This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
লাভপুর : বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরদিন থেকেই প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়লেন লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ সিনহা। শুক্রবার সকাল থেকেই তাকে দেখা গেল ইন্দাস অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে প্রচার চালাতে। নির্বাচনী প্রচারের শুরুতেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি— এমনটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তার প্রচারের ধরন থেকে। শুক্রবার সকাল। ইন্দাস অঞ্চলের গ্রামগুলিতে তখনও দিনের ব্যস্ততা পুরোপুরি শুরু হয়নি। ঠিক সেই সময়েই হুড খোলা গাড়িতে চড়ে প্রচারে বেরিয়ে পড়েন অভিজিৎ সিনহা। তার সঙ্গে ছিলেন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। রাস্তায় বেরোতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহ চোখে পড়ে। অনেকেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান, কেউ কেউ আবার হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রচারের মূল আকর্ষণ ছিল তার সরাসরি জনসংযোগ। শুধু রাস্তায় ঘোরা নয়, বরং একেবারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলতেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। গ্রামের অলিগলি ধরে হাঁটতে হাঁটতে প্রবীণ থেকে যুবক— সকলের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন। এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগ ভোটারদের কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অভিজিৎ সিনহার কথায়, “মানুষের কাছে পৌঁছনোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সরকার যে উন্নয়ন করেছে, তা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। সেই উন্নয়নকে সামনে রেখেই আমরা মানুষের সমর্থন চাইছি।” তার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কাজের প্রসঙ্গ। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক বছরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা, পানীয় জল— সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলিতে এই উন্নয়নের প্রভাব আরও বেশি দৃশ্যমান। তাই মানুষ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তৃণমূল কংগ্রেসকেই আবার সুযোগ দেবে বলে তিনি আশাবাদী। প্রচার চলাকালীন স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে কথোপকথনেও বিশেষ জোর দিতে দেখা যায় তাকে। মহিলাদের জন্য চালু হওয়া বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এই ধরনের উদ্যোগই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছে। অনেক মহিলা ভোটারও তার কথায় সম্মতি জানিয়ে বলেন, তারা সরকারের কাজের সুফল পেয়েছেন।
মনোনয়নের পরই ময়দানে ঝাঁপ, গ্রামে গ্রামে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ সিনহা
অন্যদিকে, যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথাবার্তায় কর্মসংস্থান, শিক্ষার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলিও উঠে আসে। অভিজিৎ সিনহা জানান, যুবকদের জন্য আরও নতুন সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করবে সরকার। প্রচারের সময় দলীয় কর্মীদের উৎসাহও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন জায়গায় স্লোগান, ব্যানার এবং পতাকা নিয়ে তারা প্রার্থীর সঙ্গে হাঁটতে দেখা যায়। এতে একদিকে যেমন প্রচারের গতি বাড়ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। এই প্রচারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তার সরলতা এবং মানুষের কাছে পৌঁছানোর আন্তরিকতা। কোনো বড় মঞ্চ বা জমকালো সভার পরিবর্তে সরাসরি মানুষের দরজায় গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে প্রচার চালানো— এই কৌশল যে বেশ কার্যকর, তা ইতিমধ্যেই বোঝা যাচ্ছে। অভিজিৎ সিনহা আরও জানান, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হোক। মানুষ যাতে নির্ভয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, লাভপুরে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হবে। এদিকে, স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের সরাসরি প্রচার প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করে। কারণ এতে ভোটাররা নিজেদের সমস্যার কথা সরাসরি জানানোর সুযোগ পান এবং প্রার্থীও তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত হতে পারেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচন যত এগোবে, প্রচারের তীব্রতা ততই বাড়বে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই নিজেদের মতো করে কৌশল ঠিক করছে। তবে তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ সিনহার এই শুরুটা যথেষ্ট ইতিবাচক বলেই মনে করছেন অনেকেই। এই প্রচারের মাধ্যমে তিনি যে বার্তা দিতে চাইছেন, তা খুবই স্পষ্ট— উন্নয়নই তার প্রধান হাতিয়ার এবং সেই উন্নয়নের ভিত্তিতেই তিনি মানুষের সমর্থন চাইছেন। এখন দেখার, এই কৌশল কতটা কার্যকর হয় এবং ভোটের ময়দানে তার প্রভাব কতটা পড়ে। সব মিলিয়ে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর থেকেই জোরকদমে শুরু হওয়া এই প্রচার লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে। সামনে আরও বড় বড় সভা, প্রচার এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। তবে শুরুটা যেভাবে হয়েছে, তাতে স্পষ্ট— এই লড়াই সহজ হবে না। এখন নজর থাকবে ভোটারদের উপর। তারা কাকে বেছে নেন, কার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে ভরসা রাখেন— সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে লাভপুরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। তবে আপাতত একটাই ছবি স্পষ্ট— মাঠে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা, আর প্রচারের উত্তাপে জমে উঠছে নির্বাচনের লড়াই।