অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম না পেয়ে ক্ষোভ, দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
আসানসোল : কুলটি বোরো অফিসে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আবেদনপত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হলেন বহু মহিলা। সকাল থেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও ফর্ম না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাঁদের। হঠাৎ করে অফলাইনে ফর্ম বিতরণ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বোরো অফিস চত্বরে তৈরি হয় উত্তেজনা ও ক্ষোভের পরিবেশ। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করায় তাঁরা চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার আশায় ভোর থেকেই কুলটি বোরো অফিসের সামনে ভিড় জমতে শুরু করে। এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মহিলা সেখানে পৌঁছন। অনেকেই সকাল সকাল বাড়ির কাজ সেরে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কেউ আবার দূরবর্তী এলাকা থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন শুধুমাত্র একটি আবেদনপত্র সংগ্রহের আশায়। প্রকল্পটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ থাকায় সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লাইনের দৈর্ঘ্যও বাড়তে থাকে। বিশেষ করে মহিলা আবেদনকারীদের সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনেই আবেদনপত্র সংগ্রহ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাঁদের জানানো হয়, আর অফলাইনে কোনও ফর্ম দেওয়া হবে না। এই ঘোষণা সামনে আসতেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কারণ তাঁদের অধিকাংশই জানতেন না যে আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনেকেই দাবি করেন, যদি আগে থেকেই বিষয়টি জানানো হত, তাহলে তাঁদের অযথা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হত না। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক মহিলা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আগের দিন তাঁর মা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লাইনে অপেক্ষা করেও কোনও ফর্ম পাননি। সেই কারণেই এদিন তিনি নিজে খুব সকালে বোরো অফিসে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর জানতে পারেন, আর অফলাইনে ফর্ম দেওয়া হবে না। এতে তাঁরা চরম অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। শুধু ওই মহিলা নন, উপস্থিত আরও বহু আবেদনকারী একই ধরনের অভিযোগ তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, এলাকার অনেক মানুষ এখনও ডিজিটাল পরিষেবার সঙ্গে পুরোপুরি অভ্যস্ত নন। বিশেষ করে বয়স্ক মহিলা এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যদের পক্ষে অনলাইন আবেদন করা সহজ নয়। ফলে অফলাইন ব্যবস্থা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোরো অফিস চত্বরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। আবেদনকারীরা জানতে চান, কেন আগাম কোনও নোটিশ ছাড়া এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। পাশাপাশি অনেকেই বিকল্প ব্যবস্থা চালুর দাবিও তোলেন।
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম না পেয়ে ক্ষোভ, দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি !
ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে, তবুও মিলল না ফর্ম ! ক্ষোভ মহিলাদের

এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিজেপি নেতা টিঙ্কু বর্মা জানান, মঙ্গলবার থেকেই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সেই কারণেই বোরো কার্যালয় থেকে অফলাইন ফর্ম বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে আবেদনপত্র শুধুমাত্র অনলাইন মাধ্যমেই জমা নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য বিজেপি কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় আবেদনপত্র পূরণের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছেন। মন্ত্রী অজয় পোদ্দারের নির্দেশেই এই সহায়তা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে এই ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ পুরোপুরি কমাতে পারেনি। তাঁদের বক্তব্য, আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে স্থানান্তর করা হলে সেই বিষয়ে আগে থেকেই প্রচার করা উচিত ছিল। অনেকেই অভিযোগ করেন, তাঁরা খবর না পাওয়ার কারণে সময়, শ্রম এবং অর্থ ব্যয় করে বোরো অফিসে এসেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আবেদন অনলাইন মাধ্যমে গ্রহণ করা হলেও গ্রামীণ এবং আধা-শহুরে এলাকায় এখনও অনেক মানুষের কাছে ইন্টারনেট পরিষেবা বা ডিজিটাল সুবিধা সহজলভ্য নয়। ফলে হঠাৎ করে অফলাইন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষ সমস্যার সম্মুখীন হন। এলাকার প্রবীণ নাগরিকদেরও অভিযোগ, অনলাইনে আবেদন করতে গেলে অনেক সময় সাইবার ক্যাফে বা অন্যের সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হয়। এতে অতিরিক্ত খরচ হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা প্রতারিতও হন। তাই অনলাইন ব্যবস্থার পাশাপাশি কিছুদিন অফলাইন পরিষেবা চালু রাখার দাবি তুলেছেন তাঁরা। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, সরকারি পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করার লক্ষ্যেই অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে এই ধরনের পরিবর্তনের আগে সাধারণ মানুষকে পর্যাপ্তভাবে অবগত করা জরুরি। না হলে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। মঙ্গলবারের ঘটনায় সেটাই স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ যাঁরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁদের অধিকাংশই জানতেন না যে আবেদনপত্র আর অফলাইনে দেওয়া হবে না। ফলে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে বহু মহিলাকে। ঘটনার পর কুলটি এলাকায় অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, আবেদন করার ক্ষেত্রে যাতে কোনও জটিলতা না থাকে এবং প্রকৃত উপভোক্তারা যাতে সহজেই সুবিধা পান, সেই বিষয়টি প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। কবে থেকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে আবেদন প্রক্রিয়া চলবে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে কোনও বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হবে কি না, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন কুলটির বাসিন্দারা। তবে মঙ্গলবারের এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতি থাকলে সাধারণ মানুষকেই তার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram