This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : পশ্চিমী সংস্কৃতির অনুকরণে এবার বিকল্প যৌন বিনোদনের অন্যতম ঠিকানা হয়ে উঠেছে শহর দুর্গাপুর! দুর্গাপুরের বিভিন্ন অভিজাত হোটেলের পাশাপাশি বিভিন্ন স্পা, ম্যাসাজ ও বিউটি পার্লার গুলিতে মধুচক্রের আসর বসানোর অভিযোগ নতুন নয়। মাঝেমধ্যেই পুলিশি অভিযানে ধরা পড়েছে নানান বয়সী পুরুষ ও মহিলা। তবে এবারের যৌন বিনোদনের সংজ্ঞা সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মী। এখন আর পুরুষ ও মহিলার মধ্যে যৌন মিলনের কোন ঘটনা তেমন আলোড়ন না ফেললেও এখন শহর দুর্গাপুরে নতুন সংস্কৃতি সমকামীদের অবাধ যৌন মেলামেশা। বিশুদ্ধ বাংলায় সম লিঙ্গের পুরুষ ও মহিলাদের যৌন ইচ্ছা মেটানোর আকাঙ্ক্ষাকে ‘সমকামিতা’ বলা হলেও পরিভাষায় লিঙ্গ ভেদে এদের বিভিন্ন নাম রয়েছে যেমন লেসবিয়ান, গে ইত্যাদি। ডিজিটাল দুনিয়ায় পৃথিবীর পরিসর খুবই ছোট হয়ে আসায় বিভিন্ন সোশ্যাল সাইটের ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে সমকামীরা নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন তথ্য আদান প্রদান করে থাকে। সম্প্রতি তেমনই একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার ছবি ও বিশদ তথ্য উঠে এসেছে ‘টিভি নিউজ টেন’ এর অন্তর্তদন্তে। জানা গিয়েছে বিভিন্ন হোটেলের বিলাসবহুল রুম বুক করে দু’জন পুরুষ অথবা দু’জন মহিলা সেই রুমে অবাধে যৌন মিলন ঘটিয়ে চলেছে। মাত্র কিছুদিন আগেই ‘সিমরন তামাং’ নামে এক তরুণী বিভিন্ন হোটেলে সেক্স র্যাকেটের চক্র বিস্তার করে শহরে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। সমাজের নামজাদা বহু কেষ্ট বিষ্টুই ওই সেক্স র্যাকেটের নিয়মিত খদ্দের ছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়। সিমরানের এই যৌনজাল শুধু তারকা খচিত হোটেল গুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সিটি সেন্টার, বিধান নগর সহ নানান এলাকার ফ্ল্যাট বাড়ি গুলিতেও নিয়মিত মধুচক্রের আসর বসানো হতো বলে পুলিশি রিপোর্টে জানা গিয়েছে। এবার যৌন বিনোদনের এক সম্পূর্ণ অন্য ভুবনের সন্ধান পাওয়া গেল শিল্প শহরেই। উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক বছর আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবন এলাকার দুই সমকামী তরুণী একটি মন্দিরে বিবাহ সম্পন্ন করে একে অপরের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করেন। ওই ঘটনা সামাজিক বৃত্তে দারুণভাবে আলোড়ন ফেলেছিল।
মধুচক্রের আড়ালে সমকামী পরিচয়ের অপব্যবহার ? চাঞ্চল্য শহরে
পাশাপাশি পুরুলিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বসবাসকারী দুই তরুণ মন্দিরে বিবাহ সম্পন্ন করে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। এই ধরনের ব্যতিক্রমী বিবাহ আজও আমাদের সমাজে সেভাবে স্বীকৃতি লাভ করেনি। পশ্চিমের দেশ গুলিতে এই ধরণের ঘটনা অত্যন্ত স্বাভাবিক হলেও ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে এই ধরণের যৌন জীবনকে অত্যন্ত হীন চোখে আজও দেখা হয়। ‘টিভি নিউজ টেন’ এর অন্তর্তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সমাজ মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে তুলে হোটেলের রুম বুক করে সমকামী ওই যুবকেরা। দুই পূর্ণ বয়সী যুবক এরপরই হোটেলের রুমে একজন নিজেকে সম্পূর্ণ নারীরূপে সাজিয়ে তোলেন। নারীর মতই বেশভূষা এবং কেশ বিন্যাসে সজ্জিত ওই পুরুষ পার্টনারের সঙ্গে যৌন মিলনে লিপ্ত হতে দেখা যায় অপর পার্টনারকে। এরপরই বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে তোলা সেইসব যৌনমিলনের ছবি সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চলতে থাকে ‘এক্সটর্শন’ যা এই মুহূর্তে পৃথিবী জুড়েই ‘সেক্সটর্শন’ নামেই অত্যন্ত পরিচিত হয়ে উঠেছে। সামাজিক লজ্জার ভয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ গুনাগার দিতে বাধ্য হন যৌন মিলনে অংশগ্রহণকারী ওই পুরুষ পার্টনারটি। এদিকে হোটেলে দুই পুরুষ নামধারী ব্যক্তি রুম বুক করায় কারোরই কোন সন্দেহের লেশমাত্র থাকে না। কিন্তু আসল খেলাটি শুরু হয় এর পরেই। গোপন ক্যামেরায় ওই যৌন মিলনের দৃশ্য বন্দী হয়ে যাওয়ার পরই আবার দু’জনেই পুরুষের পোশাক পরে হোটেল থেকে বেরিয়ে আসেন। সেক্ষেত্রে কারোরই কোন সন্দেহের সুযোগই থাকে না। অন্তর্তদন্তে জানা গিয়েছে, জনৈক অরিজিৎ নামে এক ব্যক্তি এই সমকামী সেক্স র্যাকেটের অন্যতম কিংপিন। তারই পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ফেলছেন সমাজের প্রতিষ্ঠিত বহু ব্যক্তিই। শেষে মান সম্মানের ভয়ে সর্বস্ব খুইয়ে আসা ব্যক্তিটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। উল্লেখ্য এক সময় পশ্চিমী সংস্কৃতিতেও সমকামিতাকে অত্যন্ত ঘৃণার চোখেই দেখা হত। সুবিখ্যাত ঔপন্যাসিক অস্কার ওয়াইল্ড থেকে শুরু করে নীল প্যাট্রিক হ্যারিস, ম্যাট বোমার, কোলম্যান ডোমিঙ্গো সহ বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তি সমকামী রূপে পরিচিত ছিলেন। বলিউডের জনপ্রিয় চিত্র পরিচালক করণ জোহর, সুশান্ত দেবজিকর, ফ্যাশন ডিজাইনার রোহিত বাল, এমনকি বাংলার জনপ্রিয় চিত্র পরিচালক প্রয়াত ঋতুপর্ণ ঘোষ সহ অনেকেই সমকামীতা নামক এক ভয়ঙ্কর মানসিক ব্যাধির শিকার হয়েছিলেন। তাঁদের জীবনের এই অন্ধকারময় দিকটি বাদ দিলে প্রত্যেকেই তাঁরা স্ব স্ব ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্ররূপে আজও মানুষের হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত। দুর্গাপুর শহর জুড়ে ডালপালা মেলে বাড়তে থাকা এই ধরণের ঘৃণ্য যৌন র্যাকেটগুলিকে অবিলম্বে সমূলে বিনাশ করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন সামাজিক মহল থেকে। কোনভাবেই এই ধরনের পশ্চিক অপসংস্কৃতিকে আমাদের জাতীয় জীবনের অঙ্গ হিসেবে দেখতে রাজি নন সমাজের শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন অসংখ্য মানুষই। তাই অবিলম্বে এই ঘৃণ্য চক্রগুলিকে শিকড় সমেত উপড়ে ফেলার দাবি উঠেছে তাঁদের পক্ষ থেকে। জানা নেই পুলিশ ও প্রশাসনের সক্রিয় তৎপরতায় এই সামাজিক ব্যাধি আদৌ সমূলে বিনাশ হবে কিনা!