কল্যাণেশ্বরীতে হোটেল-লজে দুষ্কৃতী হানা, লুটপাট !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
আসানসোল : পশ্চিম বর্ধমান জেলার কুলটি থানার চৌরাঙ্গী ফাঁড়ি এলাকার কল্যাণেশ্বরী। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও অত্যন্ত জনপ্রিয় এই এলাকা। কিন্তু বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই পর্যটনকেন্দ্রেই ঘটে যায় একের পর এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। একই রাতে দুটি হোটেল-লজে হানা দিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, সিসিটিভির ডিভিআর এবং একটি মোটরসাইকেল লুট করে পালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হোটেল মালিক থেকে শুরু করে পর্যটকরাও। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে দুষ্কৃতীরা হানা দেয় ‘আসা রিসোর্ট’-এ। গভীর রাতের সুযোগ নিয়ে রিসোর্টের অফিসঘরে ঢুকে ক্যাশবাক্স ভেঙে ফেলে তারা। সেখান থেকে প্রায় ৫৭ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। তবে শুধু নগদ টাকা লুট করেই থেমে থাকেনি দুষ্কৃতীরা। তদন্তে যাতে কোনও প্রমাণ না থাকে, সেই উদ্দেশ্যে রিসোর্টে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআর খুলে নিয়ে যায় তারা। ফলে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। এরপর পাশের ‘আপনজন লজ’-এ ঢোকে দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, লজে থাকা পর্যটকদের ঘরের জানালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করা হয়। সেই সময় হুগলি থেকে বেড়াতে আসা চার পর্যটক ঘুমিয়ে ছিলেন। তাঁদের অজান্তেই ঘর থেকে তিনটি মোবাইল ফোন চুরি করে দুষ্কৃতীরা। পরে লজের ভিতর থেকেই একটি মোটরসাইকেলের চাবি সংগ্রহ করে। এরপর মূল গেটের তালা ভেঙে মোটরসাইকেলটি নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পর্যটক ও হোটেল কর্মীরা চুরির ঘটনা টের পান। সঙ্গে সঙ্গেই খবর দেওয়া হয় কুলটি থানার পুলিশকে।
কল্যাণেশ্বরীতে হোটেল-লজে দুষ্কৃতী হানা, লুটপাট !
CCTV-র DVS খুলে নিয়ে চম্পট ! একই রাতে দুই হোটেলে চুরি

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। দুটি হোটেল-লজ ঘুরে দেখেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এদিকে হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ফুটেজে দেখা যাওয়া ব্যক্তি স্থানীয় এক যুবক। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতেও চুরির অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন হোটেল মালিকরা। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্তের স্বার্থে ওই সন্দেহভাজন যুবকের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে যুবকের অবস্থান এবং ঘটনার সম্ভাব্য সূত্র জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চুরির ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। কারণ একই রাতে দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে চুরি, প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা এবং মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখে এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ হতে পারে বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর আতঙ্কে রয়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, কল্যাণেশ্বরী পর্যটন ও ধর্মীয় ভ্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতিদিন বহু পর্যটক এখানে আসেন এবং বিভিন্ন হোটেল ও লজে থাকেন। এই ধরনের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পর্যটকদের একাংশও জানিয়েছেন, রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পর্যটন এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি উঠেছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পুলিশের দাবি, খুব শীঘ্রই মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি চুরি যাওয়া নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং মোটরসাইকেল উদ্ধারের চেষ্টাও চলছে। একই রাতে দুটি হোটেল-লজে পরপর চুরির ঘটনায় গোটা কল্যাণেশ্বরী এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram