জাতীয় সড়কে নিষেধাজ্ঞা অমান্য, দাপিয়ে চলছে অটো-টোটো !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : জাতীয় সড়ক। যেখানে প্রতিমুহূর্তে ছুটে চলেছে দ্রুতগতির পণ্যবাহী লরি, বাস, ট্রাক-সহ অসংখ্য ভারী যান। কয়েক সেকেন্ডের অসতর্কতাও সেখানে ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। আর সেই ব্যস্ত জাতীয় সড়কেই যদি অবাধে চলাচল করে ধীরগতির অটো ও টোটো, তাহলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা যে কয়েক গুণ বেড়ে যায়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্কবার্তা। জাতীয় সড়কে তিন চাকার যান চলাচল নিয়ে নিষেধাজ্ঞার কথাও জানানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র যেন অন্য কথাই বলছে। নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েই ব্যস্ত জাতীয় সড়কে যাত্রী নিয়ে ছুটে চলেছে অটো এবং টোটো। ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—প্রশাসনের এত সতর্কবার্তার পরেও কীভাবে জাতীয় সড়কে চলছে এই তিন চাকার যান? কোথায় নজরদারির ঘাটতি? আর কোনও দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কি আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে? আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের দুর্গাপুর ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জাতীয় সড়কে অটো-টোটো চলাচল নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ব্যস্ত জাতীয় সড়কে তিন চাকার যান চলাচল না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, সেই নির্দেশের পরেও ছবিটা খুব একটা বদলায়নি। দিনের ব্যস্ত সময়ে জাতীয় সড়কের উপর দিয়েই যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে অটো এবং টোটোকে। কখনও রাস্তার এক লেনে ধীরগতিতে এগিয়ে চলেছে এই যান, কখনও আবার যাত্রী ওঠানো বা নামানোর জন্য আচমকাই থেমে যাচ্ছে। আর ঠিক তখনই পিছন থেকে ছুটে আসছে দ্রুতগতির বাস, লরি কিংবা অন্য ভারী যান। একটি ছোট তিন চাকার গাড়ি এবং একটি ভারী পণ্যবাহী লরির মধ্যে সংঘর্ষ হলে পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। জাতীয় সড়কের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল গাড়ির গতি এবং যানবাহনের চাপ। দিনের বিভিন্ন সময়ে এই রাস্তায় বিপুল সংখ্যায় পণ্যবাহী লরি চলাচল করে। পাশাপাশি রয়েছে দূরপাল্লার বাস, যাত্রীবাহী গাড়ি এবং অন্যান্য যানবাহন। প্রত্যেকটি গাড়ি নির্দিষ্ট গতিতে এগিয়ে চলে। এই পরিস্থিতিতে অটো বা টোটোর মতো অপেক্ষাকৃত ধীরগতির যান একই রাস্তায় চলাচল করলে স্বাভাবিকভাবেই গতি এবং নিরাপত্তার মধ্যে তৈরি হয় অসামঞ্জস্য। সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয় যখন এই তিন চাকার যান আচমকা লেন পরিবর্তন করে। কখনও যাত্রী তোলার জন্য রাস্তার একপাশ থেকে অন্যপাশে চলে যাচ্ছে অটো বা টোটো। কখনও আবার সামনে থাকা কোনও যানকে পাশ কাটাতে গিয়ে হঠাৎ লেন বদল করছে। পেছন থেকে আসা ভারী যান চালক পরিস্থিতি সামলানোর সুযোগ না পেলে মুহূর্তের মধ্যেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। শুধু লেন পরিবর্তন নয়, রাস্তার উপর যাত্রী ওঠানামার বিষয়টিও বড় চিন্তার কারণ। জাতীয় সড়কের মতো ব্যস্ত রাস্তায় নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া যাত্রী ওঠানো বা নামানো বিপজ্জনক। কারণ, অটো বা টোটো থামার সঙ্গে সঙ্গে পেছনে থাকা গাড়িকে আচমকা ব্রেক করতে হয়। আর ভারী গাড়ির ক্ষেত্রে সেই মুহূর্তের ব্রেকিং দূরত্বই অনেক সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, অনেক সময় অটো-টোটো চালকরা যাত্রী পাওয়ার আশায় জাতীয় সড়কের উপরেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেন। যাত্রীরা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেন এবং গাড়ি দেখলেই দ্রুত ওঠার চেষ্টা করেন। ফলে যান চলাচলের পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
জাতীয় সড়কে নিষেধাজ্ঞা অমান্য, দাপিয়ে চলছে অটো-টোটো !
নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে জাতীয় সড়কে অটো-টোটো ! দুর্ঘটনার আশঙ্কায় প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

অন্যদিকে অটো-টোটো চালকদেরও যুক্তি থাকতে পারে, স্থানীয় যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই যানগুলির উপর বহু মানুষ নির্ভরশীল। গ্রামের সঙ্গে শহর, বাজার কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ কেন্দ্রগুলির যোগাযোগের ক্ষেত্রে তিন চাকার যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে কোথায় চলাচল করা যাবে এবং কোথায় যাবে না—এই বিষয়ে স্পষ্ট ও কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি। কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের সুবিধার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ বা চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেয়ে দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই ব্যবস্থা করাই সবচেয়ে জরুরি। প্রশাসনের সতর্কবার্তার মূল উদ্দেশ্যও সেটাই। জাতীয় সড়কে যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো। প্রশ্ন হল, সতর্কবার্তা যদি কার্যকর না হয়, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী? শুধু ঘোষণা কিংবা প্রচার করে কি এই সমস্যা সমাধান সম্ভব? নাকি এবার মাঠে নেমে আরও কড়া নজরদারি চালাতে হবে? নিয়ম ভাঙলে জরিমানা, যান আটক কিংবা আইনি পদক্ষেপের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেদিকেও তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের মতো ব্যস্ত এলাকায় জাতীয় সড়কের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন। শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও এই সড়কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তায় একটি ছোট ভুলও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই শুধু অটো-টোটো চালকদের সচেতন করলেই হবে না। যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে। নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে গাড়ি থামানো বা ওঠানামা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। চালকদেরও মনে রাখতে হবে, যাত্রী পাওয়ার জন্য কয়েক সেকেন্ড সময় বাঁচানো কখনওই একটি মানুষের জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান নয়। একইসঙ্গে প্রশাসনের কাছেও রয়েছে বড় দায়িত্ব। নিষেধাজ্ঞা জারি করার পাশাপাশি সেই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তার উপর নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। জাতীয় সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলিতে নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি চালানো গেলে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠছে আরও একটি—কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি তার আগেই কঠোর পদক্ষেপ করা হবে? কারণ দুর্ঘটনার পর তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা—সবই করা যায়। কিন্তু চলে যাওয়া প্রাণ ফিরিয়ে আনা যায় না। তাই জাতীয় সড়কে অটো-টোটোর অবাধ চলাচল নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, সেটি শুধু যান চলাচলের নিয়ম ভাঙার প্রশ্ন নয়। এটি সরাসরি সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। একদিকে দ্রুতগতির ভারী যান, অন্যদিকে ধীরগতির তিন চাকার যান। তার সঙ্গে আচমকা লেন পরিবর্তন, রাস্তার উপর যাত্রী ওঠানামা এবং অনিয়ন্ত্রিত ভাবে থামার প্রবণতা—সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য এক বিপজ্জনক পরিস্থিতি। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের দুর্গাপুর ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু সেই সতর্কবার্তার পরেও যদি একই ছবি দেখা যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—নিষেধাজ্ঞা কি শুধুই কাগজে-কলমে, নাকি বাস্তবেও তার প্রয়োগ হবে? এখন নজর ট্রাফিক পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। দুর্ঘটনা ঘটার আগে যদি নিয়ম মানানো যায়, তাহলেই সড়ক নিরাপত্তার উদ্দেশ্য সফল হবে। আর সেই কারণেই জাতীয় সড়কে অটো-টোটোর চলাচল নিয়ে এবার আরও কড়া নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা আছে, সতর্কবার্তাও রয়েছে। কিন্তু রাস্তায় ছবিটা যদি না বদলায়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—আর কতদিন এই ঝুঁকি নিয়ে চলবে অটো-টোটো? আর বড় কোনও দুর্ঘটনার আগেই কি ঘুম ভাঙবে প্রশাসনের ?

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram