ভাঙ্গা গোয়ালঘর দেখিয়ে বিড়ম্বনায় জিতেন : মিথ্যে প্রচারের অভিযোগ

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
পাণ্ডবেশ্বর : সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারির শেয়ার করা একটি ভিডিও ঘিরে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, এক মহিলার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে তা এখন চরম বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গেরুয়া শিবিরের জন্য। সম্প্রতি জিতেন্দ্র তিওয়ারি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন যেখানে এক মহিলার ভাঙাচোরা গোয়ালঘর দেখিয়ে দাবি করা হয়েছিল, এটিই তাঁর একমাত্র বাসস্থান। উদ্দেশ্য ছিল—রাজ্য সরকারের আবাসন প্রকল্পের ব্যর্থতা তুলে ধরা এবং সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায় করা। কিন্তু গল্পের মোড় ঘোরে যখন সংশ্লিষ্ট ওই মহিলাই ক্যামেরার সামনে এসে আসল সত্যটি প্রকাশ করেন। ভিডিওতে নেপথ্যে থাকা হলুদ রঙের সুদৃশ্য পাকা বাড়িটি আসলে ওই মহিলারই বসতবাড়ি। ভাঙা গোয়ালঘরটি তাঁর বাসস্থান নয়। ওই মহিলার দাবি, এক বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি তাঁকে ১,০০০ টাকার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন মিথ্যা বলতে। ওই মহিলা স্পষ্ট জানান যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের (লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী ও রূপশ্রী) নিয়মিত সুবিধাভোগী। অনুতপ্ত ওই মহিলার ঘোষণা—ভবিষ্যতে তিনি বর্তমান সরকারকেই সমর্থন করবেন। People gathered near house with green lights. এই ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ ভিডিও বিতর্ক নয়, এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ । বারবার এই ধরনের ‘ভুল তথ্য’ বা ফেক ভিডিওর অভিযোগ ওঠায় বিরোধী দল হিসেবে বিজেপির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মানুষের সমর্থন না পেয়ে কি তবে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হচ্ছে? ওই মহিলার স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পগুলো তৃণমূলের জন্য একটি দুর্ভেদ্য ‘ভোটব্যাঙ্ক’ তৈরি করেছে, যা ভাঙতে মরিয়া হয়ে উঠছে বিরোধীরা। জিতেন্দ্র তিওয়ারির মতো হেভিওয়েট নেতার নামে ওঠা এই অভিযোগ দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল কমিয়ে দিতে পারে। একে অনেকেই বিজেপির “রাজনৈতিক অবসাদ” বা “মরিয়া প্রচেষ্টা” হিসেবে দেখছেন। পাণ্ডবেশ্বরের এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে যে কোনও ‘তৈরি করা’ আখ্যান বেশিক্ষণ টেকে না। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে গিয়ে তৃণমূল স্তরের মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা যে হিতে বিপরীত হতে পারে, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট। এখন দেখার, জিতেন্দ্র তিওয়ারি বা বিজেপি শিবির এই ‘মিস-ফায়ার’ হওয়া প্রচারের পাল্টা কী ব্যাখ্যা দেয়।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram