DVC-র সোলার প্যানেল প্রকল্প ঘিরে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
আসানসোল : শুরু হওয়ার আগেই বাধার মুখে পড়ল ডিভিসির বহু প্রতীক্ষিত সোলার প্যানেল প্রকল্প। পশ্চিম বর্ধমান জেলার সিদাবাড়ি এলাকায় প্রায় ২৩০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে কন্টেনার বোঝাই দুটি বিশাল ট্রেলার গ্রামে প্রবেশ করার আগেই রাস্তা আটকে দেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভের জেরে থমকে যায় যান চলাচল এবং সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পের কাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে তাঁদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি। গ্রামবাসীদের দাবি, প্রকল্পের প্রভাব কী হবে, কারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, কী ধরনের পুনর্বাসন বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে—এসব বিষয়ে কেউ তাঁদের সঙ্গে কথা বলেনি। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, যে জলাশয়কে কেন্দ্র করে বহু বছর ধরে এলাকার অসংখ্য মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন, সেই জলাশয়ের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই জলাশয়ে মাছ ধরা বহু পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। শুধু মাছ ধরা নয়, নৌকা চালানো, পর্যটকদের নিয়ে ঘোরানো এবং শীতকালে পিকনিকের মরসুমে ব্যবসা করেও বহু পরিবার সারা বছরের রোজগার করেন। তাঁদের আশঙ্কা, সোলার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই সমস্ত আয়ের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে বিপদের মুখে পড়বে বহু পরিবারের সংসার। শুধু জলাশয় নয়, সংলগ্ন এলাকার ব্যক্তিগত জমি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে প্রকল্প সম্প্রসারণের জন্য ব্যক্তিগত জমিও অধিগ্রহণ করা হতে পারে, যার ফলে কৃষিকাজ এবং বসবাস—দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীরা কয়েকটি স্পষ্ট দাবি সামনে এনেছেন।
DVC-র সোলার প্যানেল প্রকল্প  ঘিরে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ
২৩০০ কোটির প্রকল্পে গ্রামবাসীদের আপত্তি ! আলোচনার দাবিতে অবরোধ

তাঁদের প্রথম দাবি, প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগে ডিভিসির কর্তৃপক্ষকে গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। দ্বিতীয় দাবি, প্রকল্পের ফলে যাঁদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাঁদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের রূপরেখা প্রকাশ করতে হবে। এছাড়াও গ্রামবাসীদের অন্যতম প্রধান দাবি, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থেকে অন্তত একজনকে স্থায়ী চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে। স্থানীয়দের বক্তব্য, শুধু উন্নয়নের কথা বললেই হবে না। উন্নয়নের সুফল যেমন মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে, তেমনি উন্নয়নের কারণে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাঁদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামবাসীরা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের দাবির বিষয়ে লিখিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা প্রকল্পের কাজ শুরু করতে দেবেন না। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশকর্মী। যদিও দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা থাকলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদের শান্ত থাকার আবেদন জানানো হয় এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে প্রশাসন। বিক্ষোভের জেরে সাময়িকভাবে প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। ডিভিসির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিক্ষোভ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শিল্প বা পরিকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের মতামত, সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং পুনর্বাসনের বিষয়গুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়গুলিতে স্বচ্ছতা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই এমন অচলাবস্থা এড়ানো সম্ভব। একদিকে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও সামাজিক নিরাপত্তা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সিদাবাড়ির এই ঘটনা সেই প্রশ্নকেই আবার সামনে এনে দিয়েছে। এখন সকলের নজর ডিভিসির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আলোচনার মাধ্যমে কি কাটবে এই অচলাবস্থা? গ্রামবাসীদের দাবির কী সমাধান হবে? নাকি আরও জটিল হবে পরিস্থিতি? সেই উত্তরই মিলবে আগামী কয়েক দিনে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram