This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
ইলামবাজার : বীরভূমের ইলামবাজারে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী হিংসার ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা রবি মূর্মুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর রবিবার বোলপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা। পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে তাঁর পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে সূত্রের খবর। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত রবি মূর্মু ইলামবাজার পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মাধ্যক্ষ। পাশাপাশি তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের ইলামবাজার এলাকার কোর কমিটিরও সদস্য। দীর্ঘদিন ধরেই ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল। তদন্তের ভিত্তিতেই শনিবার বিকেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইলামবাজার থানার পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আইন অনুযায়ী প্রথমে তাঁকে ইলামবাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা বা মেডিক্যাল চেক-আপ সম্পন্ন করা হয়। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর রবিবার সকালে তাঁকে বোলপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশের দাবি, মামলার তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই রবি মূর্মুকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তদন্তকারী অফিসাররা মনে করছেন, পুলিশি হেফাজতে জেরা করলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। সেই কারণেই আদালতের কাছে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অন্যদিকে আদালতে তোলার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রবি মূর্মু দাবি করেন, তাঁকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা নেই। তিনি বলেন, পুলিশ তাঁকে আটক করেছে ঠিকই, কিন্তু গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, তিনি কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। রবি মূর্মুর গ্রেপ্তারকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে শুধু ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগই নয়, আরও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, রবি মূর্মুর নামে এবং বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে, যার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে আদালতে কোনও রায় হয়নি এবং তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকেও এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
২০২১-এর হিংসা মামলায় তৃণমূল নেতাকে আদালতে পেশ, চাইল পুলিশি হেফাজত
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও হিংসার একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। সেই সময় বীরভূম জেলার বিভিন্ন এলাকাতেও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সেইসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং এখনও বিভিন্ন মামলার তদন্ত চলছে। ইলামবাজারের এই মামলাটিও সেই সময়কার একটি অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন আগের কোনও মামলায় যদি তদন্ত চলমান থাকে এবং তদন্তকারী সংস্থা নতুন তথ্য বা প্রমাণ পায়, তাহলে সেই মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা আইনসিদ্ধ। তবে শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত দোষী কি না, তা আদালতেই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। রবিবার বোলপুর মহকুমা আদালত চত্বরে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়। পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই রবি মূর্মুকে আদালতে আনা হয়। আদালতে শুনানির সময় তদন্তকারী আধিকারিকরা মামলার অগ্রগতি, সংগৃহীত তথ্য এবং পুলিশ হেফাজতের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন বলে জানা যায়। ঘটনাকে ঘিরে ইলামবাজার এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। শাসকদল ও বিরোধী শিবির একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপের অভিযোগ তুলছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ আইন মেনেই এগোচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একজন পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ এবং শাসকদলের কোর কমিটির সদস্যের গ্রেপ্তার স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর প্রভাব স্থানীয় রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে তাঁদের ধারণা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের একাংশের বক্তব্য, যে কোনও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলা উচিত। বর্তমানে এই মামলার তদন্ত চলছে। আদালত পুলিশ হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করে কি না এবং তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের। সব মিলিয়ে, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় তৃণমূল নেতা রবি মূর্মুর গ্রেপ্তার নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশ কী হয়, তার উপরই এই মামলার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে।