আসানসোলে চোর সন্দেহে তিন যুবককে 'গণধোলাই' !

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ওই তিন যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের পরিচয়, এলাকায় আসার উদ্দেশ্য এবং সাম্প্রতিক তার চুরির ঘটনাগুলির সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তদন্তকারীরা এটাও জানতে চাইছেন, এই ধরনের চুরির পিছনে কোনও সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কি না। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের তার এবং আর্থিংয়ের তার চুরির ঘটনা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই চুরি হওয়া তামার তার স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। তবে এখনও পর্যন্ত এই তিন যুবকের বিরুদ্ধে তার চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ। কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা পুলিশকে জানানোই আইনসম্মত পথ। গণধোলাই বা জনতার বিচারের মতো ঘটনায় নিরীহ কেউ আক্রান্ত হতে পারেন, তাই এই ধরনের প্রবণতা রুখতে সচেষ্ট প্রশাসন। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাগুলির সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আটক যুবকদের সঙ্গে সেই তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। যদি তাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মেলে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে সেই বিষয়টিও তদন্তে স্পষ্ট হয়ে যাবে। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তিকে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বারবার চুরির ঘটনার জেরে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত ও বিচার করার দায়িত্ব পুলিশের। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনায় একদিকে যেমন এলাকায় ধারাবাহিক চুরির অভিযোগ সামনে এসেছে, অন্যদিকে গণধোলাইয়ের ঘটনাও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আইন-শৃঙ্খলা ও জনসচেতনতা নিয়ে। এখন নজর পুলিশের তদন্তে। আদৌ এই তিন যুবকের সঙ্গে তার চুরির কোনও যোগ রয়েছে, নাকি ভুল সন্দেহের বশেই তাঁরা গণরোষের শিকার হয়েছেন—সেই উত্তর মিলবে তদন্ত শেষ হলেই।
