স্থানীয়দের নিয়োগে এক মাসের আলটিমেটাম বিজেপি বিধায়কের !

স্থানীয় বেকার যুবকদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে লক্ষ্মণ ঘড়ুই বলেন, “দুর্গাপুরের ছেলে-মেয়েরা যদি যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পায়, আর বাইরের লোক এসে চাকরি করে, তাহলে সেটা অন্যায়। আমরা চাই শিল্প হোক, কারখানা চলুক, কিন্তু স্থানীয়দের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।” কারখানা কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেন। তাঁর দাবি, যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়মিত নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁদের সরিয়ে স্থানীয় যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ করতে হবে। এখানেই থেমে থাকেননি বিধায়ক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এক মাসের মধ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে ভারতীয় মজদুর সংঘ বা বিএমএস। প্রয়োজনে কারখানার সামনে বিক্ষোভ, অবস্থান এবং গণআন্দোলনের পথেও হাঁটা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এই বক্তব্যের পর থেকেই শ্রমিক সংগঠন এবং শিল্প মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থান দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় ইস্যু। বহু তরুণ-তরুণী অভিযোগ করে আসছেন, স্থানীয় বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা শিল্প সংস্থাগুলিতে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। তবে শিল্প মহলের একাংশের মতে, নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতাই প্রধান বিষয় হওয়া উচিত। শুধুমাত্র স্থানীয় বা বহিরাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি অনেক সময় বিশেষ ধরনের প্রযুক্তিগত কাজের জন্য বাইরের জেলা বা রাজ্য থেকেও কর্মী আনতে হয় বলে তাঁদের দাবি। এদিকে বিধায়কের এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগ এবং পাল্টা অবস্থান নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের পর শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থান এবং স্থানীয়দের অগ্রাধিকার প্রশ্নটি আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দুর্গাপুর, আসানসোল এবং সংলগ্ন শিল্প এলাকাগুলিতে এই বিষয়টি নিয়ে জনমত তৈরির চেষ্টা শুরু হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে, সগড়ভাঙা থেকে লক্ষ্মণ ঘড়ুইয়ের এই কড়া বার্তা এখন শিল্পাঞ্চলের আলোচনার কেন্দ্রে। নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ কতটা সত্য, প্রশাসন বা কারখানা কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং এক মাস পরে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলের।
