ECL-র বুলডোজার অভিযান, ভাঙা হল প্রায় ২০টি আবাসন !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
আসানসোল : ECL-র শ্রীপুর-সাতগ্রাম এরিয়ার গিরমিট ৪০ নম্বর ধাওড়ায় মঙ্গলবার অবৈধ দখলদারি উচ্ছেদে বড়সড় অভিযান চালাল ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড বা ইসিএল। সংস্থার মালিকানাধীন জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে তৈরি করা প্রায় ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ আবাসন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের উপস্থিতিতে পরিচালিত এই অভিযানে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সিআইএসএফ এবং আসানসোল উত্তর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনীর নিরাপত্তা বলয়ে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় গোটা উচ্ছেদ প্রক্রিয়া। ইসিএল সূত্রে জানা গিয়েছে, সংস্থার জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে একাধিক আবাসন তৈরি করা হয়েছিল। ওই আবাসনগুলির বেশিরভাগই ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এবং নিরাপত্তার দিক থেকেও তা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল। সেই কারণেই অবৈধ দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় ইসিএল কর্তৃপক্ষ। সংস্থার দাবি, আইন মেনেই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। গত ২২ জুলাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের আগাম নোটিস দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁরা যেন নিজেরাই অবৈধ দখল সরিয়ে নেন এবং এলাকা খালি করে দেন। নোটিসে উল্লেখিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও বহু আবাসন খালি না হওয়ায় মঙ্গলবার প্রশাসনের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। সকাল থেকেই গিরমিট ৪০ নম্বর ধাওড়া এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সিআইএসএফ জওয়ান। সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এরপর বুলডোজার নিয়ে অভিযানে নামে ইসিএল কর্তৃপক্ষ। একে একে সংস্থার জমিতে তৈরি হওয়া প্রায় ২০টি অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ আবাসন ভেঙে ফেলা হয়। অভিযানের সময় ইসিএলের আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ইসিএলের আধিকারিক অপূর্ব বিশ্বাস, জয়শ্রী যাদব এবং সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা জানান, পূর্বঘোষিত নোটিস অনুযায়ী এবং সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ECL-র বুলডোজার অভিযান, ভাঙা হল প্রায় ২০টি আবাসন !
ইসিএলের জমিতে অবৈধ দখলদারি উচ্ছেদে বুলডোজার, গিরমিটে ভাঙা হল ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ আবাসন
তাঁদের দাবি, বাসিন্দাদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল যাতে তাঁরা নিজেরাই এলাকা খালি করতে পারেন। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরই প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান চালানো হয়েছে। ইসিএলের বক্তব্য, সংস্থার জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এই ধরনের দখলদারি শুধু সংস্থার সম্পত্তির ক্ষতিই করে না, ভবিষ্যতের উন্নয়নমূলক কাজেও বাধা সৃষ্টি করে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসিএল জানিয়েছে, যেসব আবাসন ভেঙে ফেলা হয়েছে, সেগুলির অধিকাংশই নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসারে বসবাসের উপযুক্ত ছিল না। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও ছিল। সেই বিষয়টি বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থার দাবি। অভিযানের সময় কোনও বড় ধরনের প্রতিরোধ বা অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেই শান্তিপূর্ণভাবে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হয় যাতে কোনও অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। ইসিএল সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, সংস্থার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দখলদারি চিহ্নিত করার কাজ চলেছে এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও একই ধরনের অভিযান পরিচালিত হবে। অবৈধ দখলমুক্ত করে সংস্থার জমি পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে চালানো হবে বলেও জানানো হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে ইসিএলের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে সংস্থার জমিতে অবৈধভাবে বাড়ি নির্মাণ, ব্যবসায়িক কার্যকলাপ এবং অন্যান্য দখলদারির অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রেক্ষিতেই এবার শ্রীপুর-সাতগ্রাম এরিয়ায় এই উচ্ছেদ অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, আগাম নোটিস প্রদান, পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ফলে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ইসিএলের দাবি, এই ধরনের অভিযান কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নয়, বরং সংস্থার সম্পত্তি রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। সংস্থা আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যেখানে যেখানে অবৈধ দখলের অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, গিরমিট ৪০ নম্বর ধাওড়ায় ইসিএলের এই উচ্ছেদ অভিযান শিল্পাঞ্চলে অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে সংস্থার কঠোর অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে অন্য এলাকাগুলিতেও একই ধরনের অভিযান কতটা জোরদার হয় এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়। প্রশাসন ও ইসিএল কর্তৃপক্ষের দাবি, সংস্থার জমি রক্ষা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও ধারাবাহিকভাবে চলবে।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram