CMERI-র বিজ্ঞানীদের সাইকেল র‍্যালিতে পরিবেশ ও মানবতার বার্তা

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : রক্ত দিন, জীবন বাঁচান— সাইকেল চালান, পৃথিবী বাঁচান। এই মানবিক ও পরিবেশবান্ধব বার্তাকে সামনে রেখে রবিবার সকালে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের সাক্ষী থাকল দুর্গাপুর। দেশের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএসআইআর-সিএমইআরআই-এর উদ্যোগে আয়োজিত হল ‘সানডে অন সাইকেল’ কর্মসূচি। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী, গবেষক, আধিকারিক এবং কর্মীরা। দুর্গাপুরের সিএসআইআর-সিএমইআরআই দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির উন্নয়ন, আধুনিক গবেষণা এবং নানান উদ্ভাবনের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে এই কেন্দ্রীয় গবেষণাগার। তবে শুধুমাত্র গবেষণাগারের চার দেওয়ালের মধ্যেই নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে এবার সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগও গ্রহণ করল প্রতিষ্ঠানটি। রবিবার সকালেই সিএমইআরআই ক্যাম্পাস চত্বর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে বিজ্ঞানী, গবেষক ও কর্মীদের উপস্থিতিতে। সকলের হাতে ছিল বিভিন্ন সচেতনতামূলক ব্যানার এবং পোস্টার। কোথাও লেখা ছিল, “রক্ত দিন, জীবন বাঁচান”, আবার কোথাও ফুটে উঠেছিল “সাইকেল চালান, পৃথিবী বাঁচান” কিংবা “দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলুন”-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এই ব্যানারগুলির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সুস্থ জীবনযাপন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক দায়বদ্ধতার গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। ফিট ইন্ডিয়া মুভমেন্টের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সাইকেল র‍্যালি শুরু হয় সিএমইআরআই ক্যাম্পাস থেকে। এরপর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অতিক্রম করে র‍্যালিটি এগিয়ে যায়। পথে সাধারণ মানুষও এই উদ্যোগকে উৎসাহের সঙ্গে স্বাগত জানান। অনেকেই থেমে র‍্যালির ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এমনকি পথচলতি মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয় এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচিকে ঘিরে।
CMERI-র বিজ্ঞানীদের সাইকেল র‍্যালিতে পরিবেশ ও মানবতার বার্তা
সাইকেলের চাকা ঘুরিয়ে পরিবেশ রক্ষার বার্তা, দুর্গাপুরে CMERI-র উদ্যোগ

আয়োজকদের মতে, বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাত্রায় নানা পরিবর্তনের কারণে শারীরিক পরিশ্রম ক্রমশ কমে যাচ্ছে। তার ফলস্বরূপ বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখ। তাই নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাইকেল চালানো যেমন শরীরকে সুস্থ রাখে, তেমনই এটি পরিবেশ দূষণ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ফলে স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ— দু’দিক থেকেই সাইকেল ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু তাই নয়, এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মতো মানবিক বিষয়কেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। “রক্ত দিন, জীবন বাঁচান” বার্তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিয়মিত রক্তদানে উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কারণ অনেক সময় রক্তের অভাবে অসংখ্য মানুষের জীবন সংকটে পড়ে। তাই সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিএসআইআর-সিএমইআরআই-এর ডিরেক্টর নরেশ চন্দ্র মুর্মু এই প্রসঙ্গে জানান, বিজ্ঞান কখনও শুধুমাত্র গবেষণাগারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সমাজকল্যাণ এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধ, সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানের মতো মানবিক কাজের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। তিনি আরও জানান, বর্তমান সময়ে পরিবেশ দূষণ একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যানবাহনের ধোঁয়া এবং বিভিন্ন কারণে বায়ুদূষণ ক্রমশ বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে সাইকেলের ব্যবহার বাড়লে একদিকে যেমন দূষণ কমবে, অন্যদিকে মানুষও সুস্থ জীবনযাপনের দিকে এগিয়ে যাবে। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারী বিজ্ঞানী, গবেষক এবং কর্মীদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ। তাঁদের বক্তব্য, গবেষণার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করাও অত্যন্ত জরুরি। এমন উদ্যোগের মাধ্যমে যদি কয়েকজন মানুষও সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত হন কিংবা রক্তদানের মতো মহৎ কাজে এগিয়ে আসেন, তাহলেই এই কর্মসূচির সার্থকতা মিলবে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র সরকারি প্রচার নয়, সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পায় এবং সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনের পথে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। সব মিলিয়ে, রবিবার সকালে সিএসআইআর-সিএমইআরআই-এর ‘সানডে অন সাইকেল’ কর্মসূচি শুধু একটি সাইকেল র‍্যালিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং সুস্থ জীবনযাপন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবতার বার্তা নিয়ে এটি হয়ে উঠেছে এক সামাজিক সচেতনতার অনন্য উদাহরণ। বিজ্ঞান ও সমাজকল্যাণ যে একে অপরের পরিপূরক, সেই বার্তাই আবারও তুলে ধরল দুর্গাপুরের এই ঐতিহ্যবাহী গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram