রোগীকে না ছাড়ার অভিযোগ, হাসপাতালে ভাঙচুর !
দুর্গাপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছুটি না দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ, উত্তেজনা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
রোগী ছাড়াকে কেন্দ্র করে বিবাদ ও বিশৃঙ্খলা
ঘটনার প্রেক্ষাপট
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি দুর্গাপুরের শোভাপুর সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালের। প্রায় পনেরো দিন আগে দুর্গাপুরের অমরাবতী কলোনি সংলগ্ন ভ্যাম্বে কলোনির এক বাসিন্দা একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর পরিবারের দাবি, চিকিৎসার পর বর্তমানে রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাঁকে ছুটি দেওয়ার জন্য একাধিকবার আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি এবং কেন ছুটি দেওয়া হচ্ছে না, সেই বিষয়েও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেয়নি।
বিক্ষোভ এবং হাসপাতালে ভাঙচুর
এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই রোগীর আত্মীয়দের মধ্যে ক্ষোভ জমতে থাকে। অভিযোগ, রবিবার রাতে রোগীর আত্মীয়-পরিজন ও পরিচিতদের একটি বড় অংশ হাসপাতালে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বচসা ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর উত্তেজিত কয়েকজন ব্যক্তি হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে পড়েন এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালান। হাসপাতালের কাচ, আসবাবপত্র, কাউন্টার এবং অন্যান্য সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ক্যাপশন: বেসরকারি হাসপাতালে বিক্ষোভ থেকে ভাঙচুর, মোতায়েন র্যাফ
পুলিশি হস্তক্ষেপ এবং শুরু তদন্ত
বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ মোতায়েন
হাসপাতালের কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এবং র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় এবং হাসপাতাল চত্বরে রাতভর পুলিশ মোতায়েন রেখে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও গ্রেপ্তার
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাঁরা ঘটনার পর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যদিও তাঁদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এই ঘটনার জেরে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিষেবা কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। পুলিশের একাংশের মতে, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ এতে রোগীদের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা বিঘ্নিত হয়। ঘটনার পর হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রোগীর পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে ঠিক কী ধরনের মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
