দুর্গাপুর 'গণধর্ষণ' কান্ডে ধৃতদের আদালতে পেশ, 'এনকাউন্টার' নিদান বিজেপি বিধায়কের !

তবে এরপরই তিনি আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে বলেন, সমাজে এ ধরনের অপরাধীদের কোনও স্থান নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই ধরনের আসামিদের যাদের সকালে জমা নিচ্ছেন, তাদের বিকেলে খরচ করে দিন।” তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের অপরাধীদের একটাই শাস্তি হওয়া উচিত, এনকাউন্টার করে মেরে দেওয়া।” বিধায়কের এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতে অপরাধের বিচার আদালতের মাধ্যমে হয় এবং শাস্তি নির্ধারণের একমাত্র অধিকার বিচারব্যবস্থার। ফলে কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতের রায়ের আগে তাকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা বা বিচারবহির্ভূত শাস্তির দাবি নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এদিন বিধায়ক সংশ্লিষ্ট হোটেলের মালিকের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, যে হোটেলে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সেই হোটেলের মালিক ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র ম্যানেজারকে গ্রেফতার করলেই দায় শেষ হয়ে যায় না। ঘটনার সঙ্গে যদি হোটেল কর্তৃপক্ষের অন্য কোনও সদস্যের যোগসূত্র থাকে, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। নির্যাতিতার বয়ান, চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তকারীরা জানতে চেষ্টা করছেন, ঘটনার আগে ও পরে অভিযুক্তদের গতিবিধি কী ছিল এবং এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না। ঘটনাটি সামনে আসার পর দুর্গাপুর শহরে ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, মহিলা সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকরা দোষীদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই বলছেন, নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি। বর্তমানে ধৃত চারজনই পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তদন্তে নতুন কোনও তথ্য উঠে আসে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে সকলের। দুর্গাপুরের বহুল আলোচিত এই ঘটনায় একদিকে যেমন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জনরোষ তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জোরালো হচ্ছে। এখন তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দুর্গাপুরবাসী।
