দুর্গাপুরে মৃত ব্যক্তির আবাসন 'দখল' !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : নিউ টাউনশিপ থানার অন্তর্গত MAMC টি-ওয়ান এলাকা। শুক্রবার সকালে এই এলাকায় তৈরি হয় রাজনৈতিক উত্তেজনা। কেন্দ্রবিন্দুতে একটি আবাসন, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা ও দখলকে ঘিরে বিতর্ক চলছে। অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দা বচন সিংয়ের মৃত্যুর পর তাঁর আবাসন দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হীরক রায়, ওরফে গেন্ডার দখলে রয়েছে। মৃতের পরিবারের দাবি, বাড়িটি তাঁদের ন্যায্য সম্পত্তি হলেও বহুবার আবেদন জানিয়েও তা ফেরত পাননি। পরিবারের অভিযোগ, শুধু প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়াই নয়, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। উল্টে বাড়ি ফেরত চাইতে গিয়ে হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। বচন সিংয়ের ছেলে দ্বারা সিং তাঁর অভিযোগ নিয়ে দুর্গাপুরের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিবারের বক্তব্য শোনার পর বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপের আশ্বাস দেন বিধায়ক। শুক্রবার সকালে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এমএএমসি টি-ওয়ান এলাকায় ওই আবাসনের সামনে পৌঁছন বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নেন তাঁরা। বিক্ষোভ বা ভাঙচুরের পরিবর্তে হাতে ছিল মিষ্টির বাক্স এবং গোলাপ ফুল। প্রতীকীভাবে অভিযুক্তকে স্বেচ্ছায় আবাসন খালি করার আহ্বান জানানো হয়। বিজেপির দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে পরিবারের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে চান। তবে শুধুমাত্র প্রতীকী আবেদনেই থেমে থাকেননি আন্দোলনকারীরা। আবাসন খালি করার জন্য সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়ি খালি না করা হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বিজেপি। এমনকি আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ‘ডিম থেরাপি’-র হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, সাত দিনের মধ্যে যদি কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ না হয়, তাহলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ জানানো হবে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে এলাকা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করলে অভিযুক্ত হীরক রায় এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে জানা যায়।
দুর্গাপুরে মৃত ব্যক্তির আবাসন 'দখল' !
MAMC টি-ওয়ানে আবাসন বিতর্ক, দখলদারকে বিজেপির কড়া হুঁশিয়ারি, অভিযুক্তকে ৭ দিনের নোটিস

যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হীরক রায়। তাঁর দাবি, তিনি কোনও বেআইনি দখলদার নন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি পরাগ বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ওই আবাসন নিয়েছেন। হীরক রায় আরও বলেন, যদি কেউ বৈধ মালিকানার নথি এবং প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র দেখাতে পারেন, তাহলে তিনি আইন মেনে আবাসন ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। অর্থাৎ বিষয়টি আদালত বা প্রশাসনিকভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার পক্ষেই তিনি মত প্রকাশ করেছেন। এদিকে, বিজেপির দাবি, মৃত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি দীর্ঘদিন ধরে অন্যায় হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, আগের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। তাই এবার তাঁরা রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিবারের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন শুরু করেছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চর্চাও শুরু হয়েছে। একপক্ষের দাবি, এটি সাধারণ একটি সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আবাসন দখল করে রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, বিষয়টি যেহেতু সম্পত্তি সংক্রান্ত, তাই সমস্ত নথি যাচাই করে দ্রুত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এতে অযথা রাজনৈতিক উত্তেজনাও কমবে। বর্তমানে গোটা ঘটনার দিকে নজর রয়েছে প্রশাসনের। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, মালিকানার দাবি এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। এদিকে, পরিবারের সদস্যদের আশা, বহুদিনের এই জটিলতার অবসান ঘটবে এবং তাঁরা তাঁদের দাবি করা আবাসন ফিরে পাবেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষও জানিয়েছে, বৈধ কাগজপত্র দেখানো হলে তারা আইন মেনেই সিদ্ধান্ত নেবে। সাত দিনের আল্টিমেটামের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার। কারণ এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর যেমন বাড়ছে, তেমনই আইনি প্রক্রিয়ার দিকেও নজর রয়েছে সকলের।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram