উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : ফরিদপুর ব্লকের জেমুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জেমুয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অসিলা বিবি নামে এক মহিলা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন। শুক্রবার তিনি নিয়মিত চিকিৎসার জন্য জেমুয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান। অভিযোগ, সেখানে কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁকে বেশ কয়েক মাস নিয়মিত ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন এবং সরকারি প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে কিছু ওষুধ সরবরাহ করেন। পরিবারের দাবি, বাড়িতে ফিরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দেওয়া ওষুধ খাওয়ার পর তাঁর স্বামী শেখ ইব্রাহিম ওষুধের প্যাকেট পরীক্ষা করতে গিয়ে চমকে ওঠেন। তিনি দেখতে পান, ওষুধের গায়ে উল্লেখিত মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ, ওষুধটির মেয়াদ এক মাস আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি সামনে আসতেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। শেখ ইব্রাহিমের অভিযোগ, যদি তিনি ওষুধের মেয়াদ পরীক্ষা না করতেন, তাহলে তাঁর স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারত। এমনকি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিরও আশঙ্কা ছিল বলে দাবি পরিবারের। ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সকালে রোগীর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বহু স্থানীয় বাসিন্দা জেমুয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে জড়ো হন। তাঁরা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কীভাবে একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবন জড়িয়ে রয়েছে। সেখানে এই ধরনের চরম গাফিলতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁদের দাবি, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ !
রোগীর হাতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ! তদন্তের দাবিতে সরব স্থানীয়রা

এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা বহু মানুষ আর্থিকভাবে দুর্বল। তাঁরা চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য সম্পূর্ণভাবে সরকারি ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। সেই জায়গায় যদি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কোথায়, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। ঘটনার জেরে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। এরপর নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেয়। এই ঘটনায় তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলের একাংশও। সিপিএম নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা উচিত নয়। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত জেমুয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোনও স্বাস্থ্যকর্মী বা স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মজুত ছিল এবং কীভাবে তা রোগীর হাতে পৌঁছল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সবসময় প্রাণঘাতী না হলেও তার কার্যকারিতা অনেকাংশে কমে যেতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তা রোগীর শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যায় নিয়মিত ওষুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ঘটনার পর এলাকাবাসীদের মধ্যে আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এর আগে কতজন রোগী এই ধরনের ওষুধ পেয়েছেন এবং তাঁরা তা সেবনও করেছেন কি না। সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। বর্তমানে গোটা ঘটনার দিকে নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সেই দাবিও তুলেছেন তাঁরা। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেমুয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে ঘিরে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা শুধু একটি এলাকার নয়, বরং সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন দেখার, তদন্তে ঠিক কী তথ্য উঠে আসে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram