STF-এর জালে অস্ত্র ব্যবসায়ী !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
জামুড়িয়া : বেআইনি অস্ত্র পাচার রুখতে ফের বড় পদক্ষেপ রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের। গোপন সূত্রে পাওয়া নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে এক সন্দেহভাজন অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে জামুড়িয়ার কেন্দা এলাকার বেলবাদ বাসস্ট্যান্ডে বিশেষ অভিযান চালায় এসটিএফ। আগে থেকেই ওই এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে খইরুল আলম চৌধুরী নামে ২৪ বছর বয়সি এক যুবককে আটক করা হয়। প্রাথমিক তল্লাশির সময় ধৃতের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। এরপরই তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জামুড়িয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ধৃত খইরুল আলম চৌধুরীর বাড়ি পাণ্ডবেশ্বর এলাকায়। তবে তিনি কীভাবে এই অস্ত্রগুলির সংস্পর্শে এলেন, কোথা থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন এবং কী উদ্দেশ্যে সেগুলি বহন করছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেই বিষয়েই বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই ঘটনা শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পিছনে একটি বড় অস্ত্র পাচার চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। সেই কারণেই ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার যোগাযোগের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এসটিএফ-এর তদন্তে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— এই দুটি আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে আনা হয়েছিল? সেগুলি কি অন্য কোনও রাজ্য থেকে পাচার করে আনা হয়েছে, নাকি স্থানীয় কোনও অবৈধ অস্ত্র চক্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে? এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কোনও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করার উদ্দেশ্য ছিল, নাকি অন্য কারও হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল— সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।
STF-এর জালে অস্ত্র ব্যবসায়ী !
বেলবাদ বাসস্ট্যান্ডে STF হানা ! অস্ত্র-সহ ধৃত সন্দেহভাজন ব্যবসায়ী

ধৃতের মোবাইল ফোন, যোগাযোগের তথ্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, গত কয়েক মাসে তিনি কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং আর্থিক লেনদেনের কোনও সূত্র রয়েছে কি না। এছাড়াও, এই অস্ত্র পাচার চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছে এসটিএফ। ধৃতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালানো হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের চোরাচালান রোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ধরনের অস্ত্র পরবর্তীকালে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হতে পারে। তাই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। শুক্রবার ধৃত খইরুল আলম চৌধুরীকে জেলা আদালতে পেশ করে এসটিএফ। তদন্তের স্বার্থে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে। তদন্তকারীদের আশা, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্র পাচার চক্রের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে এই চক্রের মূল মাথারা কারা, কোথা থেকে অস্ত্র আসে এবং কীভাবে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়— সেই বিষয়গুলি জানার চেষ্টা চলছে। যদিও তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনত অপরাধী নন। তাই তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে সকলের। পুলিশের মতে, বেআইনি অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান আগামী দিনেও জারি থাকবে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনও অপরাধচক্র সক্রিয় হওয়ার আগেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জনবহুল এলাকার বাসস্ট্যান্ড থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস, সম্ভাব্য পাচারচক্র এবং এই মামলায় আরও কারও নাম সামনে আসে কি না, তা আগামী দিনের তদন্তেই স্পষ্ট হবে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram