ভোটার তালিকা থেকে বাদ খোদ প্রাক্তন 'সেনাকর্মী'র নাম !! চাঞ্চল্য নন্দীগ্রামে !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
পূর্ব মেদিনীপুর : যাঁরা বুকের রক্ত দিয়ে দেশের নিরাপত্তা রক্ষার ভার গ্রহন করেছেন, যাঁদের বিনিদ্র রজনী যাপনের জন্য দেশবাসী নিশ্চিন্তে নিদ্রা যান, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেই আত্মত্যাগী দুই প্রাক্তন সেনা জওয়ানের নাম এসআইআর এর তালিকায় তোলা হল না! তাঁদের আবার নতুন করে প্রমাণ করতে হবে তাঁরা ভারতীয়! দেশের অন্য কোথাও নয় যিনি এসআইআর- এর দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গলা ফাটিয়েছেন, সেই শুভেন্দু অধিকারী যে বুথে ভোট দেন, সেই একই বুথের দুই ভোটারকে অবৈধ ব’লে চিহ্নিত করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের চক্রান্তে।তাঁরা শুধু ভারতীয় এমনই নন, প্রাক্তন সেনা কর্মীও ! তাঁদেরও প্রমাণ করতে হচ্ছে তাঁরা ভারতীয়! শুভেন্দু অধিকারীর নিজের বুথেই এসআইআর-এর গেরোয় নাজেহাল নন্দীগ্রামের দুই সেনাকর্মী সহ চার ব্যক্তি। পরিবারের সবার ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে। কিন্তু পরিবারের প্রধানদেরই নাম ওঠেনি! শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। তাঁরই নির্বাচনী বুথ নন্দনায়েকবার ৭৯ নম্বর বুথে ৭১১-জন ভোটারের মধ্যে ১১ জনের নাম বাদ গেছে। এই ১১ জনের মধ্যে কেউ মৃত বা কেউ ভোটার তালিকায় নাম তোলেননি।বাকি ৭০০ জনের মধ্যে ৪ জনকে আবার শুনানী বা হেয়ারিং- এর জন্য ডাকা হয়েছে। বিএলও-র সূত্রে জানা গেছে, এই চারজনের সঙ্গে তাঁদের বাবা বা পরিবারের লিঙ্ক পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ ২০০২ সালে এঁদের কারোরই বাবার নাম নেই।অথচ যাঁদের নাম ওঠেনি তাঁদের ছেলেমেয়ে দের নাম ভোটার তালিকায় উঠে গেছে। প্রদীপ জানা এবং প্রদীপ প্রধান দু’জনই প্রাক্তন সেনা কর্মী। প্রাক্তন ওই দুই সেনাকর্মীকে শুনানীর জন্য ডাকা হয়েছে। তাঁরা ভারতীয় কিনা প্রমাণ করতে পারলেই ভোটার তালিকায় নাম উঠবে!

People walking on a village path

প্রদীপ প্রধানের বয়স যখন ১০ বছর, তখনই তাঁর বাবা ও মা দু’জনেই মারা যান। তিনি ১৯৯৪ সালে সেনা বিভাগে যোগ দেন। তৎকালীন সময়ে যেহেতু সেনা বিভাগের কর্মীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারতেন না, সেহেতু ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই তাঁর।তবে সেনা বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণের পর ২০১৯ ও ২০২৪ সালে তিনি দু’বারই ভোট দিয়েছেন। এর পাশাপাশি সন্তোষ রানা নামে এক ব্যক্তি পেশায় টোটো চালক।তাঁকেও পুনরায় হেয়ারিংয়ের জন্য ডাকা হয়েছে।সন্তোষ রানার স্ত্রী সীমা রানা এই ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ। তিনি অভিযোগ করেন,তাঁর স্বামী সন্তোষ রানা আজ থেকে ৩০ বছর আগে উত্তরপ্রদেশ থেকে নন্দীগ্রামে এসেছিলেন। এখানেই তাঁকে বিয়ে করেছেন। এখানেই রয়েছে তাঁদের ছেলেমেয়ে, রয়েছে সংসার। টোটো চালিয়ে সংসার প্রতিপালন করেন তিনি। উত্তরপ্রদেশ থেকে চলে আসার পরে সেখানে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম কাটিয়ে নন্দীগ্রামের ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিলেন। তাঁর স্বামীকেও এখন প্রমাণ করতে হবে তিনি ভারতীয়। তাঁদের দাবি, যিনি এই এসআইআর- এর দাবীতে সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছিলেন, সেই শুভেন্দু অধিকারীর নিজের বুথেই ভারতীয় প্রমাণ করাতে গিয়ে এখন নাজেহাল অবস্থা ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মী থেকে সাধারণ ভোটারদের।জানা নেই এই বিতর্কের জল এখন কোথা থেকে কোথায় গড়ায়!
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram