দুর্গাপুরে এখনও সরেনি ‘বিশ্ববাংলা’র ‘ব’ লোগো, সরব বিজেপি

অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত এডিডিএ বা জেলা প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে বিজেপির অভিযোগের জবাব কী হবে বা প্রশাসনের অবস্থান কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রশাসনের বক্তব্য সামনে এলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, সরকারি সম্পত্তিতে কোন লোগো থাকবে, তা সরকারের নীতিগত বিষয়। তবে যদি কোনও নতুন নির্দেশ কার্যকর হয়ে থাকে, তাহলে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত। আবার অনেকের মতে, শহরের উন্নয়ন, রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি ও নাগরিক পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি প্রতীক, লোগো বা ব্র্যান্ডিংকে কেন্দ্র করে বিতর্ক নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিবর্তনের পর সরকারি প্রকল্প, ভবন, রাস্তা কিংবা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নাম ও প্রতীক পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ দেখা গিয়েছে। দুর্গাপুরের এই ঘটনাও সেই বিতর্ককে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। বিজেপি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানাবে। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও হাঁটতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দল। তাদের বক্তব্য, যদি রাজ্যের অন্যান্য জেলায় সরকারি নির্দেশ কার্যকর হতে পারে, তাহলে দুর্গাপুরে কেন তা হবে না—এই প্রশ্নের উত্তর প্রশাসনকেই দিতে হবে। তবে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, সরকারি সম্পত্তিতে কোনও পরিবর্তন আনতে গেলে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজের ওপরও অনেক সময় নির্ভর করে এই ধরনের পরিবর্তন। ফলে কোনও এলাকায় কাজ শেষ হয়ে গেলেও অন্য কোথাও কিছুটা সময় লাগতেই পারে। যদিও এই বিষয়ে সরকারি স্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ সরকারি প্রতীক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থান প্রায়ই ভিন্ন হয়ে থাকে। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে এবং সরকারি নির্দেশ সর্বত্র সমানভাবে কার্যকর করতে হবে। অন্যদিকে প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া না আসা পর্যন্ত এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ডিএমসি মোড়ে থাকা ‘বিশ্ববাংলা’র ‘ব’ লোগো অপসারণ করা হবে কি না, বা এ বিষয়ে কোনও নতুন নির্দেশ জারি হবে কি না, সেটাই এখন দেখার। একইসঙ্গে বিজেপির অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন বা এডিডিএ কী ব্যাখ্যা দেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুরে ‘বিশ্ববাংলা’র ‘ব’ লোগোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্ক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে বিজেপির অভিযোগ, অন্যদিকে প্রশাসনের নীরবতা—এই দুইয়ের মাঝে বিষয়টি এখন জনমনে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে প্রশাসনের পদক্ষেপই ঠিক করবে এই বিতর্কের পরবর্তী গতিপথ।
