তোলা না দেওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স চালককে 'মারধর' ! অভিযুক্ত প্রাক্তন কাউন্সিলর হীরালাল বাউরি

একদিকে যখন অ্যাম্বুলেন্স চালক সরাসরি মারধর এবং তোলা চাওয়ার অভিযোগ তুলছেন, অন্যদিকে সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন প্রাক্তন কাউন্সিলর। ফলে এই ঘটনাকে ঘিরে এখন সামনে এসেছে অভিযোগ বনাম পাল্টা দাবির ছবি। ঘটনার গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ চন্দ্র ঘোড়ুইও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এমনকি প্রয়োজন হলে অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিও জানিয়েছেন বিধায়ক। তবে কোনও অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশ তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে। অ্যাম্বুলেন্স চালকের অভিযোগ সত্যি কি না, হামলার ঘটনা কীভাবে ঘটেছিল, তোলা চাওয়ার অভিযোগের পিছনে কোনও প্রমাণ রয়েছে কি না—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখন পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে। এই ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ঘটনাস্থল হিসেবে উঠে এসেছে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনের এলাকা। যেখানে প্রতিদিন রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স চালকদেরও যাতায়াত থাকে। এমন একটি ব্যস্ত এলাকায় একজন অ্যাম্বুলেন্স চালককে মারধরের অভিযোগ ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা নিয়েও। অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই পেশার সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তির কাছ থেকে জোর করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্যি হলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। আবার অভিযোগ যদি মিথ্যা হয়, সেক্ষেত্রেও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসা জরুরি। অভিযোগকারী মানিক ধীবরের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ভয়ের কারণে তিনি টাকা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি টাকা দিতে অস্বীকার করার পরই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে অভিযুক্ত হীরালাল বাউরি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। এখন প্রশ্ন, পুলিশের তদন্তে কী উঠে আসে? অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কি ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখবে? অনলাইনে টাকা পাঠানোর যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনও নথি বা লেনদেনের তথ্য রয়েছে কি না, সেটিও কি তদন্তের আওতায় আসবে? ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যই বা কী? সব মিলিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। ফলে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, তদন্ত কোন পথে এগোয় এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়—সেদিকেই এখন নজর রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত। কারণ একদিকে যেমন একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তেমনই অভিযুক্ত প্রাক্তন কাউন্সিলর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাই তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসুক প্রকৃত সত্য। অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক—এমনটাই দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। দুর্গাপুরের গান্ধীমোড় সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স চালককে মারধরের এই অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এখন পুলিশের তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে, অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয় এবং এই ঘটনায় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়—সেটাই দেখার।
