পুলিশের অভিযানে উদ্ধার মদ-ঝাড়খণ্ড লটারি, ধৃত ২

মঙ্গলবার ধৃত ভীম মাজি এবং সুরজ শাওকে আসানসোল জেলা আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানাবে তদন্তকারী অফিসাররা। পুলিশের মতে, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই দুই মামলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে অবৈধ মদ সরবরাহ চক্র এবং ঝাড়খণ্ড লটারির মূল মাথাদের শনাক্ত করাই এখন তদন্তের প্রধান লক্ষ্য। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অবৈধ ঝাড়খণ্ড লটারির এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে পারে। শুধুমাত্র খুচরো বিক্রেতা নয়, এর পিছনে বড় নেটওয়ার্ক কাজ করছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। সেই কারণে ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় অবৈধ মদ এবং বাইরের রাজ্যের লটারির ব্যবসা চলছিল। এর ফলে বহু যুবক নেশা ও জুয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ছিল। পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র লছিপুর নয়, নিয়ামতপুর এবং কুলটি থানার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আগামী দিনেও একইভাবে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। অবৈধ মদ, মাদক, জুয়া, লটারি, চোরাচালানসহ সব ধরনের বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি চালানো হবে। কোনও অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনহীন মদ বিক্রি বা মজুত করা যেমন দণ্ডনীয় অপরাধ, তেমনই অনুমতি ছাড়া বাইরের রাজ্যের লটারি বিক্রিও আইনের চোখে অপরাধ। এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে শুধু বিক্রেতাই নয়, গোটা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই তদন্তে মূল চক্রীদের চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য সরকারের তরফেও সম্প্রতি বেআইনি ব্যবসার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলায় পুলিশকে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকাতেও সেই নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে। নিয়মিত তল্লাশি, গোপন সূত্রে তথ্য সংগ্রহ এবং অভিযানের মাধ্যমে অপরাধ দমনে জোর দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, একদিনে দুটি পৃথক অভিযানে অবৈধ মদ ও ঝাড়খণ্ড লটারির কারবারের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ। বিপুল পরিমাণ বেআইনি সামগ্রী উদ্ধার এবং দুই অভিযুক্তের গ্রেপ্তারকে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে পুলিশের দাবি, এটিই শেষ নয়। গোটা চক্রকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। আগামী দিনেও একইভাবে অবৈধ মদ, মাদক, লটারি এবং অন্যান্য বেআইনি ব্যবসার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
