হিরাপুরে সেলের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত জমি দখলের অভিযোগ !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
আসানসোল : সেলের জমি দখল করে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে যখন শিল্পাঞ্চলে জোর চর্চা চলছে, ঠিক সেই সময় উল্টে সেল-আইএসপি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই ব্যক্তিগত জমি দখলের অভিযোগ উঠল আসানসোলে। বার্নপুরের হিরাপুর মৌজায় একটি জমিকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ সামনে আসতেই এলাকায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। অভিযোগ উঠেছে, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমিতে পাঁচিল নির্মাণের কাজ শুরু করেছে সেল-আইএসপি কর্তৃপক্ষ। জমির মালিকানা দাবি করে ঘটনাস্থলে হাজির হন বিশ্বনাথ ঠাকুর। তাঁর দাবি, বিতর্কিত ওই জমিটি তাঁর দাদু শচীনন্দ ঠাকুরের নামে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই জমিটি তাঁদের পরিবারের মালিকানাধীন বলে দাবি করেন তিনি। বিশ্বনাথ ঠাকুরের অভিযোগ, তাঁদের মালিকানাধীন জমি বেআইনিভাবে দখলের চেষ্টা করছে সেল-আইএসপি কর্তৃপক্ষ। তাঁর দাবি, জমি সংক্রান্ত নথিপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। সেই নথি কর্তৃপক্ষের সামনে পেশ করা হলেও জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়নি। শুক্রবারও ওই জমিতে মিস্ত্রি এবং শ্রমিকদের দিয়ে পাঁচিল নির্মাণের কাজ চলছিল বলে দাবি জমির মালিকের। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বিশ্বনাথ ঠাকুর। সেখানে গিয়ে তিনি কাজ বন্ধ করার আবেদন জানান। বিশ্বনাথের দাবি, তাঁর হাতে ছিল আদালতের স্টে অর্ডারের কপি। পাশাপাশি জমির মালিকানা সংক্রান্ত দলিল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিও তিনি সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। ওই নথি দেখিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার আবেদন করা হয় বলে দাবি তাঁর। কিন্তু অভিযোগ, নথিপত্র দেখানোর পরও কাজ বন্ধ হয়নি। এরপর পরিস্থিতি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন বিশ্বনাথ ঠাকুর। জমির মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ চলতে থাকায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে খবর যায় হিরাপুর থানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পুলিশ আপাতত পাঁচিল নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হবে। ফলে আপাতত ওই জমিতে পাঁচিল তৈরির কাজ থেমে যায়। তবে প্রশ্ন উঠছে, জমিটির প্রকৃত মালিক কে? জমিটি কি সত্যিই বিশ্বনাথ ঠাকুরের পরিবারের নামে রয়েছে, নাকি সেল-আইএসপির দাবি অনুযায়ী ওই জমির উপর তাদের কোনও বৈধ অধিকার রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরই এখন মূল বিষয়। বিশ্বনাথ ঠাকুরের দাবি, জমিটির পুরনো নথিপত্রে তাঁর দাদু শচীনন্দ ঠাকুরের নাম রয়েছে। সেই নথির ভিত্তিতেই তাঁরা জমিটির মালিকানা দাবি করছেন। তাঁর অভিযোগ, কোনও বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাঁদের জমিতে পাঁচিল নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে।
হিরাপুরে সেলের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত জমি দখলের অভিযোগ !
আদালতের স্টে অর্ডার সত্ত্বেও পাঁচিল ? সেলের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সেল-আইএসপি কর্তৃপক্ষের কোনও বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে জমিটি নিয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি বা তাদের পক্ষের নথিপত্র কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় আরও একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি সেলের জমি দখল করে অবৈধভাবে বসবাস এবং বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই অভিযানকে ঘিরে যখন সেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে, তখনই তাদের বিরুদ্ধেই ব্যক্তিগত জমি দখলের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হিরাপুর মৌজার ওই জমিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই মালিকানা সংক্রান্ত দাবি রয়েছে। তবে বর্তমানে নতুন করে পাঁচিল নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। শুক্রবার নির্মাণকাজ চলাকালীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিশ্বনাথ ঠাকুর কাজ বন্ধ করার আবেদন জানান। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশের বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও নির্মাণকাজ চলছিল। এরপর বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের নির্দেশের পর নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। এখন আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই নজর রয়েছে। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। যদি জমিটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হয়, তাহলে সেখানে কীভাবে নির্মাণকাজ শুরু হল? জমির মালিকানা নিয়ে কোনও সরকারি রেকর্ড বা নথি যাচাই করা হয়েছিল কি না? নির্মাণকাজ শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না? আর যদি সেল-আইএসপির জমি হয়ে থাকে, তাহলে সেই জমির মালিকানা সংক্রান্ত নথি কী বলছে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। বিশ্বনাথ ঠাকুরের বক্তব্য, তাঁরা কোনও সংঘাত চান না। তাঁদের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে যদি কোনও প্রশ্ন থাকে, তাহলে তা আইনি পথে নিষ্পত্তি হোক। আদালতের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সেখানে কোনও নির্মাণকাজ না করার পক্ষেই তাঁরা। অন্যদিকে, সেল-আইএসপি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা এবং জমির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এখন মূল নজর আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকে। আদালত কী সিদ্ধান্ত দেয়, জমির নথিপত্র যাচাই করে মালিকানা নিয়ে কী নির্দেশ আসে এবং নির্মাণকাজ ভবিষ্যতে ফের শুরু হয় কি না—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এলাকাবাসী। সব মিলিয়ে, সেলের জমি দখল করে অবৈধ বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে যখন শিল্পাঞ্চলে আলোচনা তুঙ্গে, তখনই সেল-আইএসপির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত জমি দখলের অভিযোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বার্নপুরের হিরাপুর মৌজার ওই জমিতে আপাতত পাঁচিল নির্মাণের কাজ বন্ধ। আদালতের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতি একই থাকবে বলে জানা গিয়েছে। তবে জমির মালিকানা নিয়ে যে দাবি-পাল্টা দাবির সূত্রপাত হয়েছে, তার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে আইনি প্রক্রিয়াতেই। আর সেই নিষ্পত্তির দিকেই এখন নজর বিশ্বনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দাদের। সেলের জমি দখলমুক্ত করতে যখন উচ্ছেদ অভিযান চলছে, তখনই সেলের বিরুদ্ধেই ব্যক্তিগত জমি দখলের অভিযোগ—হিরাপুরের এই ঘটনায় আগামী দিনে কী মোড় আসে, এখন সেটাই দেখার।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram