোগই সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ভৈরব প্রামাণিক। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যেই এই অভিযোগ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ভৈরব প্রামাণিক আরও বলেন, তিনি কোনও পেট্রল পাম্পে গিয়ে কাটমানি দাবি করেননি। কারও নাম ব্যবহার করে কোনও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য সামনে চলে আসবে বলেও তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, সরকারি ব্যবস্থায় দুর্নীতির কোনও স্থান নেই। সরকারি অর্থে পরিচালিত পরিষেবায় কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থে কাটমানি দাবি করে থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনওভাবেই দুর্নীতির সঙ্গে আপস করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। বিধায়কের মতে, সাধারণ মানুষের করের টাকায় সরকারি পরিষেবা পরিচালিত হয়। তাই সরকারি গাড়ির জ্বালানি সরবরাহের মতো বিষয়েও যদি অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগের। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই ঘটনার জেরে দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীদের দাবি, যদি একজন গাড়িচালকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে গোটা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সরকারি কাজে কোনও ধরনের আর্থিক অনিয়ম হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মত তাঁদের। অন্যদিকে, নগর নিগমের একাংশের কর্মীদের বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে দোষী বলা ঠিক নয়। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বক্তব্যও গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত বলে মত তাঁদের। এখন নজর তদন্তের দিকে। অভিযোগ কতটা সত্য, কাটমানির দাবি আদৌ করা হয়েছিল কি না, কারও নাম ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, এবং এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না— সেই সমস্ত বিষয়ই তদন্তে স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সরকারি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলেই।