অবৈধ পাথর খাদান চালানোর অভিযোগ, ধৃত ৪ !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
আসানসোল : রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। প্রশাসনের তরফে বারবার জানানো হয়েছে, দুর্নীতি, বেআইনি ব্যবসা এবং সরকারি সম্পদ লুটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সেই নীতির অংশ হিসেবেই জেলায় জেলায় চলছে ধারাবাহিক অভিযান। এবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুর এলাকায় অবৈধ পাথর খাদান চালানোর অভিযোগে বড়সড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে চারজনকে। আরও এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই সালানপুর ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে পাথর খাদান চালানোর অভিযোগ উঠছিল। অভিযোগ ছিল, সরকারের অনুমতি ছাড়াই প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে বেআইনি উপায়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছিল। এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের ফলে যেমন সরকারি রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছিল, তেমনি পরিবেশের উপরও পড়ছিল মারাত্মক প্রভাব। রবিবার গোপন সূত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য পায় রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ। এরপরই সালানপুর থানার অধীনে রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ একটি বিশেষ অভিযান চালায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সালানপুর ব্লকের একাধিক এলাকায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময়ই অবৈধ পাথর খাদান চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম রঞ্জিত সিং, বিষম রায়, মধুসূদন মণ্ডল এবং রাকেশ কুমার সিং ওরফে যোগিন্দর সিং। পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যেকেই সালানপুর ব্লকের বাসিন্দা। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি অনুমতি ছাড়া পাথর খাদান পরিচালনা এবং অবৈধভাবে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। সোমবার ধৃত চারজনকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে তোলার আগে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। কারণ এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত রয়েছে, তার খোঁজ পেতে চাইছে তদন্তকারী দল। অন্যদিকে, এই মামলার আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত মিহির ঘোষ এখনও অধরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযানের খবর পেয়ে তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, মিহির ঘোষকে গ্রেফতার করা গেলে অবৈধ পাথর খাদান চক্র সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
অবৈধ পাথর খাদান চালানোর অভিযোগ, ধৃত ৪ !
প্রশাসনের কড়া অভিযানে ধরা পড়ল অবৈধ খাদান চক্র

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের প্রত্যেকেরই সালানপুর ব্লকের জিতপুর-উত্তরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ পাথর খাদান রয়েছে বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে এই খাদানগুলি থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছিল। অথচ সরকারি অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্রের কোনও নথি ছিল না বলেই অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় বহুদিন ধরেই অবৈধভাবে পাহাড় ও পাথুরে অঞ্চল কেটে পাথর তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে বহুবার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তবে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক কড়াকড়ির জেরে এবার বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ পাথর খাদান শুধুমাত্র সরকারের আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, এর ফলে পরিবেশের উপরও মারাত্মক প্রভাব পড়ে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে পাথর উত্তোলনের কারণে মাটির গঠন নষ্ট হয়, ভূগর্ভস্থ জলের স্তরে প্রভাব পড়ে এবং আশপাশের পরিবেশগত ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভূমিধস বা দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং এর পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের মোবাইল ফোন, আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি খাদান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক ও স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, শুধুমাত্র খাদানের মালিকদের গ্রেফতার করলেই তদন্ত শেষ হবে না। এই ব্যবসা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, কোথায় পাথর সরবরাহ করা হত, কারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছিল এবং প্রশাসনের কোনও স্তরে যোগসাজশ ছিল কি না, সেই সমস্ত বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশ আদালতের কাছে ধৃতদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানাবে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীদের দাবি, হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই চক্রের আরও সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালানপুর এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা বেআইনি খাদান ব্যবসার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হোক। বর্তমানে ধৃত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। পলাতক অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ পাথর খাদান চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের। রাজ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া অবস্থানের মধ্যে সালানপুরের এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই মামলায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram