ভদ্রেশ্বরে রেলের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
হুগলি : সাতসকালে বড়সড় ট্রেন বিভ্রাটে কার্যত অচল হয়ে পড়ল হাওড়া-বর্ধমান মেন শাখার একাংশ। শুক্রবার সকালে ভদ্রেশ্বর স্টেশনের কাছে একটি মালগাড়ির ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ব্যাহত হয়েছে আপ লাইনের ট্রেন পরিষেবা। অফিসযাত্রীদের ব্যস্ত সময়ে এই ঘটনায় ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল প্রায় সাড়ে ৮টা নাগাদ ব্যান্ডেলের দিকে যাওয়ার সময় ভদ্রেশ্বর স্টেশনের নিকটবর্তী একটি রেল ক্রসিং এলাকায় মালগাড়ির ইঞ্জিনটি হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়ে যায়। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনার পরই নিরাপত্তার স্বার্থে আপ মেন লাইন এবং রিভার্স লাইনে ট্রেন চলাচল অবিলম্বে বন্ধ করে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পাশাপাশি উপস্থিত হন রেল ইঞ্জিনিয়ার, ট্র্যাক মেইন্টেন্যান্স কর্মী এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে শুরু হয় জোর তৎপরতা। লাইনচ্যুত ইঞ্জিনটিকে দ্রুত সরিয়ে লাইনে তোলার জন্য আনা হয়েছে ভারী যন্ত্রপাতি। ক্রেন এবং অন্যান্য উদ্ধার সরঞ্জামের সাহায্যে ইঞ্জিনটিকে পুনরায় লাইনে তোলার কাজ চলছে। রেল কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করে স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল শুরু করা। যদিও আপ লাইনে ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও, ডাউন লাইন দিয়ে সীমিত সংখ্যক ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে সম্পূর্ণভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে না গেলেও, স্বাভাবিক সময়সূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একাধিক ট্রেনকে ধীরগতিতে চালানো হচ্ছে এবং অনেক ট্রেনের রুট ও সময়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই ঘটনার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে অফিস টাইমের যাত্রীদের ওপর। সকালবেলায় হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও, ভদ্রেশ্বরের ঘটনার জেরে বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ আটকে পড়ে বহু ট্রেন।
ভদ্রেশ্বরে রেলের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত !
লাইনচ্যুত মালগাড়ির ইঞ্জিন, অফিস টাইমে চরম ভোগান্তিতে নিত্যযাত্রীরা

হাওড়া, ব্যান্ডেল, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, উত্তরপাড়া-সহ বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ট্রেনের সঠিক সময় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং ক্ষোভও দেখা দেয়। অনেক যাত্রী বিকল্প পরিবহনের খোঁজ করতে বাধ্য হন। কেউ বাস ধরেছেন, কেউ ট্যাক্সি বা অ্যাপ ক্যাবের সাহায্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু অফিস টাইম হওয়ায় সড়কপথেও ছিল ব্যাপক যানজট। ফলে বহু মানুষ নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছতে পারেননি। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আপ লাইনে ট্রেন চালানো হবে না। ইঞ্জিন সরিয়ে ট্র্যাকের অবস্থা পরীক্ষা করার পরই পরিষেবা পুনরায় চালু করা হবে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হওয়ার ফলে রেললাইনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। তাই শুধু ইঞ্জিন সরালেই হবে না, ট্র্যাক, স্লিপার, পয়েন্ট ও সিগন্যালিং ব্যবস্থারও বিস্তারিত পরীক্ষা করা হবে। এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। যান্ত্রিক ত্রুটি, ট্র্যাকের সমস্যা, নাকি অন্য কোনও প্রযুক্তিগত কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের নিয়েও তদন্ত করা হবে বলে সূত্রের খবর। রেল আধিকারিকদের দাবি, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য একাধিক টিম একযোগে কাজ করছে। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হবে এবং নিরাপত্তা পরীক্ষার পর ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল শুরু করা হবে। নিত্যযাত্রীদের উদ্দেশে রেলের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে, যাত্রার আগে ট্রেনের আপডেট জেনে নেওয়ার জন্য। কারণ উদ্ধারকাজ চলাকালীন কিছু ট্রেন বাতিল, কিছু ট্রেনের সময় পরিবর্তন এবং কিছু ট্রেনকে অন্য লাইন দিয়ে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এই ঘটনায় ফের সামনে এল দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলপথে অবকাঠামোগত নিরাপত্তার প্রশ্নও। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ হাওড়া-বর্ধমান মেন শাখার ওপর নির্ভর করেন। ফলে এই ধরনের দুর্ঘটনা শুধু ট্রেন পরিষেবাই নয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকেও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। তবে রেল কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে, নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এখন সকলের নজর রেলের পরবর্তী আপডেটের দিকে। কবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে আপ লাইনের ট্রেন চলাচল, সেটাই জানতে অপেক্ষা করছেন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram