দুর্গাপুরে এখনও সরেনি ‘বিশ্ববাংলা’র ‘ব’ লোগো, সরব বিজেপি

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : রাজ্যের একাধিক সরকারি দপ্তর, রাস্তা এবং সরকারি সম্পত্তি থেকে ‘বিশ্ববাংলা’র ‘ব’ লোগো অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই আবহেই পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে এই লোগো এখনও বহাল রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি। শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সিটি সেন্টারের ডিএমসি মোড়ে এখনও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে ‘বিশ্ববাংলা’র ‘ব’ প্রতীক। এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকা শহরের অন্যতম প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন বহু মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। সেই ব্যস্ত মোড়েই সরকারি পরিকাঠামোর উপর এখনও ‘বিশ্ববাংলা’র ‘ব’ লোগো দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ বিজেপির। দলের দাবি, রাজ্যের অন্যান্য জেলায় সরকারি সম্পত্তি থেকে এই প্রতীক অপসারণের কাজ অনেকটাই এগিয়ে গেলেও দুর্গাপুরে সেই কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। বিজেপির অভিযোগ, এই বিলম্ব নিছক প্রশাসনিক গাফিলতি নয়। তাদের দাবি, দুর্গাপুর-আসানসোল উন্নয়ন পর্ষদ বা এডিডিএ-র একাংশ এখনও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে না। সেই কারণেই সরকারি নির্দেশ বাস্তবায়নে অযথা দেরি হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের সপক্ষে কোনও নথি প্রকাশ করেনি বিজেপি। এই ইস্যুতে বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি স্থাপনা থেকে ‘বিশ্ববাংলা’র প্রতীক সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকারি দপ্তর এবং সরকারি সম্পত্তিতে অশোক স্তম্ভের প্রতীক ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, হয়তো সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীরা অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় দুর্গাপুরে এখনও সেই পরিবর্তনের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। তবে দ্রুত এই লোগো অপসারণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। বিজেপির আরও বক্তব্য, সরকারি সম্পত্তি কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক বহন করতে পারে না। সরকারি স্থাপনা এমন হওয়া উচিত যা নিরপেক্ষ প্রশাসনের ভাবমূর্তি তুলে ধরে। সেই কারণেই যেখানে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেখানে সব জেলায় সমানভাবে তা কার্যকর করা উচিত বলে দাবি তাদের।
দুর্গাপুরে এখনও সরেনি ‘বিশ্ববাংলা’র ‘ব’ লোগো, সরব বিজেপি
‘বিশ্ববাংলা’র ‘ব’ লোগো নিয়ে বিতর্ক, প্রশাসনকে কাঠগড়ায় বিজেপি

অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত এডিডিএ বা জেলা প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে বিজেপির অভিযোগের জবাব কী হবে বা প্রশাসনের অবস্থান কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রশাসনের বক্তব্য সামনে এলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, সরকারি সম্পত্তিতে কোন লোগো থাকবে, তা সরকারের নীতিগত বিষয়। তবে যদি কোনও নতুন নির্দেশ কার্যকর হয়ে থাকে, তাহলে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত। আবার অনেকের মতে, শহরের উন্নয়ন, রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি ও নাগরিক পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি প্রতীক, লোগো বা ব্র্যান্ডিংকে কেন্দ্র করে বিতর্ক নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিবর্তনের পর সরকারি প্রকল্প, ভবন, রাস্তা কিংবা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নাম ও প্রতীক পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ দেখা গিয়েছে। দুর্গাপুরের এই ঘটনাও সেই বিতর্ককে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। বিজেপি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানাবে। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও হাঁটতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দল। তাদের বক্তব্য, যদি রাজ্যের অন্যান্য জেলায় সরকারি নির্দেশ কার্যকর হতে পারে, তাহলে দুর্গাপুরে কেন তা হবে না—এই প্রশ্নের উত্তর প্রশাসনকেই দিতে হবে। তবে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, সরকারি সম্পত্তিতে কোনও পরিবর্তন আনতে গেলে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজের ওপরও অনেক সময় নির্ভর করে এই ধরনের পরিবর্তন। ফলে কোনও এলাকায় কাজ শেষ হয়ে গেলেও অন্য কোথাও কিছুটা সময় লাগতেই পারে। যদিও এই বিষয়ে সরকারি স্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ সরকারি প্রতীক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থান প্রায়ই ভিন্ন হয়ে থাকে। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে এবং সরকারি নির্দেশ সর্বত্র সমানভাবে কার্যকর করতে হবে। অন্যদিকে প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া না আসা পর্যন্ত এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ডিএমসি মোড়ে থাকা ‘বিশ্ববাংলা’র ‘ব’ লোগো অপসারণ করা হবে কি না, বা এ বিষয়ে কোনও নতুন নির্দেশ জারি হবে কি না, সেটাই এখন দেখার। একইসঙ্গে বিজেপির অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন বা এডিডিএ কী ব্যাখ্যা দেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুরে ‘বিশ্ববাংলা’র ‘ব’ লোগোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্ক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে বিজেপির অভিযোগ, অন্যদিকে প্রশাসনের নীরবতা—এই দুইয়ের মাঝে বিষয়টি এখন জনমনে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে প্রশাসনের পদক্ষেপই ঠিক করবে এই বিতর্কের পরবর্তী গতিপথ।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram