ঢোকেনি 'অন্নপূর্ণা'র টাকা, দুর্গাপুর SDO অফিসে মহিলাদের ক্ষোভ !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : অন্নপূর্ণা যোজনার অনুদানের টাকা এখনও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি—এই অভিযোগে মহকুমা শাসক বা SDO দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে সামিল হলেন বহু মহিলা উপভোক্তা। শনিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক মহিলা SDO অফিস চত্বরে জড়ো হন। হাতে আবেদনপত্র, নথিপত্র এবং ব্যাংকের কাগজপত্র নিয়ে তাঁরা প্রশাসনের কাছে জবাব দাবি করেন। কিছু সময়ের জন্য দপ্তর চত্বরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উপভোক্তাদের একটাই দাবি—যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অনুদানের টাকা জমা পড়ল না, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাঁরা সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি, পরিচয়পত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। আবেদন প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ করেছেন। কিন্তু এতদিন কেটে গেলেও তাঁদের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা আসেনি। এতে চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন বহু পরিবার। মহিলাদের অভিযোগ, শুধুমাত্র টাকা না পাওয়াই নয়, অনলাইনে আবেদনপত্রের বর্তমান অবস্থা বা স্ট্যাটাস দেখার সময় অনেকের ক্ষেত্রেই ‘বাতিল’ বা ‘Rejected’ দেখানো হচ্ছে। কিন্তু কী কারণে আবেদন বাতিল করা হয়েছে, সেই বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট কারণ বা ব্যাখ্যা জানানো হয়নি। ফলে তাঁরা বুঝতেই পারছেন না কোথায় ভুল হয়েছে কিংবা কীভাবে সমস্যার সমাধান করবেন। শনিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন গ্রাম ও এলাকা থেকে বহু মহিলা এসডিও দপ্তরে এসে ভিড় জমান। কেউ হাতে আবেদনপত্র, কেউ আবার ব্যাংকের পাসবই নিয়ে হাজির হন। প্রশাসনের কাছে তাঁরা জানতে চান, কেন তাঁদের আবেদন বাতিল দেখানো হচ্ছে এবং কবে তাঁরা প্রাপ্য অর্থ পাবেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক মহিলা জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তার আশায় তাঁরা আবেদন করেছিলেন। অনেকেই আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের সদস্য। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, খাদ্যসামগ্রী কেনা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে এই অনুদানের উপর নির্ভর করছিলেন। কিন্তু টাকা না পাওয়ায় তাঁদের সমস্যার পরিমাণ আরও বেড়েছে। উপভোক্তাদের অভিযোগ, সমস্যার সমাধানের আশায় তাঁরা এদিন এসডিও অফিসে গেলেও সেখান থেকেও কোনও স্পষ্ট উত্তর পাননি। বরং তাঁদের জানানো হয়েছে, আগামী ১০ তারিখের পর আবার আবেদনপত্রের স্ট্যাটাস দেখে নিতে। এই উত্তরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার পরও যদি আবার অপেক্ষা করতে বলা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন ?
ঢোকেনি 'অন্নপূর্ণা'র টাকা, দুর্গাপুর SDO অফিসে মহিলাদের ক্ষোভ !
আবেদন ‘বাতিল’, টাকা নেই ! SDO অফিসে মহিলাদের প্রতিবাদ

মহিলাদের আরও দাবি, তাঁরা বারবার সরকারি দপ্তরে গিয়েও কোনও সুরাহা পাচ্ছেন না। এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে। অথচ কোথাও থেকে সমস্যার নির্দিষ্ট সমাধান মিলছে না। এতে সময় ও অর্থ—দুই-ই নষ্ট হচ্ছে। অনেকেই দিনমজুর পরিবারের সদস্য হওয়ায় কাজ ছেড়ে দপ্তরে আসতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, যদি আবেদনপত্রে কোনও ত্রুটি থেকে থাকে, তাহলে তা লিখিতভাবে জানানো উচিত ছিল। অথবা আবেদন সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কোনও কারণ না জানিয়েই আবেদন বাতিল দেখানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে দাবি তাঁদের। এদিন দপ্তরের সামনে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের তালিকা পুনরায় যাচাই করার দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, প্রকৃত ও যোগ্য আবেদনকারীদের কোনওভাবেই বঞ্চিত করা উচিত নয়। মহিলারা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, সমস্ত আবেদনপত্র নতুন করে খতিয়ে দেখে যাঁরা প্রকৃত উপভোক্তা, তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দ্রুত অনুদানের টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক। একইসঙ্গে যাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কারণ স্পষ্টভাবে জানিয়ে প্রয়োজনে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ারও দাবি তোলেন তাঁরা। স্থানীয়দের একাংশের মতে, সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সময়মতো মানুষের কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি। কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা, তথ্যগত ত্রুটি বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যদি যোগ্য মানুষ বঞ্চিত হন, তাহলে তা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। কারণ এই ধরনের প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হল আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো। যদিও এই ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিক্ষোভকারীদের দাবি অনুযায়ী, তাঁদের ১০ তারিখের পর আবেদনপত্রের স্ট্যাটাস আবার দেখতে বলা হয়েছে। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান কবে হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও আশ্বাস মেলেনি। সব মিলিয়ে, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে এসডিও অফিসের সামনে মহিলাদের এই বিক্ষোভ প্রশাসনের সামনে এক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে, প্রশাসন আবেদনপত্রগুলি পুনরায় যাচাই করে প্রকৃত উপভোক্তাদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। একইসঙ্গে আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া হয় কি না, সেদিকেও তাকিয়ে রয়েছেন উপভোক্তারা।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram