RPF-র মারে মৃত্যু ভিক্ষুক এক মহিলার ! তীব্র চাঞ্চল্য !!

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
জামুরিয়া : পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুরিয়া ব্লকের বোরিং ডাঙ্গা এলাকায় বসবাসকারী এক দরিদ্র তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে, যা ঘিরে গভীর শোক ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে গোটা এলাকায়। মৃত ওই তরুণীর নাম সরস্বতী ব্যাধ, যার বয়স প্রায় ৩৬ বছর বলে জানানো হয়েছে। পেশায় ভিক্ষুক এই মহিলার মৃত্যুর জন্য রেল সুরক্ষা বাহিনী বা আরপিএফ-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরস্বতী ব্যাধ এবং তাঁর স্বামী রাজু ব্যাধ ট্রেনে ভিক্ষাবৃত্তি করতে করতে একসময় বর্ধমান রেলওয়ে স্টেশন-এ পৌঁছেছিলেন। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন ট্রেনে ঘুরে বেড়াতেন এবং যাত্রীদের কাছ থেকে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘটনার দিন, অর্থাৎ গত ১৫ এপ্রিল, রাতের দিকে তাঁরা স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এরপর মাঝরাতে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এক ভয়াবহ অভিযোগ সামনে এসেছে। দাবি করা হয়েছে, আরপিএফ-এর কিছু কর্মী তাঁদের ঘুমন্ত অবস্থায় সেখান থেকে তুলে নিয়ে যান। এরপর তাঁদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সরস্বতী ব্যাধকে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়েছে এবং সেই প্রহারের জেরেই ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তাঁর স্বামী রাজু ব্যাধকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ, এবং বর্তমানে তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে বুধবার গভীর রাতে। এরপর আরও একটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে যে, সরস্বতী ব্যাধের মৃতদেহটি পরবর্তীতে তাঁর বাড়ির এলাকায়, অর্থাৎ বোরিং ডাঙ্গায় এনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আসানসোল নগর নিগমের এক নম্বর ওয়ার্ডের পুরপিতা মৃদুল চক্রবর্তী ঘটনাস্থলে গিয়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তাঁর বক্তব্যে বলা হয়েছে, একজন গরিব এবং অসহায় মহিলার সঙ্গে এই ধরনের অমানবিক আচরণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা উচিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
RPF-র মারে মৃত্যু ভিক্ষুক এক মহিলার ! তীব্র চাঞ্চল্য !!
স্টেশনের অন্ধকারে নির্মমতা ! আরপিএফের বিরুদ্ধে ভিক্ষুক তরুণীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে জামুরিয়া
শুক্রবার জামুরিয়া থানা-য় আরপিএফ-এর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই অভিযোগে মৃতদেহটি যথাযথভাবে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর আবেদন জানানো হয়েছে। জানা গেছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই আইনি পদক্ষেপ আরও স্পষ্টভাবে গ্রহণ করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হরেরাম সিং-এর পরিবারের পক্ষ থেকেও ঘটনাস্থলে উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তাঁর পুত্র প্রেমপাল সিং এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন যে, সাধারণ মানুষের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর এই ধরনের আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এই ঘটনার পর থেকে বোরিং ডাঙ্গা এলাকায় এক ধরনের শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় এবং ক্ষোভ উভয়ই লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই দাবি করেছেন যে, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের উপর এই ধরনের নির্যাতন সমাজের জন্য এক গভীর কলঙ্ক। একইসঙ্গে, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার পাওয়ার দাবিও জোরদার হয়েছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি তদন্তের অধীনে রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং এটি সমাজের প্রান্তিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রেলস্টেশনগুলিতে নিরাপত্তা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে। ফলে, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, এই ঘটনায় একদিকে যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তেমনই অন্যদিকে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সুরও স্পষ্ট হয়েছে। এখন সকলের নজর রয়েছে তদন্তের অগ্রগতির দিকে এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতেই জোর দেওয়া হচ্ছে।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram