রূপনারায়নপুর সবজি বাজারে ভয়াবহ আগুন !

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অনেকেই জানান, এই দোকানগুলিই ছিল তাঁদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। রাতারাতি সবকিছু হারিয়ে তাঁরা কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বহু ব্যবসায়ী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁদের বক্তব্য, বছরের পর বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে গড়ে তোলা ব্যবসা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেল। এক দোকানদার জানান, সোমবার ভোরে বাজারে এসে দেখেন তাঁর দোকানের আর কোনও অস্তিত্ব নেই। আগুনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। অন্য এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, দোকানে থাকা সমস্ত মালপত্র এবং নগদ অর্থও আগুনে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলে নতুন করে ব্যবসা শুরু করাও কঠিন হয়ে পড়বে। ঘটনার পর বাজার এলাকা পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানেও তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে অনেকের অনুমান থাকলেও দমকল বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। দমকল কর্মীরা আগুনের উৎস এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছেন। বাজারে বিদ্যুৎ সংযোগ, বৈদ্যুতিক তার এবং অন্যান্য অবকাঠামো পরীক্ষা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের কারণ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ প্রশাসন। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ক্ষতিপূরণ এবং আর্থিক সহায়তা না পেলে নতুন করে ব্যবসা শুরু করা সম্ভব হবে না। অনেকেই দাবি করেছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি বাজারে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, অগ্নি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর নিয়মিত পরিদর্শন জরুরি। বর্তমানে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ এবং আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্ত চলছে। রূপনারায়নপুর সবজি বাজারের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এখন তাঁদের একটাই দাবি—দ্রুত ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং আগুনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
