বামেদের ‘জেল ভরো’ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা !

বামফ্রন্টের এই ‘জেল ভরো’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রের শ্রম নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো। শ্রম কোড বাতিল-সহ শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি সামনে রেখে আন্দোলনে নামেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, শ্রমিকদের স্বার্থে একাধিক দাবি নিয়ে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবেই এদিনের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি নিয়ে আন্দোলন করতে গেলে প্রশাসনের তরফে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাম নেতৃত্বের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, মিছিল শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছিল। কিন্তু পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয়। এরপরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে প্রশাসনের তরফে মূল লক্ষ্য ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। কোনওভাবেই যাতে পরিস্থিতি হাতের বাইরে না যায়, তার জন্য দ্রুত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ধস্তাধস্তির পর পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে। মিছিলের গতিপথ এবং জমায়েতকে ঘিরে পুলিশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখে। এদিকে, বামেদের এই কর্মসূচিকে ঘিরে আসানসোলের রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। শিল্পাঞ্চল হিসেবে আসানসোলে শ্রমিক রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ফলে শ্রমিক স্বার্থ এবং শ্রম আইনকে সামনে রেখে বামেদের এই কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। কেন্দ্রের শ্রম কোড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। সেই ইস্যুতেই পশ্চিম বর্ধমান জেলা বামফ্রন্টের এই কর্মসূচি নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করল আসানসোলে। তবে এদিনের কর্মসূচিতে মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায় মিছিল এবং পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা। ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং পুলিশি বাধাকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা সামাল দিতে বেশ কিছুক্ষণ তৎপর থাকতে হয় পুলিশকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর এলাকায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা যে তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট। এখন প্রশ্ন উঠছে, আগামী দিনে শ্রম কোড বাতিল-সহ অন্যান্য দাবিতে বামেদের আন্দোলন কোন পথে এগোয়। এদিনের কর্মসূচির পর নতুন করে কোনও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। অন্যদিকে, ভবিষ্যতে এই ধরনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে কেন্দ্রের শ্রম কোড বাতিল-সহ একাধিক দাবিতে বামেদের ‘জেল ভরো’ কর্মসূচি ঘিরে সোমবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল আসানসোল। চেলিভাঙা থেকে শুরু হওয়া মিছিল ভগৎ সিং মোড় হয়ে বার্নপুর রোডের পুলিশ লাইন সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছতেই পুলিশের ব্যারিকেডকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় উত্তেজনা। ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা, পুলিশের বাধা, এরপর বাম কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে নামতে হয় বিশাল পুলিশ বাহিনীকে। শেষ পর্যন্ত পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও, এই ঘটনাকে ঘিরে আসানসোলের রাজনৈতিক মহলে যে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তা বলাই যায়।
