Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
আসানসোল : ভোটের আগে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে। প্রচার সামগ্রী লাগানোকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। সোমবার এই ইস্যুকে সামনে রেখে কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মহকুমা শাসকের (এসডিও) দফতরে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ব্যানার, পোস্টার ও অন্যান্য প্রচার সামগ্রী লাগানোর জন্য, সেই স্থানগুলিতেই তাদের দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে তাদের প্রচার কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে ভোটারদের কাছে সঠিকভাবে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে না পারে কংগ্রেস। এই প্রতিনিধিদলে কংগ্রেস কাউন্সিলর এস এম মোস্তফা, কংগ্রেস নেতা শাহ আলম সহ একাধিক স্থানীয় নেতা ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জানান, শুধুমাত্র বাধা দেওয়াই নয়, যেসব জায়গায় ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ব্যানার বা পোস্টার লাগানো হয়েছে, সেগুলির উপর জোর করে অন্য দলের, বিশেষত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার সামগ্রী লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘিত হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগও উঠছে। প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডি এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাজ্যে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। এখন দেখা যাচ্ছে নির্বাচনী প্রচারেও সেই একই প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। আমাদের দলকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমরা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে না পারি। এটা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।” তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আশা করছি, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
SDO দফতরে কংগ্রেসের অভিযোগ !
আসানসোল উত্তরে পোস্টার যুদ্ধ ! কংগ্রেসের অভিযোগে নতুন করে তপ্ত ভোটের রাজনীতি
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। যদি একটি দলকে প্রচারে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচনের সমতা নষ্ট হয় এবং ভোটের ফলাফলেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই অবিলম্বে এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা উচিত বলে তারা মনে করছে। অন্যদিকে, এই অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া না মিললেও, দলের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি—এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁদের মতে, কংগ্রেস নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ঢাকতেই এই ধরনের অভিযোগ সামনে আনছে। তারা আরও জানায়, তৃণমূল কংগ্রেস সবসময় আইন মেনে এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রচার চালায়। এদিকে, গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি সত্যিই নির্দিষ্ট অনুমোদিত স্থানেও বাধা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে হলে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করাও জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই ঘটনাকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়, তবে তা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সাধারণ ভোটাররা চান, রাজনৈতিক দলগুলি যেন শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার চালায় এবং উন্নয়ন ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে ভোটের লড়াই হোক। বর্তমানে আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রতিটি দলের পক্ষেই ভোটারদের কাছে পৌঁছনো এবং নিজেদের অবস্থান মজবুত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সেই পরিস্থিতিতে এই ধরনের বিতর্ক নির্বাচনী আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। সব মিলিয়ে, প্রচার সামগ্রী লাগানোকে কেন্দ্র করে এই নতুন বিতর্ক আসানসোল উত্তরের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কী ধরনের তদন্ত হয়, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি। তবে ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram