This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
দুর্গাপুর : ভোটের প্রাক্কালে দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের মুচিপাড়া এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনকে ঘিরে জমে উঠল রাজনৈতিক আবহ। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক দলগুলির কার্যকলাপ ও প্রচার আরও তীব্র হয়ে উঠছে। সেই প্রেক্ষাপটে শনিবার মুচিপাড়ায় এই নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। শনিবার সকালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার ফিতে কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যালয়ের সূচনা করেন। উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায়, অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের জেলা সভাপতি সঞ্জীব কুণ্ডু, পাশাপাশি এলাকার একাধিক বিশিষ্ট নেতা, কর্মী এবং সমর্থকরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার এবং স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মুচিপাড়ায় ভিড় জমাতে শুরু করেন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শ্লোগানের মাধ্যমে পরিবেশ আরও উৎসাহব্যঞ্জক হয়ে ওঠে। নতুন এই কার্যালয়কে ঘিরে তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে স্পষ্ট আশাবাদ লক্ষ্য করা যায়। তাঁদের মতে, এই কার্যালয় শুধু প্রশাসনিক বা সংগঠনিক কাজের কেন্দ্র নয়, বরং এটি হবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এখানে বসেই এলাকার সমস্যা শুনবেন নেতারা এবং তার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, “এখনই সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর। প্রতিটি ভোটারের কাছে পৌঁছতে হবে। তাঁদের সমস্যা শুনতে হবে এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ সম্পর্কে জানাতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের সরকার গত কয়েক বছরে বহু উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পগুলির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে। এখন আমাদের দায়িত্ব সেই বিষয়গুলো আরও বেশি করে মানুষের সামনে তুলে ধরা।” প্রদীপ মজুমদার দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় এলে রাজ্যের উন্নয়নের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে। তাঁর কথায়, “আমরা উন্নয়নের রাজনীতি করি। আগামী দিনে আরও বেশি কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। মানুষের আস্থা আমাদের শক্তি।”
মুচিপাড়ায় তৃণমূলের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন, ভোটের আগে প্রচারে জোর প্রদীপ মজুমদারের
এই বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি বিরোধী দল বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি শুধু বিভাজনের রাজনীতি করে। তারা মানুষের উন্নয়নের কথা ভাবে না। আমরা উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।” তৃণমূল প্রার্থীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের বাকযুদ্ধ আরও বাড়বে। অন্যদিকে, উপস্থিত অন্যান্য তৃণমূল নেতারাও দলীয় কর্মীদের সংগঠিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। জেলা সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় বলেন, “এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রত্যেককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে এবং মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।” অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের জেলা সভাপতি সঞ্জীব কুণ্ডুও দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে আমাদের সকলে মিলে কাজ করতে হবে।” স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যেও এই নতুন কার্যালয় নিয়ে যথেষ্ট উৎসাহ দেখা গেছে। তাঁদের মতে, এই কার্যালয় দলীয় কাজকর্ম পরিচালনার পাশাপাশি এলাকার মানুষের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের কার্যালয় উদ্বোধন এবং কর্মসূচি দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও একটি বার্তা পৌঁছে যায় যে দলটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। বর্তমানে দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো করে প্রচার চালাচ্ছে এবং ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে। সেই প্রেক্ষাপটে মুচিপাড়ায় তৃণমূলের এই নতুন কার্যালয় উদ্বোধন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, মুচিপাড়ার এই অনুষ্ঠান শুধু একটি কার্যালয় উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি নির্বাচনী প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখন দেখার, এই ধরনের উদ্যোগ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে ভোটের ফলাফলে। ভোটের আগে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি যে আগামী দিনে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ই নির্ধারণ করবে কে জয়ী হবে এবং কার হাতে থাকবে ক্ষমতার চাবিকাঠি।