পাট্টা বিতর্কে তৃণমূল কর্মীকে ডিমের অমলেট খাওয়াল বিজেপি !

পরে ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। হাতে পাট্টার ফর্ম এবং ঝাঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিও তোলেন তাঁরা। স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও এই বিক্ষোভে যোগ দেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি সুযোগ-সুবিধার নাম করে সাধারণ মানুষের আবেগ এবং অসহায়তার সুযোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা। এদিকে, অভিযোগের মুখে বিদায়ী কাউন্সিলর শিপল সাহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। ফলে ক্ষুব্ধ মানুষজন তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সুকুমার চক্রবর্তীর কাছে জবাব চাইতে যান। এরপরই ঘটে অভিনব প্রতিবাদের ঘটনা। সুকুমার চক্রবর্তীকে একটি চেয়ারে বসিয়ে তাঁকে প্রতীকীভাবে ডিমের অমলেট খাওয়ানো হয়। স্থানীয়দের বক্তব্য, এটি কোনও ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং তাঁদের ক্ষোভ এবং প্রতিবাদের একটি প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ। ডিম ছোড়া বা হিংসাত্মক কোনও পথ বেছে না নিয়ে ব্যতিক্রমী উপায়ে তাঁরা প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছেন। এই ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এই ধরনের অভিনব প্রতিবাদকে সমর্থন জানালেও, আবার অনেকেই বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। অন্যদিকে, তৃণমূল কর্মী সুকুমার চক্রবর্তীর বক্তব্য, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি দাবি করেন, জমির পাট্টা সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত উত্তর দিতে পারবেন একমাত্র সংশ্লিষ্ট বিদায়ী কাউন্সিলর শিপল সাহা। তিনি নিজে এই বিষয়ে কিছু জানেন না বলেই দাবি করেছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, এত বছর ধরে অপেক্ষা করার পরও যখন কোনও সমাধান মেলেনি, তখন বাধ্য হয়েই তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক এবং যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়তে শুরু করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের নাম করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে জমির পাট্টা পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগ এবং সেই অভিযোগকে ঘিরে তৃণমূল কর্মীকে ডিমের অমলেট খাইয়ে অভিনব প্রতিবাদের ঘটনা দুর্গাপুর জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এখন সকলের নজর প্রশাসনের দিকে। অভিযোগের সত্যতা কতটা, আদৌ কোনও তদন্ত হবে কিনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ তাঁদের টাকা ফেরত পাবেন কিনা, সেই উত্তরই খুঁজছেন এলাকার বাসিন্দারা।
