'টাকার উৎস জানি না'— মিনার মণ্ডলের স্ত্রী-ছেলের দাবিতে বাড়ল রহস্য

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
বীরভূম : বুধবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে তুমুল চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল বীরভূমের দেউচার সেই চাঞ্চল্যকর অভিযান। গোয়েন্দা সংস্থার দীর্ঘ তল্লাশির পর একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং সোনা। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ প্রায় ৫২ কোটি টাকা এবং সোনার পরিমাণ প্রায় ১৫ কেজি। এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যজুড়ে। ঘটনাস্থলে দীর্ঘ সময় ধরে চলে গণনার কাজ। বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে নগদ টাকা গণনা করা হয় এবং সোনার ওজনও নির্ধারণ করা হয় তদন্তকারী সংস্থার উপস্থিতিতে। এই ঘটনার পরই বাড়ির মালিক মিনার মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ এবং সোনার উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই বিপুল সম্পদের সঙ্গে আর কারা যুক্ত থাকতে পারেন, সেই দিকেও নজর দিচ্ছেন তদন্তকারীরা। তবে তদন্তের মধ্যেই সামনে এসেছে নতুন মোড়। বৃহস্পতিবার মিনার মণ্ডলের স্ত্রী এবং ছেলে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁদের বক্তব্য, বাড়ি থেকে এত টাকা ও সোনা উদ্ধার হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই টাকার উৎস সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা নেই। মিনার মণ্ডলের স্ত্রীর দাবি, সংসারের সাধারণ খরচ ছাড়া স্বামীর আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। বাড়িতে এত বিপুল পরিমাণ টাকা ও সোনা ছিল—এমন তথ্য তাঁর কাছে সম্পূর্ণ অজানা ছিল বলে দাবি করেন তিনি। একই দাবি করেছেন মিনার মণ্ডলের ছেলেও। তাঁর কথায়, এত টাকা কোথা থেকে এল, কার টাকা, কেন বাড়িতে রাখা ছিল—এই বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা নেই। এমনকি তাঁর বাবাও নাকি এই সম্পদের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে কিছু জানতেন না বলেই পরিবারের দাবি। আর এখানেই তৈরি হয়েছে একের পর এক প্রশ্ন।
'টাকার উৎস জানি না'— মিনার মণ্ডলের স্ত্রী-ছেলের দাবিতে বাড়ল রহস্য
কার টাকা ৫২ কোটি ? দেউচা কাণ্ডে নতুন মোড়, মুখ খুললেন মিনার মণ্ডলের পরিবার
যদি পরিবারের দাবি সত্যি হয়, তাহলে এত বিপুল নগদ অর্থ ও সোনা কার ? কেনই বা একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে এত মূল্যবান সম্পদ রাখা হয়েছিল ? এটি কি কোনও বড় আর্থিক চক্রের অংশ ? নাকি এই বাড়ি শুধুমাত্র টাকা রাখার নিরাপদ জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল ? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত আরও জোরদার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থের বান্ডিল, সোনার বিস্কুট ও গয়না, বিভিন্ন নথিপত্র, ডিজিটাল ডিভাইস এবং আর্থিক লেনদেনের সম্ভাব্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টাকা কোথা থেকে এসেছে, কোথায় যাওয়ার কথা ছিল এবং এই অর্থের প্রকৃত মালিক কে—সেই উত্তর খুঁজতেই চলছে একাধিক স্তরের তদন্ত। তদন্তকারীরা মিনার মণ্ডলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তির নথি, মোবাইল ফোন, কল রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্যও খতিয়ে দেখছেন বলে সূত্রের খবর। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি, ব্যবসায়ী বা সংগঠিত আর্থিক চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও বাড়ি থেকে বিপুল নগদ অর্থ উদ্ধার হওয়া মাত্রই সেই বাড়ির মালিককে দোষী বলা যায় না। তদন্তে প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনি দায় নির্ধারণ করা হবে। উদ্ধার হওয়া অর্থের বৈধ উৎস দেখাতে পারলে তদন্তের গতিপ্রকৃতি একরকম হতে পারে, আর যদি সেই উৎসের কোনও বৈধ ব্যাখ্যা না মেলে, তাহলে আইনের বিভিন্ন ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধী দলগুলি এই ঘটনায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে শাসকপক্ষের বক্তব্য, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫২ কোটি টাকার মতো বিপুল নগদ অর্থ বাড়িতে মজুত রাখা সাধারণ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে এই ঘটনার আর্থিক দিকটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল—উদ্ধার হওয়া অর্থ এবং সোনার প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করা, টাকার উৎস খুঁজে বের করা এবং এই ঘটনার সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা সামনে আনা। মিনার মণ্ডলের স্ত্রী ও ছেলের দাবি তদন্তে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাও এখন দেখার বিষয়। কারণ তাঁদের বক্তব্যে রহস্য আরও বেড়েছে বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram