স্থানীয়দের নিয়োগে এক মাসের আলটিমেটাম বিজেপি বিধায়কের !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক ও শ্রমিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘড়ুই। মঙ্গলবার সগড়ভাঙা এলাকার একটি বেসরকারি শিল্প কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে লোক এনে চাকরিতে নিয়োগ করা হয়েছে। অথচ এলাকার বহু যোগ্য ও শিক্ষিত যুবক-যুবতী আজও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিধায়কের বক্তব্য, দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল তৈরি হয়েছিল মূলত এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখে। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে বহু শিল্প সংস্থা নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখেনি। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বহিরাগতদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। সগড়ভাঙায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে লক্ষ্মণ ঘড়ুই বলেন, “দুর্গাপুরের হাজার হাজার শিক্ষিত যুবক-যুবতী চাকরির জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ বিভিন্ন কারখানায় নিয়োগের সময় তাঁদের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের আগে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে বাইরে থেকে লোক এনে কাজে বসানো হয়েছে। এটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি দাবি করেন, বাঁকুড়া, বীরভূম, আসানসোল, পূর্ব বর্ধমান-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষকে নিয়োগ করা হয়েছে। যদিও তিনি কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর অভিযোগ, নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। বিধায়কের আরও দাবি, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রাক্তন শাসকদলের কিছু প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা যুক্ত ছিলেন। তাঁদের সুপারিশ এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই বহু নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও নথি বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি বিধায়ক। তবে তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, অভিযোগ যদি সত্যিই গুরুতর হয়, তাহলে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি কেন করা হচ্ছে না। অন্যদিকে বিজেপি সমর্থকদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিল্পাঞ্চলে নিয়োগ নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, বিধায়ক সেই বিষয়টিকেই সামনে এনেছেন।
স্থানীয়দের নিয়োগে এক মাসের আলটিমেটাম বিজেপি বিধায়কের !
চাকরি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, সরব লক্ষ্মণ ঘড়ুই

স্থানীয় বেকার যুবকদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে লক্ষ্মণ ঘড়ুই বলেন, “দুর্গাপুরের ছেলে-মেয়েরা যদি যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পায়, আর বাইরের লোক এসে চাকরি করে, তাহলে সেটা অন্যায়। আমরা চাই শিল্প হোক, কারখানা চলুক, কিন্তু স্থানীয়দের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।” কারখানা কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেন। তাঁর দাবি, যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়মিত নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁদের সরিয়ে স্থানীয় যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ করতে হবে। এখানেই থেমে থাকেননি বিধায়ক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এক মাসের মধ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে ভারতীয় মজদুর সংঘ বা বিএমএস। প্রয়োজনে কারখানার সামনে বিক্ষোভ, অবস্থান এবং গণআন্দোলনের পথেও হাঁটা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এই বক্তব্যের পর থেকেই শ্রমিক সংগঠন এবং শিল্প মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থান দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় ইস্যু। বহু তরুণ-তরুণী অভিযোগ করে আসছেন, স্থানীয় বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা শিল্প সংস্থাগুলিতে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। তবে শিল্প মহলের একাংশের মতে, নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতাই প্রধান বিষয় হওয়া উচিত। শুধুমাত্র স্থানীয় বা বহিরাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি অনেক সময় বিশেষ ধরনের প্রযুক্তিগত কাজের জন্য বাইরের জেলা বা রাজ্য থেকেও কর্মী আনতে হয় বলে তাঁদের দাবি। এদিকে বিধায়কের এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগ এবং পাল্টা অবস্থান নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের পর শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থান এবং স্থানীয়দের অগ্রাধিকার প্রশ্নটি আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দুর্গাপুর, আসানসোল এবং সংলগ্ন শিল্প এলাকাগুলিতে এই বিষয়টি নিয়ে জনমত তৈরির চেষ্টা শুরু হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে, সগড়ভাঙা থেকে লক্ষ্মণ ঘড়ুইয়ের এই কড়া বার্তা এখন শিল্পাঞ্চলের আলোচনার কেন্দ্রে। নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ কতটা সত্য, প্রশাসন বা কারখানা কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং এক মাস পরে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলের।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram