জাতীয় সড়কে নিষেধাজ্ঞা অমান্য, দাপিয়ে চলছে অটো-টোটো !

অন্যদিকে অটো-টোটো চালকদেরও যুক্তি থাকতে পারে, স্থানীয় যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই যানগুলির উপর বহু মানুষ নির্ভরশীল। গ্রামের সঙ্গে শহর, বাজার কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ কেন্দ্রগুলির যোগাযোগের ক্ষেত্রে তিন চাকার যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে কোথায় চলাচল করা যাবে এবং কোথায় যাবে না—এই বিষয়ে স্পষ্ট ও কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি। কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের সুবিধার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ বা চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেয়ে দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই ব্যবস্থা করাই সবচেয়ে জরুরি। প্রশাসনের সতর্কবার্তার মূল উদ্দেশ্যও সেটাই। জাতীয় সড়কে যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো। প্রশ্ন হল, সতর্কবার্তা যদি কার্যকর না হয়, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী? শুধু ঘোষণা কিংবা প্রচার করে কি এই সমস্যা সমাধান সম্ভব? নাকি এবার মাঠে নেমে আরও কড়া নজরদারি চালাতে হবে? নিয়ম ভাঙলে জরিমানা, যান আটক কিংবা আইনি পদক্ষেপের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেদিকেও তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের মতো ব্যস্ত এলাকায় জাতীয় সড়কের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন। শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও এই সড়কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তায় একটি ছোট ভুলও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই শুধু অটো-টোটো চালকদের সচেতন করলেই হবে না। যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে। নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে গাড়ি থামানো বা ওঠানামা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। চালকদেরও মনে রাখতে হবে, যাত্রী পাওয়ার জন্য কয়েক সেকেন্ড সময় বাঁচানো কখনওই একটি মানুষের জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান নয়। একইসঙ্গে প্রশাসনের কাছেও রয়েছে বড় দায়িত্ব। নিষেধাজ্ঞা জারি করার পাশাপাশি সেই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তার উপর নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। জাতীয় সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলিতে নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি চালানো গেলে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠছে আরও একটি—কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি তার আগেই কঠোর পদক্ষেপ করা হবে? কারণ দুর্ঘটনার পর তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা—সবই করা যায়। কিন্তু চলে যাওয়া প্রাণ ফিরিয়ে আনা যায় না। তাই জাতীয় সড়কে অটো-টোটোর অবাধ চলাচল নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, সেটি শুধু যান চলাচলের নিয়ম ভাঙার প্রশ্ন নয়। এটি সরাসরি সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। একদিকে দ্রুতগতির ভারী যান, অন্যদিকে ধীরগতির তিন চাকার যান। তার সঙ্গে আচমকা লেন পরিবর্তন, রাস্তার উপর যাত্রী ওঠানামা এবং অনিয়ন্ত্রিত ভাবে থামার প্রবণতা—সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য এক বিপজ্জনক পরিস্থিতি। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের দুর্গাপুর ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু সেই সতর্কবার্তার পরেও যদি একই ছবি দেখা যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—নিষেধাজ্ঞা কি শুধুই কাগজে-কলমে, নাকি বাস্তবেও তার প্রয়োগ হবে? এখন নজর ট্রাফিক পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। দুর্ঘটনা ঘটার আগে যদি নিয়ম মানানো যায়, তাহলেই সড়ক নিরাপত্তার উদ্দেশ্য সফল হবে। আর সেই কারণেই জাতীয় সড়কে অটো-টোটোর চলাচল নিয়ে এবার আরও কড়া নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা আছে, সতর্কবার্তাও রয়েছে। কিন্তু রাস্তায় ছবিটা যদি না বদলায়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—আর কতদিন এই ঝুঁকি নিয়ে চলবে অটো-টোটো? আর বড় কোনও দুর্ঘটনার আগেই কি ঘুম ভাঙবে প্রশাসনের ?
