মানবসেবায় অনন্য উদ্যোগ, বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা শিবিরে ‘দুর্গাপুর সনাতনী’

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : সমাজসেবা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তার মূল্য খুব বেশি হয় না। প্রকৃত সমাজসেবা তখনই সফল হয়, যখন তা সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন এনে দেয়। সেই লক্ষ্য নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে নানা সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দুর্গাপুর সনাতনী’। রবিবার সংগঠনের উদ্যোগে দুর্গাপুরের এ-জোন সেকেন্ডারি এলাকার একটি ক্লাব প্রাঙ্গনে আয়োজন করা হয় একটি বিনামূল্যের চক্ষু পরীক্ষা শিবির। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই স্বাস্থ্য শিবির চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সকাল থেকেই এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ এই শিবিরে অংশ নিতে ভিড় জমান। শিবিরে উপস্থিত অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রত্যেকের চোখের বিস্তারিত পরীক্ষা করেন। আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে চোখের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের চোখের সমস্যাও শনাক্ত করা হয়। বয়স্ক মানুষদের পাশাপাশি তরুণ-তরুণী এবং মহিলাদেরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এই শিবিরের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চশমা বিতরণ। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রায় একশো জন উপভোক্তার হাতে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অনেকেই অর্থাভাবে দীর্ঘদিন ধরে চোখের পরীক্ষা কিংবা চশমা তৈরি করতে পারেননি। তাঁদের জন্য এই উদ্যোগ কার্যত আশীর্বাদ হয়ে ওঠে। শুধু প্রাথমিক পরীক্ষা নয়, যাঁদের চোখে জটিল সমস্যা ধরা পড়েছে, তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্যও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোথায় এবং কীভাবে পরবর্তী চিকিৎসা করাতে হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। ফলে এই শিবির শুধু একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা নয়, ভবিষ্যৎ চিকিৎসার পথও সুগম করে দিয়েছে অনেকের কাছে। সংগঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা অরবিন্দ তিওয়ারি জানান, মানুষের সেবাই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য। তিনি বলেন, “দুর্গাপুর সনাতনী শুধুমাত্র একটি সংগঠন নয়, এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার নাম। সমাজের প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিশেষ করে অসহায় এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
মানবসেবায় অনন্য উদ্যোগ, বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা শিবিরে ‘দুর্গাপুর সনাতনী’
মানুষের সেবায় দুর্গাপুর সনাতনী, এ-জোনে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা শিবির

তিনি আরও জানান, সারা বছর ধরেই বিভিন্ন ধরনের সমাজসেবামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে সংগঠনটি। রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে ‘দুর্গাপুর সনাতনী’। তাঁদের মতে, সমাজের উন্নয়নে শুধুমাত্র প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকেও এগিয়ে আসতে হবে। অরবিন্দ তিওয়ারি আরও বলেন, “মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। আমরা বিশ্বাস করি, সমাজের জন্য কাজ করলে সেই কাজের প্রকৃত মূল্য মানুষের আশীর্বাদেই পাওয়া যায়। আগামী দিনেও আরও বড় পরিসরে এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।” শিবিরে আসা বহু উপভোক্তাও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান সময়ে চিকিৎসার খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে। অনেক সাধারণ মানুষের পক্ষে নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করানো কিংবা নতুন চশমা তৈরি করা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ধরনের স্বাস্থ্য শিবির তাঁদের কাছে অত্যন্ত উপকারী।  স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু চিকিৎসা পরিষেবাই দেয় না, বরং সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে যখন অন্যের পাশে দাঁড়ান, তখনই প্রকৃত অর্থে সামাজিক ঐক্য গড়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে চোখের সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টেলিভিশনের ব্যবহার, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং বয়সজনিত নানা কারণে চোখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের স্বাস্থ্য শিবির সাধারণ মানুষকে সেই সচেতনতার বার্তাও পৌঁছে দেয়। এই আয়োজনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করল ‘দুর্গাপুর সনাতনী’, সমাজের প্রতি আন্তরিক দায়বদ্ধতা থাকলে সীমিত সামর্থ্য নিয়েও বহু মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোই যে প্রকৃত ধর্ম, সেই বার্তাই আরও একবার তুলে ধরল এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি মানবিকতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও আরও বৃহত্তর পরিসরে সমাজসেবামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ‘দুর্গাপুর সনাতনী’। মানুষের সেবাই যে সর্বোচ্চ ধর্ম—সেই আদর্শকেই বাস্তবে রূপ দিয়ে এগিয়ে চলেছে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram