রাজ্যের বড় সিদ্ধান্ত, ভেঙ্গে দেওয়া হল আসানসোল পুরনিগম

এদিকে, এই সিদ্ধান্তের পর প্রাক্তন মেয়র বিধান উপাধ্যায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে আগে থেকে তাঁর কাছে কোনও সরকারি তথ্য ছিল না। তিনি জানান, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত বোর্ডকে এভাবে ভেঙে দেওয়া উচিত নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি নতুন প্রশাসককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর নেতৃত্বে আসানসোলের নাগরিকরা আরও উন্নত পরিষেবা পাবেন এবং চলমান উন্নয়নমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিরোধী দল বিজেপি। বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বহু কাউন্সিলর সাধারণ মানুষের সমস্যার প্রতি উদাসীন ছিলেন। এলাকার বহু নাগরিক নিকাশি, পানীয় জল, রাস্তা, কর সংক্রান্ত সমস্যা এবং অন্যান্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। তাঁর দাবি, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণেই সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। তাই রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত যথার্থ এবং অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসানসোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের পুর প্রশাসনে এই পরিবর্তন আগামী দিনে প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং রাজনৈতিক সমীকরণ—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশাসক নিয়োগের পর এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নাগরিক পরিষেবা আরও গতিশীল করা, জমে থাকা প্রশাসনিক ফাইল নিষ্পত্তি করা, উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসক হিসেবে কাজ করার সময় স্বচ্ছতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নাগরিক সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পুরনিগম নির্বাচন কবে হবে, সেই দিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের। বর্তমানে সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন নির্বাচিত বোর্ড দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রশাসকই পুরনিগম পরিচালনা করবেন। ফলে আগামী কয়েক মাস আসানসোল পুরনিগমের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে চলবে। আসানসোলের নাগরিকদের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে এবং পুর পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে।
