কল্যাণেশ্বরীতে হোটেল-লজে দুষ্কৃতী হানা, লুটপাট !

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। দুটি হোটেল-লজ ঘুরে দেখেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এদিকে হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ফুটেজে দেখা যাওয়া ব্যক্তি স্থানীয় এক যুবক। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতেও চুরির অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন হোটেল মালিকরা। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্তের স্বার্থে ওই সন্দেহভাজন যুবকের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে যুবকের অবস্থান এবং ঘটনার সম্ভাব্য সূত্র জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চুরির ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। কারণ একই রাতে দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে চুরি, প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা এবং মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখে এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ হতে পারে বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর আতঙ্কে রয়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, কল্যাণেশ্বরী পর্যটন ও ধর্মীয় ভ্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতিদিন বহু পর্যটক এখানে আসেন এবং বিভিন্ন হোটেল ও লজে থাকেন। এই ধরনের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পর্যটকদের একাংশও জানিয়েছেন, রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পর্যটন এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি উঠেছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পুলিশের দাবি, খুব শীঘ্রই মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি চুরি যাওয়া নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং মোটরসাইকেল উদ্ধারের চেষ্টাও চলছে। একই রাতে দুটি হোটেল-লজে পরপর চুরির ঘটনায় গোটা কল্যাণেশ্বরী এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
